
গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
গাজীপুরের টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেডের ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটেছে। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিটসহ সেনাবাহিনী, বিজিবি, এসআরবি, পুলিশ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সদস্যদের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডে কারখানার দু’টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুন নেভানোর সময় ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মী শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। তবে অন্য কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুন আশপাশের শিল্পকারখানায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করীম রনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরাও অগ্নিনির্বাপণে সহযোগিতা করেন।
গতকাল বুধবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন আউচপাড়ার স্কুইব রোড (বেক্সিমকো রোড) এলাকায় অবস্থিত কারখানাটির চারতলা ভবনের চতুর্থ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে কারখানার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়। পরে টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও ঢাকার বিভিন্ন ফায়ার স্টেশন থেকে ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বেলা সোয়া ২টার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আরো সময় লাগবে। কারখানার বিভিন্ন অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। সেখানে ইনজেকশনসহ জরুরি ওষুধ উৎপাদনের সামগ্রী থাকায় সতর্কতার সাথে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে।
মহাপরিচালক জানান, কারখানার ভেতরে থাকা রাবার ও অ্যালুমিনিয়ামজাত পদার্থের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে। আগুন যাতে আশপাশের ভবনে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টের সমস্যা তৈরি হয়। আগুন নেভানোর সময় ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মী শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত একটানা কাজ করলে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পুকুরের পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ
অগ্নিনির্বাপণে পানির চাহিদা মেটাতে কারখানার কাছেই বিটিএমসির বিলুপ্ত কাদেরিয়া টেক্সটাইল মিলের পুকুর ব্যবহার করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। কারখানাটির পশ্চিম পাশে দেশের বৃহৎ ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ও এসকেএফসহ কয়েকটি ভারী শিল্পকারখানা রয়েছে। পূর্ব পাশে পার্ল প্রিন্স গার্মেন্টস এবং পশ্চিম পাশে হারনেস্ট কারখানা থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পেছনের বস্তির বাসিন্দারাও তাদের মালামাল সরিয়ে নেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্কুইব রোডে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
স্থানীয় সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করীম রনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু এবং টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির আহ্বায়ক প্রভাষক বসির উদ্দিনের নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করেন।
অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








