করজাল না করের ফাঁদ
করজাল না করের ফাঁদ।

বিশেষ সংবাদদাতা

Advertisement

কর ফাঁকি ঠেকাতে করজাল বিস্তারের উদ্যোগ এখন পৌঁছেছে ব্যক্তির আর্থিক লেনদেনের আরো গভীরে। সদ্য প্রকাশিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আয়কর নির্দেশিকায় ব্যক্তি করদাতার আয়, লেনদেন, রিটার্ন দাখিল ও উৎসে করের বিধানকে আরো বিস্তৃত কাঠামোর মধ্যে আনার নির্দেশনা রয়েছে। এর ফলে কর প্রশাসনের কাছে করদাতার আর্থিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্যের পরিধি বাড়ছে- কিন্তু একই সাথে প্রশ্ন উঠছে, কর ফাঁকি রোধের এই উদ্যোগ সাধারণ করদাতার জন্য নতুন প্রশাসনিক চাপ ও হয়রানির দরজা খুলছে কি না।
রাজস্ব বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন নেই। কিন্তু করজাল যত বিস্তৃত হচ্ছে তাতে করদাতার অধিকার, তথ্যের গোপনীয়তা এবং ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিকারের নিশ্চয়তা একই গতিতে শক্তিশালী হচ্ছে কি না- সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
আয় নয়, লেনদেনও নজরে : নির্দেশিকার কাঠামো থেকে স্পষ্ট, কর প্রশাসন শুধু ঘোষিত আয়ের ওপর নির্ভর না করে করদাতার বিভিন্ন আর্থিক কর্মকাণ্ডের তথ্যকে কর নির্ধারণ ও যাচাইয়ের কাজে আরো বেশি ব্যবহার করতে চাইছে। এতে কর ফাঁকি শনাক্ত করা সহজ হতে পারে। ঘোষিত আয় ও আর্থিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি থাকলে তা শনাক্ত করার সুযোগ বাড়বে। কিন্তু এখানেই ঝুঁকি।
বড় লেনদেন মানেই বড় আয় নয়। একজন ব্যক্তির হিসাবে জমি বিক্রির অর্থ, ঋণের অর্থ, পারিবারিক অর্থ স্থানান্তর কিংবা ব্যবসার ঘূর্ণায়মান অর্থ থাকতে পারে। তাই লেনদেনের তথ্যকে আয় হিসেবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ সৃষ্টি হলে প্রকৃত করযোগ্য আয় নির্ধারণে ভুলের আশঙ্কাও থাকবে।
করদাতার ওপর দায়, প্রশাসনের জবাবদিহি কোথায় : কর ব্যবস্থায় ডিজিটাল তথ্য ও ই-রিটার্নের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে। এনবিআরের ই-ট্যাক্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থাও নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। ডিজিটাল ব্যবস্থা করদাতার সময় ও হয়রানি কমাতে পারে। কিন্তু সেটি তখনই সম্ভব, যখন অনলাইন ব্যবস্থাটি সহজ, স্বচ্ছ এবং ব্যবহারবান্ধব হয়। অন্যথায় কাগজের ফাইলের জায়গায় তৈরি হবে ডিজিটাল জটিলতা।
করদাতাকে তথ্য দিতে হবে, কিন্তু সেই তথ্য ভুল হলে দায় কার? কর প্রশাসনের ডেটাবেসে ভুল তথ্য ঢুকলে তা সংশোধনের প্রক্রিয়া কত দ্রুত? ভুল তথ্যের ভিত্তিতে নোটিশ এলে সাধারণ করদাতা কিভাবে দ্রুত প্রতিকার পাবেন? নির্দেশিকার বাস্তব প্রয়োগে এসব প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
উৎসে কর : রাজস্বের সহজ পথ, ব্যবসার নগদ সঙ্কট?
