
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
নাটোরের বড়াইগ্রামে একযুগ পর ফের বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে বাবা-মেয়েসহ অন্তত ১২ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ছাড়া কক্সবাজারের মহেশখালীতে অন্য এক সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশুপর্যটক নিহত ও তার ভাই গুরুতর আহত হয়েছে।
বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, ২০১৪ সালের ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার ঠিক একযুগ পর নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা-মেয়ে ও ট্রাকচালকসহ ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৩০ জন। গতকাল ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন- রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ারুল হক (৩০), পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব সুবিধখালী গ্রামের আজহার হাওলাদারের ছেলে শহীদুল ইসলাম (৪৫) ও শহীদুল ইসলামের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮), শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের জহরউদ্দিনের ছেলে জুয়েল (৪০), একই উপজেলার ডুবি সাহিবর গ্রামের ইউনুস আলী শিকদারের ছেলে সোহাগ শিকদার (৩০), জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে আব্দুস সালাম মোল্লা (৪৬), আরব আলী ফকিরের ছেলে আব্দুস সামাদ ফকির (৭০), পালের চর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ব্যাপারীর ছেলে শাহীন আহমেদ (৩২), ট্রাকচালক ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বড় মান্দারবাড়ীয়া গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে আবু কালাম (৫৫), নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার ঘোনটোলা গ্রামের সাজ্জাদ হোসেনের ছেলে রাসেল (৩৩) ও ফরিদপুর সদর উপজেলার বাখোন্দিয়া গ্রামের অমর কুমার জমাদারের ছেলে হিমেশ জমাদার (৩৫)। বাকি দুইজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
আহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন- শরীয়তপুরের আলমগীর মাতবর (৫৫), চাঁপাইনবাবগঞ্জের আব্দুস সালাম (৩৫), বগুড়ার শিবগঞ্জের ওয়াহিদ আলী (২২), মাদারীপুরের নাইম তালুকদার (২০), নার্গিস আক্তার (৩৫), বরগুনার জেসমিন আক্তার (৩৫), নওগাঁর নিয়ামতপুরের চিরঞ্জিত কুমার (২৫) ও মান্দার মানিক হোসেন (৩৭) এবং শাহাজুল ইসলাম (৩৬), লক্ষ্মীপুরের রাকিব হোসেন (২৫)। বাকিদের নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
এর একযুগ আগে ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবরে বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের রেজুর মোড়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ৩৮ জনের। তার ঠিক ১২ বছর পর আবারো সেই ২০ অক্টোবরেই বনপাড়ায় ১২ জনের মৃত্যুতে উপজেলা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আব্দুল আজিজ এমপি, জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক ও ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেন। একই সাথে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আবুল হায়াতকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটির গঠনের ঘোষণা দেন।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার এসআই আলমগীর হোসেন বলেন, ভোরে নাটোর থেকে বালুবোঝাই ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো ট ২২-৬২০৬) সাথে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনাবগঞ্জগামী আরপি স্পেশালের একটি বাসের (ঢাকা মেট্রো ব ১২-৪৪৪৫) মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জন নিহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালসহ স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে নেয়া হলে সেখানে আরো পাঁচজন মারা যান। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
মহেশখালীতে শিশু পর্যটকের মৃত্যু
মহেশখালী (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, কক্সবাজারের মহেশখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নরসিংদীর পলাশ উপজেলার আফরিন (৪) নামে এক শিশু পর্যটক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় তার ভাই আইয়ান গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের বাবার নাম আল-আমিন। গতকাল বেলা ১১টার দিকে উপজেলার আদিনাথ মন্দির সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। জানা যায়, নরসিংদী থেকে ১১ সদস্যের একটি পরিবার মহেশখালী ভ্রমণে আসে। মঙ্গলবার সকালে গোরকঘাটা জেটিঘাট হয়ে তারা আদিনাথ জেটিঘাট এলাকায় পৌঁছান। আদিনাথের দৃষ্টিনন্দন এলাকায় ছবি তোলার সময় পেছন থেকে একটি টমটম শিশুদের উপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশু আফরিন নিহত এবং তার ভাই আইয়ান গুরুতর আহত হয়। অভিযুক্ত টমটম চালকের নাম তাকিন। সে গোরকঘাটা জেটিঘাট সিরিয়ালের নিয়মিত চালক এবং মহেশখালী পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের সাতঘরিয়াপাড়া এলাকার আজমের ছেলে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে যুবক নিহত
ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে সড়কের পাশ থেকে আব্দুল আওয়াল (৩০) নামে এক মোটরসাইকেলচালকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি উপজেলার ঝাউবোনা গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে।
গতকাল ভোরে ভোলাহাট-রহনপুর সড়কের হলিদাগাছী স-মিল সংলগ্ন হলুদের জমিতে তার লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। তাদের ধারণা, আব্দুল আওয়াল ভোলাহাট উপজেলা পরিষদের দিক থেকে মেডিক্যাল মোড়ের দিকে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি মোটা মেহগনিগাছের সাথে ধাক্কা খান। এতে তার মাথা ফেটে যায় এবং মুখমণ্ডলে গুরুতর আঘাত লাগায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে। তবে কখন মৃত্যু হয়েছে কেউ তা বলতে পারেননি। ধরনা করা হচ্ছে রাতে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
তার স্ত্রী জানান, আব্দুল আওয়াল ১৯ অক্টোবর বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে সারারাত আর ফিরেনি। সকালে মৃত্যুর খবর শুনতে পান তিনি মারা গেছেন। খবর পেয়ে ভোলাহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ থানায় নিয়ে যায়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








