
আমেরিকার সদ্য সমাপ্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটে ডেমোক্রেট দলের মুসলিম প্রার্থী আল-সাইয়িদ অভূতপূর্ব জয় পেয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তার নিজের ভাষায়, ‘আপনারা সবচেয়ে অসম্ভাব্য প্রার্থীর ওপর বাজি ধরেছেন।’ এই জয়ের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ২৩৭ বছরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হলেন।
আবদুর রহমান মোহাম্মদ আল-সাইয়িদ ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর মিশিগানের গ্র্যান্ড ট্রাপিটসে অভিবাসী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মোহামেদ এল-সাইয়িদ এবং সৎমা জ্যাকলিন এল-সাইয়িদ দুজনেই পেশায় প্রকৌশলী। আল-সাইয়িদ মিশিগানেই তার শৈশব ও কৈশোর কাটান। তার পারিবারিক আবহে শিক্ষা ও আধুনিক মূল্যবোধের গভীর ছোঁয়া ছিল, যা তার উচ্চশিক্ষা ও জনসেবামূলক জীবন গঠনে গভীর প্রভাব ফেলে। এল-সাইয়িদের স্ত্রী মারওয়া শাফেই পেশায় চিকিৎসক। তাদের একটি মেয়ে সন্তান আছে।
পেশা ও পড়াশোনা
আবদুর রহমান মোহাম্মদ আল-সাইয়িদ (আবদুল এল-সাইয়িদ) পেশায় মহামারী বিশেষজ্ঞ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিবিদ। তিনি মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। নিউ ইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় মেডিক্যাল ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর ‘রোডস স্কলার’ (Rhodes Scholar) হিসেবে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান। সেখান থেকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে ডক্টরেট (পিএইচডি) ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইলম্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথে মহামারী বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি ডেট্রয়েট স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ওয়েন কাউন্টির স্বাস্থ্য, মানব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সেবা বিভাগের পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। পেশাগতভাবে একজন সফল চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার পাশাপাশি তিনি বেশ কিছু সংস্থার বোর্ডে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ভাষ্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন।
আল-সাইয়িদ ২০১৫ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে ডেট্রয়েট স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। এর মাধ্যমে তিনি সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বড় শহরের সর্বকনিষ্ঠ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ২০১৩ সালে ডেট্রয়েট শহরটি দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার পর ভেঙে পড়া জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার পুনর্গঠন করাই ছিল তার মূল দায়িত্ব।
স্বাস্থ্য বিভাগে তার উল্লেখযোগ্য অর্জন
স্কুলে সিসা দূষণ পরীক্ষা : ফ্লিন্ট শহরের পানি সঙ্কটের পর তিনি ডেট্রয়েটের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সিসার বিষক্রিয়া পরীক্ষা করে স্কুলের পানি থেকে সিসা অপসারণ করেন। বিনামূল্যে চশমা বিতরণ : ডেট্রয়েটের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের চোখের সমস্যা দূর করতে তিনি একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু করেন। চাহিদাসম্পন্ন প্রতিটি শিশুকে বিনামূল্যে চশমা দেয়া হয়।
পরিবেশ দূষণ রোধ
ম্যারাথন পেট্রোলিয়ামের সাউথওয়েস্ট রিফাইনারি থেকে ক্ষতিকর সালফার ডাই অক্সাইড গ্যাস নির্গমন বৃদ্ধির প্রচেষ্টা তিনি শক্ত হাতে প্রতিরোধ করেন। অ্যানিম্যাল কন্ট্রোল বিভাগের আধুনিকায়ন : শহরের প্রাণিসম্পদ নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষার জন্য তিনি ডেট্রয়েটের ‘অ্যানিম্যাল কন্ট্রোল’ বিভাগের সরকারি অর্থায়নের পরিমাণ বাড়াতে নেতৃত্ব দেন। মাদকাসক্তি মোকাবেলা ও নারকান সহজলভ্যকরণ : মাদকাসক্তি ও অতিরিক্ত ড্রাগ সেবনের কারণে মৃত্যুর হার কমাতে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ‘নারকান’ সবার জন্য সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেন তিনি।
