রেড ক্রিসেন্টে চেয়ারম্যানের ‘নিয়োগ বাণিজ্য ও স্বেচ্ছাচারিতা’
  •  আদালতের আদেশেও নির্বাচন দিতে গড়িমসি
  •  ২২ জনকে নিয়মবহির্ভূত নিয়োগের অভিযোগ

আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একক সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনার পরও নির্বাচন আয়োজন নিয়ে দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকা এবং ব্যবস্থাপনা পরিষদকে না জানিয়ে ২২ জনকে নিয়োগ দেয়ার ঘটনায় সংস্থাটির কার্যক্রম ও ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ২৬-২৮ মেয়াদের ব্যবস্থাপনা পরিষদ গঠনে গত ১৭ সেপ্টেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভা (ওজিএম) ও নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু এর এক সপ্তাহ আগে (১০ সেপ্টেম্বর) ব্যবস্থাপনা পরিষদকে না জানিয়েই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আবদুস সালাম একক সিদ্ধান্তে নির্বাচন বাতিল করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা হাইকোর্টে রিট করলে আদালত নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দেন। চেয়ারম্যান ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলেও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দেন। সর্বশেষ আদালত আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, নির্বাচন আয়োজনের জন্য এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে না।
নির্বাচন নিয়ে জটিলতার পাশাপাশি শীর্ষ পদে নিয়োগ ও কর্মী নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিজ্ঞপ্তি বা পরীক্ষা ছাড়াই সাবেক মহাসচিব ও উপমহাসচিবকে পদত্যাগে বাধ্য করে নতুন মহাসচিব মো: হাবিবুর রহমান এবং উপমহাসচিব মো: এহসানে এলাহীকে নিয়োগ দেয়া হয়। চেয়ারম্যানের মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর ও ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) পদেও পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সনদ যাচাই-বাছাই ও যথাযথ নিয়োগপ্রক্রিয়া অনুসরণ না করে পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জনকে সরাসরি পরিচালক পদে নিয়োগ দেয়া হয়। এ ছাড়া সহকারী পরিচালক, কর্মকর্তা, ইমাম ও অফিস সহায়ক পদে নিয়োগসহ মোট ২২ জনকে নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। লিখিত পরীক্ষায় অকৃতকার্য ব্যক্তিদেরও আর্থিক লেনদেন এবং আগের আমলের দুর্নীতিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের যোগসাজশে চাকরি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে সংস্থাটির একটি লিফট কেনার ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রথমে দাম এক কোটি ৪৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হলেও ব্যবস্থাপনা পরিষদের আপত্তির পর তা কমিয়ে ৯০ লাখ টাকা করা হয় বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীদের মতে, এসব ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত মানবিক সংস্থাটির সুনাম ক্ষুণœ করছে। এ ছাড়া চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার খরচ মেটাতে সংস্থার নিজস্ব রাজস্ব খাত থেকে কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ের অভিযোগও তুলেছেন কর্মীদের একাংশ।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আবদুস সালাম ও নতুন মহাসচিবের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

Advertisement