
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলায় কাঙ্ক্ষিত পাঠক ও দর্শনার্থীদের সাড়া মিলছে না বলে দাবি করেছেন হতাশাগ্রস্ত প্রকাশক ও স্টল মালিকরা। শুক্রবার ছুটির দিনে মুসল্লি ও ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়লেও সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতে মেলাপ্রাঙ্গণ প্রায় ফাঁকা থাকছে। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের একুশে বইমেলার মতো জৌলুশ ও সর্বজনীন আবহ না থাকার পেছনে পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণার অভাবকে দায়ী করছেন তারা। তবে আয়োজক সংস্থা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতে, বই বিক্রির চেয়ে নতুন নতুন বইয়ের পরিচিতি ও প্রদর্শনীই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) আয়োজিত এই মেলা গত ১২ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হয়। বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ও পূর্ব চত্বরে আয়োজিত এবারের মেলায় সর্বমোট ২০৬টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, যেখানে দেশী-বিদেশী ১৯৩টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
এবারের মেলার বিশেষ আকর্ষণ আন্তর্জাতিক প্রকাশনীগুলোর অংশগ্রহণ। বাংলাদেশ ছাড়াও মিসর, লেবানন, পাকিস্তান ও ভারত থেকে আসা সাতটি স্বনামধন্য প্রকাশনী মেলায় তাদের দুর্লভ ও মানসম্মত আরবি ও অন্যান্য ভাষার বই প্রদর্শন করছে।
বিশেষ ছাড় ও দর্শনার্থী সুবিধা
পাঠকদের উৎসাহিত করতে অধিকাংশ স্টলে ১০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেয়া হচ্ছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিজস্ব দু’টি স্টলে ১ থেকে ১০ হাজার টাকা মূল্যের বইয়ে ৩৫ শতাংশ এবং ১০ হাজার ১ টাকার ওপরের বইয়ে ৪০ শতাংশ বিশেষ ছাড় মিলছে। সাধারণ দর্শনার্থী ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাঠকদের সুবিধার্থে মেলাপ্রাঙ্গণে তথ্যকেন্দ্র, সাংবাদিকদের জন্য আধুনিক ‘মিডিয়া কর্নার’ এবং লেখক-সংবাদকর্মীদের ভাববিনিময়ের জন্য ‘লেখক ও ম্যাগাজিন কর্নার’ রাখা হয়েছে।
‘সিরাত এক্সিবিশন’ ও ‘জুলাই কর্নার’
এবারের বইমেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ওয়াফা হিফজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল আয়োজিত ‘সিরাত এক্সিবিশন’। ১৩টি বিশেষ প্রজেক্টের মাধ্যমে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর ঐতিহাসিক জীবন ও শিক্ষার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় দৃষ্টিনন্দনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি তরুণ ও সাধারণ পাঠকদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলেছে ‘জুলাই কর্নার’। গতকাল জুমার নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ও পূর্ব চত্বরে বইপ্রেমীদের ভিড় দেখা যায়। পবিত্র কুরআন, তাফসির, হাদিস গ্রন্থ, সিরাত সাহিত্য, ইসলামী ইতিহাস, গবেষণা ও শিশুদের নৈতিক শিক্ষামূলক বই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখতে ও কিনতে দেখা যায় পাঠকদের।
যাত্রাবাড়ী থেকে আসা কলেজশিক্ষক আলহাজ রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতি বছরই তিনি এই মেলার অপেক্ষা করেন। বিশেষ করে মিসর ও লেবাননের স্টল থেকে মূল আরবি ভাষার মানসম্মত বই পাওয়ায় গবেষক ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য এটি দারুণ সুযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদা খাতুন জানান, শিশু চত্বরে বর্ণিল প্রচ্ছদের নৈতিক শিক্ষামূলক বই যেমন রয়েছে, তেমনি নারীদের জন্য আলাদা বসার সুব্যবস্থা থাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বই নির্বাচন করা যাচ্ছে।
আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্সের মতো কয়েকটি স্টলে পুরনো ক্রেতাদের সুবাদে কেনাবেচা হলেও শিশু কর্নার ও অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জানান, ছুটির দিন ছাড়া বাকি দিনগুলোতে বিক্রি নগণ্য। প্রচারের ঘাটতিকেই তারা মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
সার্বিক বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী জানান, ‘জুলাই কর্নার’ ও ‘সিরাত এক্সিবিশন’-এর সমন্বয়ে এবার মেলা আকর্ষণীয়ভাবে সাজানো হয়েছে। যেকোনো বইমেলার মূল লক্ষ্য বিক্রি কত হলো তার চেয়েও বড় বিষয় প্রদর্শনী ও প্রচার। সর্বস্তরের মানুষ নতুন বইয়ের সাথে পরিচিত হচ্ছেন- এ দিক থেকে মেলার মূল উদ্দেশ্য সার্থক।
ইফা সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে (ছুটির দিনে সকাল ১০টায় শুরু)। দিন যত গড়াবে, পাঠকদের অংশগ্রহণ আরো বাড়বে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা।