উৎসে কর সরকারের জন্য রাজস্ব সংগ্রহের কার্যকর ব্যবস্থা। অর্থ পরিশোধের সময়ই কর কেটে নেয়া যায় বলে রাজস্ব আদায় সহজ হয়। কিন্তু ব্যবসার ক্ষেত্রে উৎসে করের আরেকটি দিক রয়েছে- কর কাটা হয় আয় চূড়ান্ত হওয়ার আগেই।
কোনো ব্যবসা যদি প্রকৃতপক্ষে কম মুনাফা করে, কিন্তু বিভিন্ন পর্যায়ে উৎসে কর দিতে হয়, তাহলে তার কার্যকরী মূলধনে চাপ সৃষ্টি হতে পারে। পরে অতিরিক্ত কর্তিত কর সমন্বয় বা ফেরত পেতে দীর্ঘসূত্রতা হলে সেটি ব্যবসার জন্য আরো বড় সমস্যা। তাই কর আদায়ের পাশাপাশি কর ফেরত ও সমন্বয়ের গতিও হতে হবে দ্রুত।
মধ্যবিত্তই কি সবচেয়ে সহজ লক্ষ্য?
কর ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক অংশে থাকা বেতনভোগী, পেশাজীবী ও ছোট উদ্যোক্তার আর্থিক কর্মকাণ্ড শনাক্ত করা তুলনামূলক সহজ। ব্যাংকিং ও ডিজিটাল লেনদেন বাড়ার সাথে তাদের আর্থিক কর্মকাণ্ডও আরো দৃশ্যমান হচ্ছে। কিন্তু করজাল সম্প্রসারণের প্রকৃত সাফল্য তখনই আসবে, যখন বড় অপ্রকাশিত আয় ও কর ফাঁকিও সমানভাবে শনাক্ত হবে। শুধু সহজে শনাক্তযোগ্য করদাতার ওপর নজরদারি বাড়ালে সেটি করজাল সম্প্রসারণ নয়; বরং করদাতার ওপর চাপ পুনর্বণ্টন মাত্র।
তথ্য যত বেশি, সুরক্ষার দায়ও তত বেশি
কর প্রশাসনের হাতে ব্যাংকিং ও অন্যান্য আর্থিক তথ্যের প্রবাহ বাড়ার সাথে সাথে তথ্য সুরক্ষার প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একজন নাগরিকের আয়, সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। এসব তথ্য কে দেখতে পারবেন, কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার হবে এবং কতদিন সংরক্ষণ করা হবে- এগুলো শুধু প্রযুক্তিগত প্রশ্ন নয়; কর প্রশাসনের ওপর জনআস্থার প্রশ্নও। তথ্য সংগ্রহের ক্ষমতা বাড়ানোর সাথে তাই প্রশাসনিক জবাবদিহিও বাড়াতে হবে।
করজাল বড় হবে, কিন্তু আস্থা কতটা?
বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থায় করের পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন। কিন্তু করদাতাকে কেবল রাজস্বের উৎস হিসেবে দেখলে দীর্ঘমেয়াদে কাক্সিক্ষত ফল নাও আসতে পারে।
করদাতা যদি মনে করেন- নিয়ম জটিল,  তথ্য দেয়ার দায় বেশি,  ভুলের দায় প্রায় পুরোপুরি তার, অতিরিক্ত কর ফেরত পেতে সময় লাগে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিকার কঠিন, তাহলে কর-অনুগত্য বাড়ানোর পরিবর্তে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির দিকে যাওয়ার প্রবণতা সৃষ্টি হতে পারে।
সুতরাং ২০২৬-২৭ সালের আয়কর নির্দেশিকার বড় পরীক্ষা শুধু কত টাকা কর আদায় হলো- তা নয়। আসল প্রশ্ন হলো : কর ফাঁকি দেয়া বড় আয়কে ধরা গেল, নাকি সহজে শনাক্তযোগ্য সাধারণ করদাতার ওপরই নজরদারি আরো বাড়ল?
