পরিস্থিতি বিবেচনায় ইউপি ভোটেও সেনা মোতায়েন

বিশেষ সংবাদদাতা

Advertisement

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনেও পরিস্থিতি বিচেনায় সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আইন পরিবর্তন না করেও এ ক্ষেত্রে কমিশনের ক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তবে প্রথম ধাপের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন থাকে, তা দেখে পরবর্তী ধাপে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের আওতাধীন সব নির্বাচন শেষ করা সম্ভব হবে না। 
রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে রোববার নিজের দফতরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান।  
আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, মনে হয় না জুনের মধ্যে সব স্থানীয় নির্বাচন করতে পারব। তবে এটা আমার ব্যক্তিগত মত। অর্থাৎ, স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন একই অর্থবছরের মধ্যে আয়োজনের বিষয়ে এখনই নিশ্চয়তা দিতে পারছে না কমিশন। 
আগে ইউপি ভোট, পরে অন্য নির্বাচন
স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজন নিয়ে কমিশনের পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হলে আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এখন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়েই ব্যস্ত রয়েছে কমিশন। এই নির্বাচন নিয়ে কাজ এগিয়ে নেয়ার পর অন্য নির্বাচনগুলির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। 
নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে আবহাওয়া ও সামগ্রিক পরিস্থিতিকেও গুরুত্ব দিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে প্রস্তুতি এবং নির্বাচনের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে হতে পারে। ফলে চলতি অর্থবছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন সম্পন্ন করার যে প্রত্যাশা রয়েছে, তা বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
তফসিলের আগে সংলাপের ভাবনা
ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন করা হলে জবাবে আবদুর রহমানেল মাছউদ জানান, তফসিল ঘোষণার আগে সংলাপের বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। 
তফসিল কবে ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট সময় জানাতে চাননি তিনি। কমিশনারের বক্তব্য, তফসিল ঘোষণার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও কাজ এগিয়ে নিতে হবে। 
আইন না বদলালেও সেনা মোতায়েনের সুযোগ
ইউপি নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের জন্য নির্বাচনী আইন পরিবর্তন করতে হবে কি না, সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আইন পরিবর্তন না করেও সেনা মোতায়েনের এখতিয়ার কমিশনের রয়েছে। তবে প্রথম ধাপের নির্বাচনেই সেনা মোতায়েন করা হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাননি তিনি। তার বক্তব্য, প্রথম ধাপে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন থাকে, তা বিবেচনা করে পরবর্তী ধাপে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি দেখা হতে পারে।
কমিশনের সামনে সময় ও প্রস্তুতির প্রশ্ন
ইউপি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এবং স্থানীয় সরকারের বাকি নির্বাচনগুলির সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে সাংবাদিকরা একাধিক প্রশ্ন করেন। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীও গণমাধ্যমের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের আওতাধীন সব নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। জবাবে রহমানেল মাছউদ বলেন, কমিশন এখন ইউপি নির্বাচন নিয়েই কাজ করছে। এই নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ততার কারণে অন্য নির্বাচনগুলো নিয়ে এখনই বিস্তারিত পরিকল্পনা করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।