ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। নয়া দিগন্ত

সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া, সংবাদপত্র ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে মাদরাসায় চুমু, বলাৎকার ও ধর্ষণের খবর জোরেশোরে প্রচারিত হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে দাড়ি, টুপি ও কুর্তা পরিহিত শিক্ষককে গ্রেফতারের বেশ কয়েকট ছবির ভিউ হয়েছে কয়েক মিলিয়ন। লাইভে এসে কয়েকজন অভিভাবককে তাদের সন্তানের ওপর পরিচালিত বলাৎকারের চিত্র তুলে ধরতে দেখা গেছে। কেউ কেউ এআই দিয়ে বানোয়াট ছবিও পোস্ট করছে। এসবের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে শঙ্কা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে জনমনে বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার উপলক্ষ তৈরি হয়েছে। এর নিরসনে দেশের শীর্ষ আলেমদের এগিয়ে আসতে হবে। নীরব ভূমিকা বা দায়সারা বিবৃতি দিয়ে সঙ্কটের সুরাহা হবে না; বরং পরিস্থিতি জটিল হবে। 
২৭ এপ্রিল থেকে ২৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসন্ধান করে জানা গেছে, মাদরাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সাভার, পটুয়াখালী,  টঙ্গী,  গাজীপুর,  পাবনা, বরিশাল, সিলেট ও ঢাকায় যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ১৭টি মামলা হয়েছে। ২২ জন গ্রেফতার হয়েছেন। হতে পারে শিক্ষাঙ্গনে যৌন নিপীড়নের ঘটনা সত্য, অর্ধসত্য অথবা চূড়ান্তভাবে অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যদি সামান্যও সত্য হয় তাহলে এখনই সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। নিজেরা বিচার করলে হবে না। উপযুক্ত আদালতের কাছে বিচার সোপর্দ করতে হবে। আর যদি তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয় তাহলে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা করতে হবে। 
সাম্প্রতিক সময়ে মাদরাসায় যৌন সহিংসতার বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে একশ্রেণীর ইউটিউবার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতা এবং কিছু সংবাদকর্মীর তৎপরতা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। কেউ কেউ এসব ঘটনার সংবাদ পরিবেশনে অতিরঞ্জিত, চটকদার ও মুখরোচক শিরোনাম ব্যবহার করছেন, যা জনমনে উত্তেজনা সৃষ্টি এবং মাদরাসা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা বিস্তারের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। সংবাদ পরিবেশনে বস্তুনিষ্ঠতা, সংযম ও পেশাগত নৈতিকতা বজায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে যৌন সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে ভুক্তভোগীর পরিচয় ও মর্যাদা রক্ষা এবং অভিযোগ ও প্রমাণিত অপরাধের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা সংবাদমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
অস্বীকার করার উপায় নেই, সমাজের বিভিন্ন অঙ্গনের মতো মাদরাসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও অপরাধের অভিযোগ উঠতে পারে। কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা, ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। কিন্তু বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা বা ব্যক্তির অপরাধকে কেন্দ্র করে গোটা মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা, আলেম-ওলামা কিংবা ধর্মীয় শিক্ষার ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করা সঙ্গত নয়। অপরাধের দায় ব্যক্তির; যথাযথ প্রমাণ ছাড়া সেই দায় একটি বৃহত্তর ধর্মীয় শিক্ষাগোষ্ঠীর ওপর চাপিয়ে দেয়া অনুচিত। মনে রাখতে হবে, দেশের কিছু এলাকায় অপরিকল্পিত প্রাইভেট বালক-বালিকা মাদরাসা গড়ে উঠছে। এখানে তুলনামূলক বেশি যৌন অপরাধ সংঘটিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। প্রতিষ্ঠানগুলো হাইয়াতুল উলয়া, বিফাক ও মাদরাসা বোর্ডের অধীনে নিয়ে এলে তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব। 
শিশু, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য গোপনীয়তা রক্ষা করে অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা চালু করতে হবে। পাশাপাশি অভিযোগ জানানোর বিকল্প মাধ্যম নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কেউ বাধা বা ভয়ের মুখে নীরব থাকতে বাধ্য না হয়। অভিযোগকারী যেন কোনো ধরনের হুমকি, হয়রানি কিংবা প্রতিশোধমূলক আচরণের শিকার না হন, সে বিষয়ে কঠোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগ পাওয়ার পর ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও মানসিক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা, সংশ্লিষ্ট প্রমাণ সংরক্ষণ এবং অপরাধের অভিযোগ যথাযথ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বোর্ডভিত্তিক নিয়মিত পরিদর্শন, অভিযোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং বার্ষিক শিশু সুরক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশের ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অভিযোগ গোপন করা কিংবা অপরাধের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি ও আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
মাদরাসায় যৌন সহিংসতা প্রতিরোধের দায়িত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়; বরং এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ, দায়িত্বশীলতা ও কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য। মুহতামিম ও শিক্ষকদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। হেফাজতে ইসলামসহ ধর্মীয় সংগঠন এবং আলেম-ওলামাকে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি ও নৈতিক নেতৃত্ব প্রদানে এগিয়ে আসতে হবে। উল্লেখ্য, ২৫ অক্টোবর ২০২৬-এ প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতারা শিশু নির্যাতনের অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনানুগ শাস্তি এবং শিশু সুরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।

