
- নথি সরবরাহে প্রসিকিউশনকে এক কার্যদিবস সময় দিলেন ট্রাইব্যুনাল
- ‘ভয় পাইছে’ বলায় পলককে থামালেন বিচারক
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জুলাই-আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিপক্ষের জেরা করার অধিকার ও পর্যাপ্ত সময় দেয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আদালত। ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, যে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটির বিচার চলছে, তা প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে মৃত্যুদণ্ড। তাই আসামিকে অবশ্যই জেরা করার জন্য সময় দিতে হবে। একই সাথে আসামিপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী অস্পষ্ট নথিপত্র এক কার্যদিবসের মধ্যে সরবরাহ করতে প্রসিকিউশনকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গতকাল রোববার ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের সময় এসব ঘটনা ঘটে। শুনানিতে একদিকে সাক্ষীর জবানবন্দীর বক্তব্যের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের মধ্যে বিতর্ক হয়, অন্য দিকে নথির অস্পষ্টতা নিয়ে আপত্তি তুলে জেরার আগে তা সরবরাহের দাবি জানান আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
শুনানির বিভিন্ন পর্যায়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে একাধিকবার কথা বলেন পলক। প্রসিকিউটরের সাথে তার বাগি¦তণ্ডা হয়। সাক্ষীর একটি বক্তব্য বাদ দেয়ার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পলকও আপত্তি জানান। তবে আদালতের অনুমতি ছাড়া কথা বলায় তাকে কয়েকবার থামিয়ে দেন বিচারক। একপর্যায়ে বিচারক পলককে বলেন, ‘রেগে গেলেন তো, হেরে গেলেন। তাই কথা বলতে চাইলে অনুমতি নিয়ে বলতে হবে।’
নথিপত্র নিয়ে আপত্তি শুনে আদালত আসামিপক্ষকে জেরা করার সুযোগ দেয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। বিচারক বলেন, ‘যে চার্জের ওপর ভিত্তি করে এই মামলার বিচার হচ্ছে, তা যদি প্রমাণিত হয় তাহলে সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। সেই মামলার আসামিকে অবশ্যই জেরা করার জন্য সময় দিতে হবে।’ এরপর আসামিপক্ষের চাওয়া নথিগুলো এক কার্যদিবসের মধ্যে সরবরাহের নির্দেশ দেয়া হয়।
ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো: মহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে জানান, তাদের সরবরাহ করা কিছু নথি অস্পষ্ট। বিশেষ করে ১৭৯ থেকে ২০৫ নম্বর পৃষ্ঠার দলিলগুলো পড়তে সমস্যা হচ্ছে। সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদের করা আবেদনে রবি অ্যাক্সিয়াটা-সংক্রান্ত একটি নথি, প্রসিকিউশনের নথির ভলিউম, জব্দতালিকা এবং ১৭৯ থেকে ২০৫ নম্বর পৃষ্ঠা পর্যন্ত ২৬ পৃষ্ঠার দলিলের অস্পষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়।
আসামিপক্ষের বক্তব্য ছিল, নথির বক্তব্য স্পষ্টভাবে বুঝতে না পারলে সাক্ষীকে যথাযথভাবে জেরা করা সম্ভব নয়। তাই জেরার আগে সংশ্লিষ্ট দলিলগুলো পাঠযোগ্য অবস্থায় সরবরাহ করা প্রয়োজন। মামলার অভিযোগের সাথে সংশ্লিষ্ট নথি নিয়ে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে এই অস্পষ্টতা তাদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করছে বলে তাদের আবেদনের বক্তব্যে উঠে আসে।
এ সময় প্রসিকিউশন আপত্তি জানায়। তাদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট সাক্ষী একজন আনুষ্ঠানিক সাক্ষী; তিনি পাঁচ পৃষ্ঠার নথি জমা দিয়েছেন এবং ওই নথির বাইরে বেশি কিছু জানেন না। প্রসিকিউশনের দাবি, নথির অস্পষ্টতার বিষয়টি সামনে এনে আসামিপক্ষ জেরা বিলম্বিত করছে।
বিষয়টি নিয়ে আদালত প্রসিকিউশনের কাছে জানতে চান, তাদের কি মনে হচ্ছে আসামিপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপণ করছে? জবাবে প্রসিকিউশন জানায়, তাদের তা-ই মনে হচ্ছে। একটি বিষয় নিয়ে তাদের যুদ্ধ করতে হচ্ছে। এ পর্যায়ে কাঠগড়া থেকে পলক বলেন, ‘এটা তো যুদ্ধই।’ আদালত তাকে থামিয়ে বলেন, ‘আপনি বসেন। অনুমতি না নিয়ে কথা বলছেন।’
এরপর নথির অস্পষ্টতা ও জেরা করার সুযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত আসামিপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করেন। প্রসিকিউশনকে এক কার্যদিবসের মধ্যে চাওয়া নথিগুলো সরবরাহ করতে নির্দেশ দেয়া হয়।
পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ পরে নয়া দিগন্তকে জানান, তাদের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। নথি সরবরাহের নির্দেশের পর আসামিপক্ষ জানায়, হাতে সময় থাকায় ওই দিনই সাক্ষীকে জেরা করা যেতে পারে। তবে সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মঞ্জুর আলম বলেন, তিনি পলকের জেরা শেষ হওয়ার পর তার মক্কেলের পক্ষে জেরা করতে চান। আদালত তার এ আবেদন গ্রহণ করেন। সজীব ওয়াজেদ জয় মামলায় অনুপস্থিত থাকায় তার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে মঞ্জুর আলম দায়িত্ব পালন করছেন।
