হোসেনপুরে ধানক্ষেতে ইঁদুরের উপদ্রব, ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা
ইদুরের কেটে দেয়া ধানগাছ হাতে রফিকুল ইসলাম : নয়া দিগন্ত।

 জাহাঙ্গীর আলম হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে রোপা আমন খেতে হঠাৎ ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। থোড় আসা মুহূর্তে দলবেঁধে ইঁদুরেরা ধানগাছের গোড়া কেটে ধ্বংস করায় চরম ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। সঙ্কট মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও বৈজ্ঞানিক সহায়তা দাবি করেছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে হোসেনপুরের ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় আট হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে সাড়ে চার মেট্রিক টন হিসেবে প্রায় ৩৮ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কাক্সিক্ষত এই উৎপাদন দিয়ে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্যত্র সরবরাহ করার কথা ছিল। কিন্তু ধানগাছে থোড় আসার মুহূর্তে ইঁদুরের উপদ্রবে সে হিসাব ও সম্ভাবনা ভেস্তে যেতে বসেছে।
কৃষকদের অভিযোগ, ইঁদুর দমনে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তারা সময়মতো প্রয়োজনীয় পরামর্শ কিংবা সহায়তা পাচ্ছেন না। জামাইল গ্রামের কৃষক নবী হোসেন বলেন, ক্ষেতের বেশির ভাগ গাছে শীষ বের হওয়ার মুহূর্তে ইঁদুর গোড়া কেটে দিচ্ছে। পিপলা কান্দি গ্রামের কৃষক মো: রফিকুল ইসলাম জানান, ইঁদুরের কারণে দুই বিঘা জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। বাজার থেকে বিষটোপ কিনে ব্যবহার করেও কোনো সুফল পাচ্ছেন না তিনি।
তবে মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকি না থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ মোহাম্মদ মহসিন। তিনি বলেন, ধান রোপণের আগেই সারিবদ্ধভাবে চারা লাগানো, প্রতি ১০ সারির পর একটি সারি ফাঁকা রাখা ও ‘পার্চিং’ পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু অধিকাংশ কৃষক ফাঁকা জায়গা রাখলে ফলন কম হবে ভেবে ঐতিহ্যগত নিয়মে চাষ করেছেন। ফলে খেত ঝোপঝাড়পূর্ণ ও অন্ধকার হয়ে ইঁদুরের নিরাপদ প্রজননকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরো জানান, ইঁদুর অত্যন্ত চতুর প্রাণী হওয়ায় সাধারণ বিষটোপের ফাঁদ দ্রুত ধরে ফেলে। তাই ইঁদুর দমনে বিলম্বিত প্রক্রিয়ার বিশেষ রোমা কেক বা ল্যানিরেট ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। একইসাথে আমন রক্ষা করতে ব্লকে ব্লকে মাঠ কর্মকর্তা পাঠিয়ে কৃষকদের সার্বিক কারিগরি সহায়তা দিতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

Advertisement