Advertisement

আল-হাইআতুল উলয়ার ভূমিকা
কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ সমন্বয়কারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে আল-হাইআতুল উলয়ার ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এর অধীনে ছয়টি কওমি শিক্ষা বোর্ডের সাথে সমন্বয় করে দেশব্যাপী শিশুসুরক্ষা নীতিমালা বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হাইআতুল উলয়া শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি, অভিযোগ তদন্ত, পর্যবেক্ষণ সেল ও হটলাইন চালুর বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে বলে সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশনাও উল্লেখ করা হয়েছে। 
এখন প্রয়োজন নির্দেশনাগুলোর বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করা। প্রতিটি মাদরাসায় সুরক্ষা কমিটি গঠন করা অপরিহার্য। কমিটির সদস্যদের নাম, দায়িত্ব ও যোগাযোগের মাধ্যম শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জানাতে হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বা তার ঘনিষ্ঠদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে অভিযোগ জানানোর বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে হবে।
হাইআতুল উলয়া ও বেফাককে কওমি মাদরাসাগুলোতে নিয়মিত তদারকি জোরদার করতে হবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে আলিয়া মাদরাসাগুলোতে বিদ্যমান আইন, বিধিবিধান ও নির্দেশনার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সবার সম্মিলিত, সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক প্রচেষ্টাই পারে মাদরাসায় যৌন সহিংসতা প্রতিরোধ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে।
সাত দিনের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। তবে গুরুতর অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তদন্তে প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে এবং দ্রুত প্রতিবেদন তৈরির চাপে যেন ন্যায়সঙ্গত তদন্ত ব্যাহত না হয়। কোনো মাদরাসা অভিযোগ গোপন করলে, ভুক্তভোগীকে ভয় দেখালে বা তদন্তে বাধা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
নিয়ম অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অধিভুক্তি স্থগিত বা বাতিলের মতো ব্যবস্থা নিতে হবে, যেখানে বিধি ও যথাযথ প্রক্রিয়া তা অনুমোদন করে।
কতটি প্রতিষ্ঠানে কমিটি আছে, কতটি অভিযোগ এসেছে, কতটি তদন্ত হয়েছে এবং কী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে— এসব তথ্য ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ না করে নিয়মিত প্রকাশ করা উচিত। এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন : হাইআতুল উলয়ার নির্দেশনা ও বোর্ডগুলোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হলেও কোনো ফৌজদারি অপরাধের বিচার করার ক্ষমতা আদালত ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার। অভ্যন্তরীণ তদন্ত ফৌজদারি তদন্তের বিকল্প হতে পারে না।
আলিয়া ও কওমি মাদরাসার প্রশাসনিক কাঠামো এক নয়। তাই উভয় ধারার জন্য অভিন্ন ন্যূনতম শিশু সুরক্ষার মানদণ্ড থাকা প্রয়োজন হলেও বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত এখতিয়ার অনুসারেই নির্ধারণ করতে হবে। সমাজে  আলেম-ওলামা ও দ্বীনি ব্যক্তিদের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে আলেমদের কথা ও আচরণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তারা যদি যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেন, তাহলে সমাজে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়বে এবং ভুক্তভোগীরা কথা বলার সাহস পাবেন। জুমার খুতবা, ওয়াজ-মাহফিল ও দ্বীনি আলোচনায় শিশুদের নিরাপত্তা, আমানতদারি এবং দুর্বল মানুষের অধিকার সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বোঝাতে হবে যে— কারো সম্মান, শরীর ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করা গুরুতর অন্যায়; ধর্মীয় পরিচয় কাউকে দায়মুক্তি দেয় না। ভুক্তভোগীকে দোষারোপ, অপমান বা সামাজিকভাবে একঘরে করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। কোনো মাদরাসায় অভিযোগ উঠলে আলেমদের উচিত নিরপেক্ষ তদন্তে সহযোগিতা করা, অপরাধ গোপন না করা এবং ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো। স্কুল,  কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়েও যৌন নিপীড়ন হয়, এ কথা বলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। 

