বিরোধিতার নামে স্বৈরাচারের পথ তৈরি করা হবে জুলাই শহীদদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওসমানী উদ্যানে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করেন : পিআইডি।

ইউএনবি

Advertisement

সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচারের প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করা হলে তা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা পালন এবং সংঘাতের রাজনীতি পরিহার করতে বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। 
গতকাল সোমবার রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন এবং সংস্কার করা ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে যদি আপনারা স্বৈরাচারের পথ তৈরি করেন, তাহলে তা কোনোভাবেই দেশের জন্য ভালো হবে না। এটি হবে জুলাইয়ের শহীদ ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের দেয়া রায়ের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। অন্য দিকে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সংসদে সরকার ও বিরোধী দল থাকার মূল উদ্দেশ্য হলো জাতীয় ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করা, মতবিনিময়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো  এবং সেসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা। তিনি উল্লেখ করেন, অবশ্যই আপনারা সরকারের বিরোধিতা করবেন। তবে সে বিরোধিতা হতে হবে গঠনমূলক। শুধু বিরোধিতা করার জন্য বিরোধিতা করার পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আটকে থাকলে আমরা দেশকে কিভাবে এগিয়ে নেব?
দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান : সরকার ও বিরোধী দল-কোনো পক্ষই এককভাবে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করতে পারে না বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দল-উভয়েই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। তারেক রহমান বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবিধান সংশোধন ও সংস্কারের মতো বিষয়ে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। তবে জননিরাপত্তা, জাতীয় স্বাধীনতা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং দেশের শিশুদের ভবিষ্যতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলকে ঐকমত্যে পৌঁছানোর সক্ষমতা দেখাতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ স্থিতিশীলতা, শান্তি ও অগ্রগতির পাশাপাশি জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ভোগের সুযোগ চায়। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে সড়ক অবরোধসহ এমন কোনো কর্মকাণ্ড না করার আহ্বান জানান তিনি, যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হয়।
জুলাই স্মৃৃতিসৌধের অনুষ্ঠানে বিরোধী নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারীদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে সরকার ও বিরোধী-উভয় পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
তারেক রহমান বলেন, তাদের এ মঞ্চে বসতে হতো না। কিন্তু তারা যদি সত্যিই জুলাইয়ের চেতনায় বিশ্বাস করেন, তাহলে শহীদদের পরিবারের সদস্যদের পাশে এসে বসতে পারতেন। আজ আমরা তাদের এখানে দেখতে পাচ্ছি না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত, আহত ও দৃষ্টিশক্তি হারানো ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই বিরোধী দলের নেতা ও সংসদ সদস্যরাও স্বীকৃতি পেয়েছেন। শহীদ পরিবারের সদস্যদের পাশে বিরোধী নেতাদের উপস্থিতি জুলাইয়ের চেতনার প্রতি তাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটাতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বহুদলীয় ও সংসদীয় গণতন্ত্রে জিয়া ও খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ : বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অবদান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের ডেঙ্গুবিরোধী কার্যক্রমে সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এডিস মশা সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না। তাই ডেঙ্গু মোকাবেলায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকসহ অন্যরা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী রাশেদুজ্জামান মিল্লাত, রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য, সংসদ সদস্য এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান এবং শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি নির্দেশ : এ দিকে, গতকাল দিনের পরবর্তী সময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনের প্রধান কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য করে তুলতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলুর বরাতে জানা যায়, নগরীর প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অপরিচ্ছন্নতা অন্যতম বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অন্য সবার কথা বাদ দিন। আসুন, নিজেদের সন্তানদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলি। এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা সবাই একসাথে কাজ করি। নগরীর বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, যেখানেই যান, সেখানেই বিভিন্ন সমস্যা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করে সেসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেন।
রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তোলার প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উদাহরণ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে লন্ডনের অনেক এলাকাতেও আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকত। তবে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে। তিনি বলেন, বিদেশের পরিচ্ছন্ন ও সুপরিচালিত শহরগুলো দেখে অনেকেরই মনে হতে পারে, ঢাকা যদি এমন হতো! কিন্তু শুধু আক্ষেপ করে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
নগর ভবনের জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র পরিদর্শন : এর আগে নগর ভবনে অবস্থিত জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আবহাওয়ার তথ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য, বাতাসের গতিবেগ, বন্যার পূর্বাভাস এবং বায়ুমানের তথ্য প্রদর্শনকারী বিভিন্ন ওয়েবসাইট পর্যালোচনা করেন তিনি। এ সময় ফেসবুক লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে ঢাকা শহরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন তারেক রহমান। পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে নির্মিত একটি ভিডিওচিত্রও দেখেন তিনি।