এর আগে সাক্ষীর জবানবন্দী নেয়ার সময় প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীমের সাথে পলকের বাগি¦তণ্ডা হয়। সাক্ষীর বক্তব্যের একটি অংশ অতীতের ঘটনা নিয়ে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্নোত্তরের সময় পলক কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে প্রসিকিউটরকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন। এখানে আমার বিচার হচ্ছে। ধৈর্য নিয়ে কথা বলবেন। এখানে সবাই বিচারপ্রার্থী। আপনার আদেশ পালন করতে আমরা এখানে কেউ আসিনি।’
পলকের এ বক্তব্যের পর প্রসিকিউশন বলে, আসামিরা আদালতে কথা বলতে চাইলে তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে অথবা আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলা উচিত। এ সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ১৭ ধারার প্রসঙ্গ তোলেন প্রসিকিউটর।
শুনানিতে এ পর্যায়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের কেউ ‘কথায় কথায় আইন দেখাচ্ছেন কেন’ বলে মন্তব্য করেন বলে জানা যায়। বিচারক জানতে চান, আসামিপক্ষের কেউ এমন কথা বলেছেন কি না। এরপর মন্তব্যটিকে অত্যন্ত আপত্তিকর বলে উল্লেখ করেন তিনি। পলককে উদ্দেশ করে বিচারক বলেন, ‘রেগে গেলেন তো, হেরে গেলেন। তাই কথা বলতে চাইলে অনুমতি নিয়ে বলতে হবে।’ জবাবে পলক বলেন, ‘অযৌক্তিক তো কিছু বলিনি।’ তখন আদালত বলেন, ‘এখানে ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। কেউ কোনো কিছু ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না।’
শুনানিতে বিচারকের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আদালতের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আসামিপক্ষের বক্তব্য দেয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণের বিষয়টি সামনে আসে। একই সাথে নথি সরবরাহ ও জেরা করার সময় নিয়ে আদালতের নির্দেশে স্পষ্ট হয়, বিচারাধীন মামলায় সাক্ষীকে জেরা করার সুযোগ দেয়ার বিষয়টিও আদালত বিবেচনায় নিয়েছেন।
সাক্ষীর জবানবন্দীর আরেক পর্যায়ে ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ আসে। সাক্ষীর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই বৈঠকে পলকের সভাপতিত্বে থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালু করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। বৈঠকে তৎকালীন ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব:) জিয়াউল আহসানও উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠকটির প্রসঙ্গ সাক্ষীর জবানবন্দীতে আসার পরই আপত্তি জানায় প্রসিকিউশন। তাদের বক্তব্য ছিল, সাক্ষী যে বিষয়টি বলছেন, তা মামলার অভিযোগের সাথে সরাসরি প্রাসঙ্গিক নয়। এ কারণে ওই অংশের বক্তব্য বাদ দেয়ার আবেদন জানায় প্রসিকিউশন। সাক্ষীও প্রসিকিউশনের বক্তব্যের সাথে একমত হন।
এ সময় কাঠগড়া থেকে পলক সাক্ষীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে।’ আদালত তাকে বলেন, ‘একটু বসতে পারেন। কথা কম বলেন দয়া করে।’
পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে পলক বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আমি বিনয়ের সাথে অনুমতি চাই। প্রসিকিউটর মহোদয় সাক্ষীকে প্রশ্ন করে জবানবন্দী নিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে এটা বাদ দিতে হলে হোস্টাইল করতে হবে।’ সাক্ষীর জবানবন্দীর ওই অংশ নিয়ে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের ভিন্ন অবস্থান শুনানিতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রসিকিউশন বিষয়টিকে মামলার অভিযোগের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয় বলে দাবি করলেও পলক যুক্তি দেন, প্রসিকিউটরের প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বাদ দেয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।
সাক্ষীর জবানবন্দীতে দেশব্যাপী মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়টিও উঠে আসে। সাক্ষী বলেন, এনটিএমসির নির্দেশনায় দেশব্যাপী মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল। তবে তিনি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অনুমোদন দিচ্ছেন না বলেও উল্লেখ করেন। দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে তার জানা ছিল না; ২৮ জুলাইয়ের বৈঠকের মাধ্যমে ইন্টারনেট পুনরায় চালুর বিষয়টি তিনি জেনেছিলেন বলে জানান।
