
এপি
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিকেই দায়ী করছেন দেশটির অধিকাংশ নাগরিক। অন্য দিকে জীবনযাত্রার অনিয়ন্ত্রিত ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের কার্যকর ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন প্রতি ১০ জনের মধ্যে মাত্র দু’জন। ‘এপি-এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ’-এর সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে এ তথ্য।
আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রকাশ পাওয়া এ জরিপটি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা তীব্র জন-অসন্তোষকেই স্পষ্ট করছে। বিশেষ করে রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্টের আক্রোশমূলক শুল্কনীতি, ইরানের সাথে চলমান সামরিক সঙ্ঘাত এবং দুই বছর আগের নির্বাচনী প্রচারে দেয়া অর্থনৈতিক স্বস্তির প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা সাধারণ ভোটারদের ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলেছে। এপি-এনওআরসির গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৬৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন বাজারজুড়ে বিরাজমান পণ্যের উচ্চমূল্যের পেছনে মূলত ট্রাম্পের সিদ্ধান্তই অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। এমনকি নিজস্ব রাজনৈতিক দল রিপাবলিকানের বেশির ভাগ সমর্থক জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। যদিও জীবনযাত্রার এই দুরবস্থার জন্য ট্রাম্পকে সরাসরি দায়ী করতে তারা কিছুটা দ্বিধান্বিত।
জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, সামগ্রিক মার্কিন অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের গৃহীত পদক্ষেপ সমর্থনের ক্ষেত্রে তা দাঁড়িয়েছে প্রতি ১০ জনে মাত্র তিনজনে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার মুখে মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের আকাশছোঁয়া দরকে নিজেদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন জরিপে অংশ নেয়া প্রায় ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা। জনমতের প্রতিফলনে সাধারণ ভোটারদের ক্ষোভ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ও রিপাবলিকান সমর্থক ফ্রেড নাউম্যান জানান, হোয়াইট হাউজ থেকে প্রতিনিয়ত আশার বাণী শোনানো সত্ত্বেও নিত্যপণ্যের বাজার ও জীবনযাত্রার ব্যয় দিন দিন বেড়েই চলেছে। অবসরপ্রাপ্ত এই নাগরিকের ভাষ্যমতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতি সপ্তাহেই তাকে তীব্র আর্থিক টানাপড়েন মোকাবেলা করতে হচ্ছে।
দল নিরপেক্ষ অনুসারী ক্রিস্টেন স্লেভেন ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক বাণিজ্য নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। তার মতে, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর চড়া শুল্ক চাপানোর ফলে বাজার দর তো কমেইনি; বরং তার খেসারত দিতে গিয়ে অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চেপেছে সাধারণ ভোক্তাদের কাঁধে। একই সুরে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন আরেক ভোটার রবার্ট গল্ট। তার মতে, গত নির্বাচনের সময় ট্রাম্প দ্রুততম সময়ে জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে সমৃদ্ধি ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তব চিত্রে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো দৈনন্দিন হিসাব-নিকাশে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট স্বস্তি পায়নি। কংগ্রেসে নিজেদের একক আধিপত্য টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে থাকা রিপাবলিকান শিবিরের জন্য নির্বাচনের আগমুহূর্তে জনমতের এই নেতিবাচক প্রবণতা বড় ধরনের প্রশাসনিক সঙ্কট তৈরি করতে পারে। জরিপটির উপাত্ত টেনে বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক দলের নেতারা তোপ দাগছেন যে, ট্রাম্পের নীতি মূলত মুষ্টিমেয় ধনকুবেরদের স্বার্থ রক্ষা করছে আর পিষে মারছে খেটেখাওয়া সাধারণ পরিবারগুলোকে। তবে প্রেসিডেন্টের পক্ষাবলম্বন করে অর্থনীতি জোরদার থাকার যুক্তি দেখাচ্ছে হোয়াইট হাউজ। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবি, অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অন্যান্য মৌলিক অর্থনৈতিক সূচকগুলো এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী রয়েছে। আর বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থার নানাবিধ জটিলতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদে নেয়া কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জেরেই বর্তমান মূল্যস্ফীতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাদের।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








