ইউপি নির্বাচনে জামানত ২৫ হাজার ও ব্যয়সীমা ১০ লাখ

বিশেষ সংবাদদাতা

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ইউনিয়ন পরিষদ ভোটের নিয়মে বড় ধরনের সংস্কার এনেছে নির্বাচন  কমিশন (ইসি)। চেয়ারম্যান ও সাধারণ সদস্য পদে প্রার্থীদের জামানত ও নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রার্থীদের দেশ-বিদেশের যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব, আয়কর রিটার্নের প্রমাণপত্র এবং পৃথক ব্যাংক হিসাব ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা আনা হয়েছে। গতকাল এ সংক্রান্ত সংশোধিত বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।
নির্বাচন কমিশনের নতুন বিধিমালা অনুযায়ী- 
চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন জামানত বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা এবং সাধারণ সদস্য পদে পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী প্রদত্ত মোট ভোটের ১৫ শতাংশের কম পেলে তার জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত হবে। একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এবং সাধারণ সদস্য প্রার্থী সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত নির্বাচনী খরচ করতে পারবেন। সব ধরনের নির্বাচনী ব্যয় পরিচালনার জন্য পৃথক নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হবে এবং ২০ হাজার টাকার বেশি যেকোনো লেনদেন বাধ্যতামূলকভাবে ব্যাংকিং মাধ্যমে হতে হবে।
মনোনয়নপত্রের সাথে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রার্থী এবং তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের দেশে ও বিদেশে থাকা সব ধরনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পূর্ণাঙ্গ হিসাব হলফনামা আকারে জমা দিতে হবে। এর পাশাপাশি প্রার্থীর সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্রও সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ইলেকশন ম্যানুয়ালের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে সমান ভোটের ক্ষেত্রে। আগে সমান ভোট পেলে লটারির মাধ্যমে জয়ী নির্ধারণ করা হলেও নতুন নীতিতে সেই লটারি প্রথা বাতিল করে সমতা হওয়া কেন্দ্রগুলোতে আবার ভোটগ্রহণের বিধান করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্ট, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হুমকির অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। গুরুতর অপরাধে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা সরাসরি বাতিল করতে পারবে কমিশন।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটাররা প্রিসাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে ভোট দেয়ার সময় কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী একজন পছন্দের সহায়তকারী সাথে নিতে পারবেন। তবে কোনো প্রার্থী, এজেন্ট বা প্রিসাইডিং দলীয় সদস্য সহায়তকারী হতে পারবেন না। সহায়তকারীকে ভোটারের গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে এবং তাদের একটি পৃথক তালিকা প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সংরক্ষণ করবেন।