জনস্বাস্থ্য খাতে এই অভূতপূর্ব ও সাহসী নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৬ সালে তিনি ‘মিশিগান লিগ অব কনজারভেশন ভোটারস’ কর্তৃক পাবলিক অফিশিয়াল অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হন এবং নামী সাময়িকী ‘ক্রেনস ডেট্রয়েট বিজনেস’-এর অনূর্ধ্ব-৪০ সফল ব্যক্তিত্বের তালিকায় স্থান পান।
প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি
আবদুর রহমান মোহাম্মদ আল-সাইয়িদ রাজনৈতিকভাবে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল ধারার নেতা। তার মতাদর্শকে ডেমোক্র্যাটিক ককাসের সাধারণ মূলধারার চেয়ে কিছুটা বামপন্থী বা র্যাডিক্যাল হিসেবে গণ্য করা হয়। যদিও তিনি নিজেকে সমাজতান্ত্রিক বলতে নারাজ, তবে তিনি বিশ্বজুড়ে বড় বড় করপোরেট ও ধনকুবেরদের প্রভাবের বিরুদ্ধে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কড়া অবস্থান নিয়ে থাকেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি বার্নি স্যান্ডার্স এবং আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজের মতো প্রগতিশীল মার্কিন নেতাদের জোরালো সমর্থন পান। তার মূল দর্শন হলো এমন একটি সরকারব্যবস্থা তৈরি করা যা ধনকুবেরদের আরো ধনী করার বদলে সাধারণ মানুষের জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণে কাজ করবে।
২০২৬ সালের মিশিগান সিনেট নির্বাচনে জয়ের পেছনে তার মূল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা প্রধান তিনটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে গঠিত। সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা : জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে তার সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি ছিল ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ বা সবার জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। তিনি বড় বড় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া ব্যবসা ভেঙে দেয়া এবং জীবন রক্ষাকারী প্রেসক্রিপশন ওষুধের মূল্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সাথে নারী ও এলজিবিটিকিউ নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবার স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পক্ষে তার অবস্থান স্পষ্ট। করপোরেট প্রভাবমুক্ত রাজনীতি : এল-সাইয়িদ রাজনীতি থেকে করপোরেট অর্থের প্রভাব সম্পূর্ণ দূর করার এবং রাজনৈতিক প্রচারণা তহবিল সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ ছাড়া সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার সহজ করা, সুপ্রিম কোর্টের সংস্কার, সিনেটের ‘ফিলিবাস্টার’ প্রথা বাতিল এবং অবৈধ অভিবাসী নিয়ন্ত্রণ-বিষয়ক সংস্থা ‘আইস’ বিলুপ্ত করার মতো সংস্কারমূলক পদক্ষেপের পক্ষে তিনি কাজ করছেন।
সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি : তিনি ধনকুবেরদের সম্পদের ওপর ন্যায্য কর আরোপ করে সাধারণ মানুষের পকেটে অর্থ ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গৃহহীনতা দূরীকরণ, মানসম্মত শিক্ষা এবং পরিবেশ রক্ষায় প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সেন্টারের মতো আধুনিক প্রযুক্তি খাতগুলোকে নিয়মের মধ্যে আনার ওপর তিনি জোর দেন। পররাষ্ট্রনীতি : বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি একটি সংবেদনশীল পররাষ্ট্রনীতির পক্ষে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে, তিনি ইসরাইলে আমেরিকার সব ধরনের সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এবং গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র বিরোধিতা করেন।
বিরোধী শিবির ও ইহুদি লবিং থেকে চাপ
নির্বাচনে বিজয়ী হতে আবদুল এল-সাইয়িদকে চরম বৈরী পরিবেশ, তীব্র ইসলামোফোবিয়া (ইসলামভীতি) এবং শক্তিশালী ইহুদি লবির নজিরবিহীন চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। প্রগতিশীল এই মুসলিম ডেমোক্রেট প্রার্থীর ইসরাইলবিরোধী অবস্থান এবং গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করার কারণে শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে বিরোধী শিবির একাট্টা হয়ে মাঠে নামে। বিশেষ করে তার মুসলিম ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে ডোনাল্ড ট্রাম্প, রিপাবলিকান দল এবং ইহুদিপন্থী সংগঠনগুলো তার ওপর রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করেছিল।
