হেবরনে ইসরাইলি অভিযানে বাস্তুচ্যুত শত শত ফিলিস্তিনি পরিবার

আলজাজিরা ও সিএনএন
ফিলিস্তিনের দখলকৃত পশ্চিমতীরে ইসরাইলি বাহিনীর সামরিক অভিযানে হেবরনের আল-জালদা এলাকা কয়েক শ’  পরিবারকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে। সিএনএনের প্রাপ্ত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ইসরাইলি সেনা একটি আবাসন কমপ্লেক্সের বাসিন্দাদের বলছেন, ‘আপনাদের সরিয়ে নেয়ার জন্য ৫ মিনিট সময় আছে।’ 
অভিযানের অংশ হিসেবে পশ্চিমতীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হেবরনের আল-হালদা  ও আইন দির বাহা এলাকায় তীব্র সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এই দফায় প্রায় ৩০০ ফিলিস্তিনি পরিবারকে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে প্রাপ্ত সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী আলজাজিরা জানায়, হেবরনের আল-হালদা এলাকায় ইসরাইলি সেনা ও সাঁজোয়া যানের উপস্থিতি ঘিরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। 
স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের টেলিগ্রামে পোস্ট করা বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, ইসরাইলি সেনারা রাস্তাঘাট বন্ধ করে পাহারা দিচ্ছে এবং সেখানে সামরিক বুলডোজারসহ বিভিন্ন ভারী যানবাহন মোতায়েন করা হয়েছে।  চলমান এই সামরিক অভিযানের ফলে ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ চরম মানবিক সঙ্কটের মুখে পড়েছেন। হঠাৎ করে বাড়িঘর খালি করার নির্দেশ দেয়ায় শত শত পরিবার চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ ছাড়াও শুক্রবার থেকে প্রায় ৭০ ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করেছে ইসরাইলি বাহিনী। হেবরনে শত শত বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বাসিন্দাদের উচ্ছেদ এবং কয়েকটি বাড়িকে জিজ্ঞাসাবাদকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। রামাল্লা, জেনিন, নাবলুস, বেথলেহেম ও জেরুসালেমসহ অন্তত ১৫ অঞ্চলে অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা। 
এ দিকে হেবরনে বুলডোজারের কার্যক্রমের খবর সংগ্রহের সময় আলজাজিরার সাংবাদিকদের কাছে স্টান গ্রেনেড ছুড়েছে ইসরাইলি বাহিনী। ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থা ‘বি’তসেলেম’ হেবরনের আবাসিক এলাকা থেকে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার এই অভিযান পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইউলি নোভাক বলেন, ‘ইসরাইল তাদের পরবর্তী অপরাধের কথা আগেভাগেই ঘোষণা করছে। নেতানিয়াহু এবং কাটজ হেবরনের একটি ফিলিস্তিনি আবাসিক এলাকা খালি করার এবং পশ্চিমতীরের উত্তরের শরণার্থী শিবিরগুলোতে যে গণ-বাস্তুচ্যুতি ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছিল, এখানেও তার পুনরাবৃত্তি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।’
ইসরাইলি এই অভিযানকে আসন্ন নির্বাচনের প্রচারণার অংশ বলে উল্লেখ করেন হেবরনের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইসা আমরো। তিনি আলজাজিরাকে জানান, শহরটিতে কোনো সামরিক অবকাঠামো নেই, অথচ প্রায় প্রতিদিনই গ্রেফতার চলছে। এতে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নীরব থাকলে গাজার মতো হেবরনের প্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোও বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি। ইসরাইলি বাহিনীর অবরোধে প্রায় আট লাখ ফিলিস্তিনি আটকা পড়েছেন বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, শহরের সব প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আলজাজিরাকে আমরো বলেন, গতকাল বিকেল থেকে বিভিন্ন পাড়ায় উচ্ছেদের সতর্কতা দিয়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের ঘর ছাড়তে বাধ্য করছে ইসরাইলি সেনারা। রাতের মধ্যে অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, পোশাক এমনকি শিশুদের স্কুলব্যাগও নিতে পারেনি।

Advertisement