
আবুল কালাম আজাদ বগুড়া অফিস
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রার্থী বাছাই শুরু করেছে। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো ফলাফল ধরে রাখতে একক প্রার্থী বাছাই করছে। অপর দিকে বিএনপির চেয়ে অনেক আগেই প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী চূড়ান্ত করে ঘোষণা শুরু করেছে। ফলে স্থানীয় সরকারের প্রথম স্তরের এই নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেখা যাবে। যদিও বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশনে ইউনিয়ন পরিষদ আইন সংশোধনের ফলে দলের মনোনয়ন প্রথা থাকছে না। সেই সাথে দলীয় প্রতীকও ব্যবহার হবে না। নির্বাচন হবে মূলত নির্দলীয় নিরপেক্ষ। তবে রাজনৈতিক দলের সমর্থন থাকবে।
বগুড়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ জানায়, বগুড়া জেলায় বর্তমানে ১৩টি উপজেলায় ১১৩টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। সর্বশেষ ২০২১ সালে ১০৯টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান সরকারের আমলে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা বিভক্ত করে নতুন মোকামতলা উপজেলা গঠন করার ফলে সেখানে পাঁচটি ইউনিয়ন নতুন গঠন করা হয়।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। এক দিকে বিএনপি বিগত সংসদ নির্বাচনের বিজয় (সব ক’টি আসনে বিজয়) ধরে রাখতে চায়। অন্য দিকে জেলার সাতটি আসনের একটি আসনেও জিততে না পারার গ্লানি মুছে ফেলতে চায় প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। তাই নির্বাচনের অনেক আগেই মাঠ দখলে নিতে প্রার্থী বাছাই ও স্থানীয়ভাবে প্রার্থী ঘোষণা শুরু করেছে।
বিএনপি : হাইকমান্ডের নির্দেশের পর গত সপ্তাহে জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির জরুরি সভায় একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে উপজেলা কমিটি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নির্দেশ দেয়া হয়। সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি ও সদর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা একথাও বলেন যে, দলের বাইরের কেউ যদি বেশি জনপ্রিয় হয় তাকে দলের সমর্থন দেয়া হবে। সভায় বলা হয়, ইউনিয়ন কমিটির ৫১ সদস্য যদি একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে ব্যর্থ হয় তাহলে ৯টি ওয়ার্ডের কমিটির সদস্যদের মতামত নিতে হবে। যেকোনো মূল্যে উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই করে নির্বাচনে যেতে হবে।
জামায়াতে ইসলামী : সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী আসন্ন নির্বাচনে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে। ইতোমধ্যে জেলার বেশির ভাগ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাই শেষে চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন শাখার মতামতের ভিত্তিতে জনপ্রিয় বেশি এমন নেতাকে বাছাই শেষে ঘোষণা দিচ্ছে। বিগত সংসদ নির্বাচনে জেলার সাতটি আসনের একটিতেও জয়লাভ না করায় তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কাক্সিক্ষত জয় লাভের জন্য আগে ভাগেই মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা কমিটির সহসভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল বলেন, হাইকমান্ডের নির্দেশে জেলা বিএনপির সভায় এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে ইউনিয়ন কমিটি ব্যর্থ হলে ওয়ার্ড কমিটির মতামত বা ভোট নেয়া হতে পারে। তবুও যোগ্য প্রার্থী দিতে হবে।
বগুড়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর প্রচার সেক্রেটারি নূর মোহাম্মাদ আবু তাহের বলেন, জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে ৭০ ভাগ প্রার্থী চূড়ান্ত করে তা স্থানীয়ভাবে ঘোষণা দিয়েছে। বাকি ৩০ ভাগ ইউনিয়নে চূড়ান্তকরণ কাজ চলছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