পূজামণ্ডপ দেখতে আজ তিন জেলায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
এ দিকে ঢাকার বাইরের পূজামণ্ডপ দেখতে আজ মঙ্গলবার রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সকালে প্রথমে যাবেন রংপুর। এরপর রাজশাহী ও চট্টগ্রামে।
এই প্রথম বাংলাদেশের কোনো সরকারপ্রধান ঢাকার বাইরে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব দূর্গাপূজার পূজামণ্ডপ দেখতে যাচ্ছেন। তিনি পূজামণ্ডপগুলোতে পূজারি ও সনাতন ধর্মের মানুষকে শুভেচ্ছা জানাবেন, কুশলবিনিময় করবেন।
চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষ করে রাতেই প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় ফিরবেন বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব। সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে এই তিন জেলায় যাবেন তিনি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী রোববার রাতে ঢাকার মহাখালী ও বনানী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। 
পদ্মা ব্যারাজ ও উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রত্যাশা রাজশাহীবাসীর
রাজশাহী  থেকে মুহা: আব্দুল আউয়াল জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে উৎসবমুখর রাজশাহী। ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে জনসভার প্রস্তুতিও সম্পন্ন। তবে এই সফরকে কেন্দ্র করে নগরবাসীর প্রত্যাশা শুধু জনসভা কিংবা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ, কৃষি ও শিল্পের বিকাশ, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার উন্নয়নসহ রাজশাহীর দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধানেও কার্যকর উদ্যোগ চান তারা।
আজ বেলা ১টা ৩০ মিনিটে রাজশাহী ধর্মসভা মন্দিরের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বেলা ৩টায় ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেয়ার কথা রয়েছে তার। 
ভূমিমন্ত্রী মো: মিজানুর রহমান মিনু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর রাজশাহীর মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জনসভাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। রাজশাহীর উন্নয়ন ও মানুষের প্রত্যাশার বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা করেন।
রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রাজশাহীর উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্থানীয় সমস্যাগুলো সমাধানে এ সফর ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করেন।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: মাহফুজুর রহমান রিটন জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে সংশ্লিষ্ট দফতর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। 
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান মো: আবুল কালাম আজাদ সুইট বলেন, রাজশাহীর উন্নয়ন সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে সফরটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাজশাহীর উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনায় রয়েছে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ, বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচসুবিধা সম্প্রসারণ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণে হিমাগার স্থাপন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়গুলো। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগের প্রত্যাশা করছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। তাদের মতে, রাজশাহীর সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে শুধু পরিকল্পনা ঘোষণা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা।
কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে উৎপাদিত আমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি করা গেলে কৃষক ও উদ্যোক্তা- উভয়েই উপকৃত হতে পারেন। মৌসুমি পণ্যের বাজারজাতকরণে চাপ কমাতে আধুনিক হিমাগার, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং কৃষিভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। একই সাথে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো, সেচসুবিধা নিশ্চিত করা এবং পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার পরিবেশ তৈরিও জরুরি।
উন্নয়নবৈষম্য দূর করার ঘোষণা চান রংপুরবাসী 
রংপুর থেকে সরকার মাজহারুল মান্নান জানান, আজ রংপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার আগমনকে ঘিরে এবার রংপুরের পূজা অর্চনায় বইছে বাড়তি উচ্ছ্বাস। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের আশা, প্রধানমন্ত্রীর সফরে উন্নয়নের মূল সড়কে কাক্সিক্ষত যাত্রা শুরু হবে রংপুর বিভাগের। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ এই অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের ব্লুপ্রিন্ট ঘোষণার আশাও করছেন বিভাগবাসী।   
রংপুরের ডিসি ইসরাত জাহান জানান, প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সেখান থেকে সকাল ১০টায় রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। ১১টায় ধর্মসভা-রাধাগোবিন্দ মন্দিরে পৌঁছাবেন। সেখানে মণ্ডপ পরিদর্শন ছাড়াও মতবিনিময় করবেন। 
এ দিকে প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনস্থল দফায় দফায় পরিদর্শন করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা। এ ছাড়াও সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি রেজেকা সুলতানা ফেন্সী, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-আরপিডিএ চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলামও প্রস্তুতির কার্যক্রম দেখভাল করছেন। 
রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও আরপিডিএ চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু জানান, প্রধানমন্ত্রী কয়েকদিন আগে উন্নয়নের জন্য রংপুর সিটি করপোরেশনকে এক হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। এ ছাড়াও তিনি রংপুরের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করার বার্তা দিতেই পূজায় রংপুরকে বেছে নিয়েছেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের রংপুর জেলা সভাপতি ডা. নির্মলেন্দু গুহ জানান, প্রধানমন্ত্রী আসছেন- এই আনন্দে আমরা আত্মহারা। কারণ একজন প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমরা শারদীয় উৎসব ভাগ করে নেব। এটা আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেই সম্ভব। অতীতে এরকম কোনো নজির আছে বলে আমার মনে হয় না।