রাজস্ব বাড়াতে করজাল অবশ্যই বড় হতে পারে। কিন্তু সেই জাল যেন এমন না হয়, যেখানে কর ফাঁকিদাতার চেয়ে নিয়ম মেনে চলা নাগরিকই বেশি আটকা পড়েন। 
চাকরির সুবিধা, ভাতা ও বিভিন্ন পরিশোধের করযোগ্যতা নির্ধারণে নতুন করে হিসাব
আয়কর শুধু বেতন বা সরাসরি পাওয়া অর্থের হিসাবেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। চাকরিজীবী ও পেশাজীবীদের বিভিন্ন ভাতা, সুবিধা, ব্যয় ফেরত বা রিইম্বার্সমেন্ট কিভাবে আয় হিসেবে বিবেচিত হবে তা নিয়েও কর প্রশাসনের নির্দেশনা আরো বিস্তারিত করা হয়েছে। একই সাথে করযোগ্য অর্থের উৎস শনাক্ত, হিসাব সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উৎসে কর কর্তনের দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপরও বর্তাচ্ছে।
২০২৬-২৭ করবর্ষের আয়কর নির্দেশিকার সংশ্লিষ্ট অংশ পর্যালোচনায় দেখা যায়, কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু নগদ বেতন নয়, করদাতার পক্ষে কোনো ব্যয় বহন করা, প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাওয়া এবং ব্যয়ের অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়ও আলাদা করে বিবেচনার মধ্যে আনা হয়েছে। এর ফলে চাকরিজীবী, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াচ্ছে- কোন অর্থ প্রকৃত আয়, আর কোনটি কেবল কাজের প্রয়োজনে করা ব্যয়ের ফেরত।
রিইম্বার্সমেন্টে নতুন হিসাবের চাপ
নির্দেশিকার সংশ্লিষ্ট অংশে ব্যয় ফেরতের বিষয়টি আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো কর্মী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কাজের প্রয়োজনে ব্যয় করার পর প্রতিষ্ঠান থেকে সেই অর্থ ফেরত পেলে সেটির প্রকৃতি কী- তা নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এখানেই কর প্রশাসনের জন্য একটি বাস্তব সমস্যা এবং করদাতার জন্য একটি বাস্তব ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। প্রকৃত ব্যবসায়িক বা অফিসিয়াল ব্যয়ের অর্থ ফেরত এবং ব্যক্তিগত সুবিধা হিসেবে পাওয়া অর্থ- দু’টিকে একইভাবে দেখার সুযোগ নেই। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বিল-ভাউচার বা অনুমোদনের নথি না থাকলে প্রকৃত ব্যয়ও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
ফলে করদাতার জন্য শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখাই যথেষ্ট হবে না; কোন অর্থ কোন উদ্দেশ্যে পাওয়া হয়েছে, কোন ব্যয়ের বিপরীতে পাওয়া হয়েছে এবং তার প্রমাণ কী- সেটিও সংরক্ষণ করতে হবে।
বেতন ছাড়াও সুবিধার হিসাব
নির্দেশিকায় চাকরি থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন অর্থ ও সুবিধাকে কর নির্ধারণের সময় বিবেচনার কাঠামো দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেতন ছাড়াও বিভিন্ন ভাতা, সুযোগ-সুবিধা এবং নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে বহন করা কিছু ব্যয়ের বিষয় রয়েছে।
কর ব্যবস্থার দৃষ্টিতে এর যৌক্তিকতা হলো-একই ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা যদি একজন কর্মী বেতন হিসেবে পান অথবা অন্য কোনো সুবিধার আকারে পান, তাহলে কেবল নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে করের দায় এড়ানোর সুযোগ থাকা উচিত নয়।
কিন্তু এর বিপরীত দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। কর্মীর প্রকৃত আয় এবং অফিসিয়াল সুবিধার মধ্যে সীমারেখা স্পষ্ট না হলে করদাতা ও নিয়োগকর্তার মধ্যে ব্যাখ্যার ভিন্নতা সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের যাতায়াত, চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ, অফিসিয়াল সফর বা অন্যান্য কাজের ব্যয় প্রতিষ্ঠান বহন করে, সেখানে প্রতিটি অর্থপ্রদানের প্রকৃতি স্পষ্টভাবে নথিবদ্ধ না থাকলে ভবিষ্যতে করসংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
উৎসে করের দায়ও বাড়ছে