সাক্ষীর এই বক্তব্যে ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশনা, সংশ্লিষ্ট সংস্থার ভূমিকা এবং ইন্টারনেট পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন সামনে আসে। তবে তার বক্তব্যের কোন অংশ মামলার অভিযোগ প্রমাণে প্রাসঙ্গিক হবে, তা বিচারিক প্রক্রিয়ায় মূল্যায়নের বিষয়।
মামলাটিতে ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত এবং সে সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি ও টেলিযোগাযোগ সংস্থার কর্মকর্তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ হিসেবে রয়েছে। প্রসিকিউশন এ বিষয়ে বিভিন্ন নথি আদালতে উপস্থাপন করেছে বলে জানিয়েছে। রোববারের শুনানিতে সাক্ষীর বক্তব্য ও নথিপত্রের বিষয় নিয়ে যে বিতর্ক হয়েছে, তা মামলার এসব অভিযোগের বিচারিক মূল্যায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় হত্যাকাণ্ড ও গণহত্যার তথ্য ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় পলক ও সজীব ওয়াজেদ জয়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় রয়েছে বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই চারটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট সেবা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন পলক। এর পরদিন, ১৬ জুলাই আবু সাঈদসহ কয়েকজন নিহত হওয়ার পর পলক, জয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একটি অনলাইন বৈঠকে অংশ নেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ওই সময় দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনায় তৎকালীন এনটিএমসি মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানের ভূমিকার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, ১৪ জুলাই রাতে ফেসবুকে দেয়া বক্তব্যের মাধ্যমে জয় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানি দিয়েছিলেন। পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ব্যক্তিদের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগও মামলার অংশ। ইন্টারনেট বন্ধ, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারে উসকানি এবং হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগও আনা হয়েছে।
মামলায় রাসেল ও মোসলেহ উদ্দিনসহ ২৮ জনকে হত্যার অভিযোগ এবং উত্তরায় ৩৪ জনকে হত্যায় সহায়তার অভিযোগও রয়েছে বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পলক ও জয়ের বিরুদ্ধে বিচার চলছে। তবে অভিযোগগুলো এখনো বিচারাধীন; এগুলোকে আদালতের চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
প্রসিকিউশন এ মামলায় পাঁচটি নথি উপস্থাপনের কথা জানিয়েছে। এসব নথি ও সাক্ষীর বক্তব্যের মাধ্যমে ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং আন্দোলনকারীদের ওপর সংঘটিত অপরাধের সাথে অভিযুক্তদের যোগসূত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে তারা। অন্য দিকে সাক্ষীকে জেরা করা এবং নথিপত্র যাচাই করার সুযোগ আসামিপক্ষের বিচারপ্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মামলাটিতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে ফেসবুকে দেয়া বক্তব্যের মাধ্যমে উসকানি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা এবং পরবর্তী সময়ে ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে পলক ও জয়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডের তথ্য ছড়িয়ে পড়া বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল। পাশাপাশি প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগও মামলায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। পরে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলে।
রোববারের শুনানিতে এক দিকে সাক্ষীর জবানবন্দীর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে, অন্য দিকে নথিপত্রের অস্পষ্টতা দূর করে আসামিপক্ষকে জেরা করার সুযোগ দেয়ার বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অস্পষ্ট নথি এক কার্যদিবসের মধ্যে সরবরাহের নির্দেশ এবং জেরা করার সময় দেয়ার বিষয়ে বিচারকের বক্তব্য মামলার পরবর্তী শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে মামলার অভিযোগ, সাক্ষীর বক্তব্য এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত- এ তিনটি বিষয় আলাদা করে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা ও উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পরই অভিযুক্তদের দায় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন ট্রাইব্যুনাল।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








