সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসেও পুঁজিবাজার সূচকের অবনতি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসেও পুঁজিবাজার আচরণের খুব একটা পরিবর্তন ঘটেনি। গতকাল সোমবার দেশের দুই পুঁজিবাজারই সূচকের অবনতিতে লেনদেন শেষ করে। তবে আগের দিনের মতো এদিন সূচকের বড় পতন ঘটেনি। লেনদেনের মাঝামাঝি সময়ে একবার বাজারগুলোতে সূচকের অবনতির কাছাকাছি পৌঁছলেও পরবর্তীতে তা কাটিয়ে ওঠে বাজারগুলো। এতে দিনের প্রায় পুরোটা সময় ধরে বাজারগুলো সূচকের উন্নতিতে পার করলেও শেষ মুহূর্তে এসে সৃষ্ট বিক্রয়চাপ এদিন সূচকের অবনতি ঘটায়। ১২টি খাতের মধ্যে পাঁচটি কিছুটা ভালো অবস্থানে থাকলেও সাতটিতে দরপতন ঘটে। দরপতনের শিকার হয় লেনদেন অংশ নেয়া কোম্পানি ও ফান্ডের বেশির ভাগ। 
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা দিনের বাজার আচরণকে ইতিবাচক হিসাবেই দেখছেন। তারা মনে করেন, আগের দিন বাজারে যে বিক্রয়চাপ ছিল তা থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে গতকাল। ফলশ্রুতিতে দিনের একটি বড় সময় বাজারগুলোতে সূচকের উন্নতি ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে প্রধান পুঁজিবাজারটিতে লেনদেনেরও যেমন কিছুটা উন্নতি ঘটেছে তেমনি সূচকের পতনও ছিল সহনীয়। এ ধারা অব্যাহত থাকলে বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ও সুচিন্তিত বিনিয়োগ পরিকল্পনাই বাজারের স্বাভাবিকতা ধরে রাখতে ভূমিকা রাখবে। 
প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৬ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট অবনতি ঘটে। সোমবার সকালে পাঁচ হাজার ৫৩২ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা সূচকটি ওই দিন লেনদেন শেষে নেমে আসে পাঁচ হাজার ৫২৫ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে। একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহর অবনতি ঘটে যথাক্রমে ১ দশমিক ৩৫ ও ৩ দশমিক ১ পয়েন্ট। অনুরূপভাবে দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক এদিন ৫ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট হ্রাস পায়। সিএসইর দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৫ দশমিক ২৫ ও দশমিক ৩০ পয়েন্ট।  আর এভাবে টানা তৃতীয় দিনের মতো সূচক হারাল দুই পুঁজিবাজার। 
সূচকের অবনতি ঘটলেও গতকাল ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেনের কিছুটা উন্নতি ধরে রাখে। ডিএসই এদিন ৭৪৬ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হয় যা আগের দিন অপেক্ষা ১৯ কোটি টাকা বেশি। রোববার ডিএসইর লেনদেন ছিল ৭২৭ কোটি টাকা। তবে এদিন লেনদেনের বড় ধরনের অবনতি ঘটে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে। এ দিন বাজারটি লেনদেন করে মাত্র ১০ কোটি টাকা। আগের দিন সিএসইর লেনদেন ছিল ৩৯ কোটি টাকা। 
দিনের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগের সবচেয়ে ভালো পারফর্ম করা মিউচুয়াল ফান্ডেই গতকাল বেশি দরপতনের ঘটনা ঘটেছে। রোববার এ খাতে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটলেও গতকাল ৩ দশমিক ১ শতাংশ দরপতনের শিকার ছিল খাতটি। অন্য দিকে রোববার সবচেয়ে বেশি দর হারানো টেক্সটাইল খাতই ছিল গতকাল মূল্যবৃদ্ধির দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে। এ খাতে ৩ দশমিক ২ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে গতকাল। মূল্যবৃদ্ধির দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বীমা খাত। খাতটির মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ১ দশমিক ৩ শতাংশ। এ ছাড়া ব্যাংকিং খাত দশমিক ১১ শতাংশ ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দশমিক ৮ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। অপর দিকে দরপতনের দিক থেকে মিউচুয়াল ফান্ডের পরে ছিল বিবিধ খাত। ১ দশমিক ৯ শতাংশ দর হারায় খাতটি। এ ছাড়া সেবা খাত ১ দশমিক ৫ শতাংশ, খাদ্য ও আনুসঙ্গিক ১ দশমিক ২ শতাংশ, প্রকৌশল দশমিক ৭ শতাংশ তথ্যপ্রযুক্তি দশমিক ৫ শতাংশ ও ফার্মামিউটিক্যাল খাত দশমিক ২ শতাংশ দর হারায়। 
এ দিকে পুঁজিবাজারে নতুন ও যোগ্য কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও-বিধিমালা সহজ করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি)। একই সাথে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ব্যবসা পরিচালনা আরো সহজ করতে বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক বিধিবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিবর্তন এবং ক্ষেত্রবিশেষে শিথিলতা আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত এ সংগঠনটি।
সম্প্রতি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ ভবনে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান ও কমিশনারদের সাথে বিএপিএলসির নির্বাহী কমিটির সদস্যদের এক বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিষয়টি জানিয়েছে বিএসইসি।
বিএপিএলসির সভাপতি রিয়াদ মাহমুদের নেতৃত্বে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধিদল  বৈঠকে অংশ নেয়। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য রওকাদার কাদের, হুমায়ুন রশিদ, সৈয়দ ফারজানাহ চৌধুরী, শরীফ শাহ জামাল রাজ, জেয়াদ রহমান, মো: ইমাম শাহীন, হাসান তারেক, মেজর জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম , মো: জাহিদুল ইসলাম ও মো: আবদুল্লাহ আল এমরান। 
 বৈঠকে বিএপিএলসির পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের শেয়ারবাজারে নতুন ও যোগ্য কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়াতে আইপিও প্রক্রিয়াকে আরো সহজ ও ব্যবসাবান্ধব করা প্রয়োজন। সংগঠনটির মতে, যোগ্য কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা গেলে বাজারে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ  তৈরি হবে এবং শেয়ারবাজারের পরিধিও বাড়বে।
বিএপিএলসি বৈঠকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক শর্ত নিয়েও আলোচনা করে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ব্যবসা পরিচালনায় যেসব বিধিবিধান বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন বা পরিবর্তন করা দরকার।
বিএপিএলসির মতে, একটি স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য ও সহায়ক নিয়ন্ত্রক পরিবেশ তৈরি করা গেলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজ হওয়ার পাশাপাশি পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়তে পারে। এর মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বিএসইসির পক্ষে চেয়ারম্যান মাসুদ খান ছাড়াও কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান, মো: নাফিজ আল তারিক ও মো: হোসাইন সাদাত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement