সংসদে পরামর্শ গ্রহণ না করায় রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি : ডা: শফিক
রাজধানীতে জামায়াত বিট সাংবাদিকদের সাথে বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমানের মতবিনিময় : নয়া দিগন্ত

 নিজস্ব প্রতিবেদক 

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদে বিরোধী দল সরকারি দলকে গঠনমূলক পরামর্শ দিলেও তা গ্রহণ করা হয় না। কিন্তু আমরা অতীতের মতো সংসদে ফাইল ছোড়াছুড়ির সংস্কৃতি এবং চেয়ার ছুড়ে স্পিকার হত্যার মতো জঘন্য ইতিহাস সৃষ্টি করতে চাই না। তাই জনগণের দাবি  আদায়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি। 
গতকাল বুধবার রাজধানীর মগবাজার আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াত বিট সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় স্বাগত বক্তৃতা করেন, সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল; কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, আব্দুর রব, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসাইন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি; কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান ও অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন।  
বিরোধীদলীয় নেতা জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটকে উপেক্ষা করার নেতিবাচক প্রভাব, দেশের বিরাজমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থা, জনদুর্ভোগ, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, গ্যাসসঙ্কট, গার্মেন্ট শিল্প, বিরোধী দলের চলমান লংমার্চ কর্মসূচি এবং সাংবাদিকদের পেশা ও ব্যক্তিগত খোঁজখবর নেন। 
এ সময় তিনি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার বিভিন্ন সমস্যা জানতে চান এবং সমস্যা সমাধানে কোনো ইউনিয়ন বা কাঠামো থাকলে তার মাধ্যমে প্রস্তাবনা ও সমস্যার বিষয়ে জানালে তা সমাধানেরও আশ্বাস দেন। সাংবাদিকদের কাছে থেকে পরামর্শ ও মতামত নেন জামায়াত আমির।   
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, রাষ্ট্রের সংবিধান স্বীকৃত তিনটি স্তম্ভ হলো আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ। এর বাইরে সবচেয়ে শক্তিশালী ৪র্থ স্তম্ভ হলো মিডিয়া। গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। তাই আমি গণমাধ্যমকে কালোকে কালো ও সাদাকে সাদা বলার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।  
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সব কিছুর দাম বেড়ে যাচ্ছে। দেশীয় পণ্যের দামও বাড়ছে। সমাজে এর সর্বগ্রাসী প্রভাব রয়েছে। জনস্বার্থবিরোধী বিষয় নিয়ে আমরা কথা বলছি, আপনারাও বলেন; সবাই মিলে বলি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর মন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনাও করেন তিনি। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকার যদি আমাদের কথা না শোনে তাহলে আন্দোলন চলবে এবং আন্দোলনের মাধ্যমে এর ফায়সালা হবে।  
লংমার্চের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, আমরা প্রতীকী কয়েক শ’ গাড়ি নিয়ে লংমার্চ করছি। চাইলে পাঁচ হাজার গাড়ি নিয়েও লংমার্চ করতে পারতাম। লংমার্চের দাবিগুলো কোনো একটি একক দলের নয়; এগুলো জনগণের দাবি। এটিই প্রথম লংমার্চ নয়, এর আগেও হয়েছে এবং সরকারি দলও আমাদের সাথে লংমার্চ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। 
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকারি দল প্রপাগান্ডা চালিয়েছে, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লংমার্চের আগে বিরোধী দল ককটেল ফুটিয়েছে। বিরোধী দল নিজেদের শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল লংমার্চ কর্মসূচি বানচাল করার জন্য ককটেল ফোটাবে- এটি পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছু নয়; বরং লংমার্চে স্বতঃস্ফূর্ত জনস্রোতে দিশেহারা হয়ে সরকারি দলই বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ লংমার্চ বানচাল করার হীন উদ্দেশ্যেই ককটেল ফুটিয়েছিল। আমরা ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ করেছি। কর্মসূচি পালনের সক্ষমতা আমাদের আছে। আমরা ঘোষণা করেছি আমাদের সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, শৃঙ্খলিত ও নিয়মতান্ত্রিক। জনগণে যৌক্তিক দাবি আদায়ে লংমার্চ পালনকালে জনগণের কষ্ট ও ভোগান্তির জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।  
বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে আমিরে জামায়াত অংশ নেন। 
চীনের ৭৭তম জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির
গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকায় চীনা দূতাবাস আয়োজিত জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
গতকার বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে চীনা দূতাবাস আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান চীনের জাতীয় দিবস উপলক্ষে চীনের সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এর হাতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর উদ্দেশ্যে লেখা একটি চিঠি তুলে দেন।
চিঠিতে চীনের জাতীয় দিবস উপলক্ষে চীনের প্রেসিডেন্ট, সরকার ও জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো সুদৃঢ় ও বিস্তৃত হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। 
এ সময় ডা. শফিকুর রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি; সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম, রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মাওলানা আবদুল হালিম, মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের; কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো: মোবারক হোসাইন; কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।