প্রধান চাপ এবং প্রতিবন্ধকতা
ইহুদি লবি ও এআইপ্যাকের (AIPAC) নজিরবিহীন অর্থায়ন : ইসরাইলপন্থী শক্তিশালী লবিং গ্রুপ এআইপ্যাক এল-সাইয়িদকে ঠেকাতে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনেই তার প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যালি স্টিভেন্সের পক্ষে বিপুল অর্থ ঢালে। প্রাথমিক নির্বাচনী প্রচারণায় খরচ হওয়া মোট ৫০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে অন্তত ৩০ মিলিয়ন ডলারই এসেছিল এআইপ্যাকের তহবিল থেকে। প্রাথমিক নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর হ্যালি স্টিভেন্স প্রথমে এল-সাইয়িদকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিলেও মূল নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে তিনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দেন, যা ডেমোক্র্যাট শিবিরের ভেতর এক বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে।
ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আক্রমণ
নির্বাচনী প্রচারণার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার রানিং মেট জেডি ভ্যান্স সরাসরি এল-সাইয়িদের ধর্মীয় পরিচয়কে টার্গেট করেন। ট্রাম্প তার বিভিন্ন জনসভায় এল-সাইয়িদকে অবমাননাকরভাবে ‘জিহাদি’ এবং আন্তর্জাতিক নিষিদ্ধ সংগঠন ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’-এর সদস্য হিসেবে ভিত্তিহীনভাবে আখ্যায়িত করেন। এমনকি ট্রাম্প তার নাম বিকৃত করে ‘মোহাম্মদ’ বা ‘আবদুল রমাদান’ বলে ডাকতেন এবং ব্যঙ্গ করে বলতেন যে, এল-সাইয়িদ সিনেটে প্রবেশ করতে চাইলে তাকে মেটাল ডিটেক্টরের ভেতর দিয়ে যেতে হবে।
রিপাবলিকান ও বিরোধী শিবিরের উগ্র প্রচারণা
এল-সাইয়িদের প্রধান রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্স এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা তার বিরুদ্ধে উগ্র প্রচারণা চালান। রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল তাকে ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘র্যাডিক্যাল ইসলামিস্ট’ এবং সিনেটর টেড ক্রুজ তাকে ‘মুসলিম ব্রাদারহুডের কট্টর সমর্থক’ বলে অভিহিত করেন। টেড ক্রুজ এমন সতর্কবার্তাও দিয়েছিলেন যে, এল-সাইয়িদকে সিনেটের ইন্টেলিজেন্স কমিটিতে জায়গা দিলে মার্কিনিদের প্রাণহানি ঘটতে পারে। অন্যদিকে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী রজার্স সরাসরি তাকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ হিসেবে চিত্রায়িত করার চেষ্টা করেন। দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মিডিয়া ট্রায়াল : শুধু বিরোধী দলই নয়, ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরের অনেক মূলধারার নেতাও এল-সাইয়িদের বামপন্থী পররাষ্ট্রনীতি ও ইসরাইল মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবির কারণে তার ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন। মূলধারার মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোতে (যেমন- সিএনএন) সাক্ষাৎকারের সময় তাকে বারবার ইসরাইল ‘অস্তিত্বের অধিকার’ নিয়ে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হতো এবং অতীতে দেয়া তার বিভিন্ন বক্তব্যকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
এতসব আক্রমণ, উগ্র জাতীয়তাবাদী মানসিকতা এবং কোটি কোটি ডলারের করপোরেট ও লবিং খাতের চাপ উপেক্ষা করে আবদুল এল-সাইয়িদ সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় সমস্যা, যেমন— চিকিৎসা ব্যয় ও জীবনযাত্রার খরচ কমানোর বিষয়গুলোকে সামনে এনে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত মিশিগানের বিপুল সংখ্যক আরব-আমেরিকান ও প্রগতিশীল ভোটারদের সমর্থনে সমস্ত চাপ ও বাধা পেরিয়ে তিনি ৫২.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে এক ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন।
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব ও গ্রন্থকার
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