নির্দেশিকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো উৎসে কর কর্তনের সাথে সংশ্লিষ্ট পক্ষের দায়িত্ব নির্ধারণ। অর্থাৎ কর প্রশাসনের কাজ শুধু করদাতার রিটার্ন গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; অর্থ পরিশোধের পর্যায়েই কর কর্তনের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহের ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। এতে সরকারের রাজস্ব আদায় তুলনামূলকভাবে সহজ হয়। করদাতা রিটার্নে আয় দেখাবেন কি না তার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে অর্থ পরিশোধের সময়ই একটি অংশ সরকারের কাছে চলে যায়।
কিন্তু এতে ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের ওপরও প্রশাসনিক দায়িত্ব বাড়ে। কাকে কত টাকা দেয়া হলো, কোন খাতে দেয়া হলো, কত টাকা কর্তন করা হলো এবং সেই কর্তনের অর্থ যথাসময়ে জমা দেয়া হয়েছে কিনা- এসবের হিসাব রাখতে হবে। অর্থাৎ আয়কর ব্যবস্থায় করদাতার পাশাপাশি ‘কর কর্তনকারী সত্তা’ও ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
করের জাল বড় হচ্ছে, কিন্তু ব্যাখ্যার জায়গা কতটা
আয়কর প্রশাসন ডিজিটাল ও তথ্যনির্ভর হওয়ার সাথে সাথে করের আওতা বাড়ানো স্বাভাবিক। আয় গোপন করা, কৃত্রিম ব্যয় দেখানো কিংবা অর্থপ্রদানের প্রকৃতি পরিবর্তন করে কর এড়ানোর সুযোগ কমানো এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
কিন্তু একই সাথে কর ব্যবস্থার একটি মৌলিক শর্ত হলো- করদাতার জন্য নিয়মটি স্পষ্ট হতে হবে।
বিশেষ করে ‘আয়’, ‘সুবিধা’, ‘ব্যয় ফেরত’ এবং ‘প্রতিষ্ঠানের পক্ষে করা খরচ’-এর মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট না হলে করদাতাকে পরে প্রমাণের ভার বহন করতে হতে পারে। ফলে নির্দেশিকা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কর কর্মকর্তার ব্যাখ্যা এবং করদাতার ব্যাখ্যার মধ্যে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা জরুরি।
নথি না থাকলেই ঝুঁকি
এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে নিয়মিত আয় করা মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী ও ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর। বড় প্রতিষ্ঠানের আলাদা হিসাব বিভাগ, কর পরামর্শক ও আইনগত সহায়তা থাকে। কিন্তু একজন সাধারণ চাকরিজীবী কিংবা ছোট উদ্যোক্তার পক্ষে প্রতিটি অফিসিয়াল ব্যয়ের বিল, অনুমোদন, রিইম্বার্সমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট নথি দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ করা অনেক বেশি কঠিন।
ফলে কর প্রশাসনের ডিজিটাল সক্ষমতা যত বাড়বে, করদাতার নথি সংরক্ষণের সক্ষমতাও তত বাড়াতে হবে। অন্যথায় কর ফাঁকি বন্ধের উদ্দেশ্যে তৈরি ব্যবস্থা একসময় নিয়ম মেনে চলা করদাতার জন্যও অতিরিক্ত প্রশাসনিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে। প্রশ্ন কর ফাঁকি রোধের, নাকি কাগজের বোঝা বাড়ানোর?
আয়কর নির্দেশিকার এই অংশের মূল বার্তা হলো- করযোগ্য আয় নির্ধারণ এখন কেবল মাসিক বেতন বা ব্যবসায়িক মুনাফার সরল হিসাব নয়। অর্থের প্রকৃতি, সুবিধার ধরন, ব্যয়ের উদ্দেশ্য এবং অর্থপ্রদানের প্রমাণ- সবই ক্রমে কর ব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠছে। এতে কর ফাঁকি শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সাথে বাড়বে কর প্রশাসনের তথ্যভাণ্ডার এবং অর্থনৈতিক লেনদেনের ওপর নজরদারি।
তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে জবাবদিহি নিয়ে। করদাতার কাছে যেমন প্রতিটি অর্থের উৎস ও ব্যবহার ব্যাখ্যার প্রত্যাশা থাকবে, তেমনি কর প্রশাসনের কাছেও থাকতে হবে একই মাত্রার স্বচ্ছতা- কোনো অর্থ কেন করযোগ্য ধরা হলো, কোন ব্যয় কেন গ্রহণযোগ্য হলো না এবং কোন নথির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।
কারণ কর ব্যবস্থার উদ্দেশ্য শুধু বেশি কর আদায় নয়; ন্যায্যভাবে, স্বচ্ছ নিয়মে ও পূর্বানুমানযোগ্য পদ্ধতিতে কর আদায় করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আয়কর নির্দেশিকায় একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে- কর প্রশাসন এখন শুধু ‘কত আয়’ হয়েছে তা দেখতে চাইছে না; কিভাবে সেই অর্থ পাওয়া গেল, কেন পাওয়া গেল এবং তার প্রমাণ কোথায়- সেটিও জানতে চাইছে।