
নাসিম সিকদার
আজ শুক্রবার বিশ্ব খাদ্য দিবস। জাতিসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে ক্ষুধা, অপুষ্টি ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে আরো জোরদার করা এবং খাদ্য সমস্যা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক জনসচেতনতা বৃদ্ধির ল্েয ১৬ অক্টোবরকে বিশ্ব খাদ্য দিবস পালনের ঘোষণা দেয়। মূলত ১৬ অক্টোবর হলো খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিষ্ঠা দিবস। বিশ্বের বিশাল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টিমানের উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদন, বিতরণ ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নতি সাধন এবং বিশ্ব অর্থনীতির বিকাশের দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে ১৯৪৫ সালের ১৬ অক্টোবর জাতিসঙ্ঘের প্রথম ও সর্ববৃহৎ স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হিসেবে এটি আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দের ৫ ডিসেম্বর জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে মানুষের বেঁচে থাকা ও কল্যাণের মৌলিক উপায় হিসেবে খাদ্যকে বিবেচনা করে ফাও কর্তৃক গৃহীত এই দিবস পালনের সিদ্ধান্তটি অনুমোদিত হয়।
খাদ্য মানুষের প্রথম ও প্রধান মৌলিক অধিকার, যা মূলত বেঁচে থাকার অধিকারের সাথে সরাসরি জড়িত। খাদ্যের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজ বিশ্বজুড়ে পূর্ণ সচেতনতা তৈরি হয়েছে। সবার জন্য খাদ্যের নিশ্চয়তা দিতে সর্বাগ্রে প্রয়োজন খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন করা। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপরে প্রধান দায়িত্ব। এ জন্য যেমন খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থাকে টেকসই রাখা প্রয়োজন, তেমনি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও কার্যকর ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসতে হবে।
বর্তমানে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে কৃষিজমি দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে, অন্য দিকে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি খাদ্য উৎপাদনের স্বাভাবিক মাত্রাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে সীমিত জমিতে ফলন বাড়ানো এবং সেই ধারা বজায় রাখা যেমন জরুরি, তেমনি ফসল উৎপাদন কার্যক্রমে পরিবেশ সংরণ নিশ্চিত করাও সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করা; আর এ শর্ত পূরণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের প্রতি বিশেষ যতœবান হওয়া আবশ্যক। এসব বিষয়ে মানুষের আন্তরিক সচেতনতা সৃষ্টি করাই বিশ্ব খাদ্য দিবস পালনের মূল ল্য।
জাতিসঙ্ঘের সাথে মিলে ফাও পরিচালনা করছে এক বিশাল বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডঋচ)। বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ১৭৪টি সদস্য দেশের মধ্যে ১০০টিরও বেশি দেশে ফাও-এর প্রতিনিধি অফিস রয়েছে। পাশাপাশি এর রয়েছে পাঁচটি আঞ্চলিক ও পাঁচটি আধা-আঞ্চলিক কার্যালয়।
ফাওয়ের সহায়তায় বাংলাদেশ বর্তমানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন প্রকল্পে অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : ডাল ও মোটা দানাদার জাতীয় খাদ্যশস্য উৎপাদন, পাট ও কেনাফ বীজের মানোন্নয়ন এবং উন্নত উপায়ে পাট পচানোর প্রযুক্তি, জিন ব্যাংক স্থাপন, মৎস্য উন্নয়ন ও সংরণ সম্পর্কিত আধুনিক প্রযুক্তি এবং বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের আর্থসামাজিক উন্নয়ন।
ফাওয়ের মূল নীতিগুলোই প্রতি বছর বিশ্ব খাদ্য দিবসে নতুন প্রেরণা হিসেবে কাজ করে, যার মূল আদর্শই হলোÑ সবার জন্য টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