কওমি মাদরাসার সুনাম ও জন-আস্থা 
কওমি মাদরাসাগুলো মূলত জনগণের আর্থিক সহযোগিতা, দান-সদকা, জাকাত ও অন্যান্য অনুদানের ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়। সাধারণভাবে এসব প্রতিষ্ঠানে সরকারি বেতন-ভাতা কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য নিয়মিত সরকারি বরাদ্দ থাকে না। সমাজের ধর্মপ্রাণ মানুষের অকুণ্ঠ সহযোগিতা, আলেম-ওলামার ত্যাগ ও নিষ্ঠা এবং অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষীর আর্থিক অনুদানই এসব প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রার প্রধান অবলম্বন। এ বাস্তবতায় কওমি মাদরাসার সুনাম ও জন-আস্থা রক্ষা করা কেবল প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়; এটি দ্বীনি শিক্ষার ধারাবাহিকতা রক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের প্রতি যৌন নির্যাতন ও নিপীড়নের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মোকাবেলা করা জরুরি। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে বিচ্ছিন্ন ঘটনাও বৃহত্তর অঙ্গনের প্রতি মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
স্মর্তব্য যে, এ দেশে ধর্মপ্রচার, ধর্মশিক্ষা ও নৈতিকতার পরিবেশ তৈরি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুরক্ষা সমাজকে ইসলামীকরণে মাদরাসার বিশাল ভূমিকা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। দু’-একজনের ভুল বা পদস্খলনের মাশুল গোটা আলেমসমাজের ওপর চাপিয়ে দেয়ার প্রয়াস কোনো দিন গ্রহণযোগ্য হবে না, জাতি মেনে নেবে না।

যৌন সহিংসতা রোধে মাদরাসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি 
মাদরাসা কেবল ধর্মীয় জ্ঞানার্জনের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি নৈতিকতা, আমানতদারি, আত্মসংযম ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের কেন্দ্র। এখানে কোনো শিক্ষার্থী যৌন নির্যাতনের শিকার হলে তার শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির পাশাপাশি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থাও ক্ষুণ্ন হয়। তাই মাদরাসায় যৌন সহিংসতা প্রতিরোধকে কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব হিসেবে দেখলে চলবে না; এটিকে ধর্মীয়, নৈতিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মাদরাসার মুহতামিম, শিক্ষক, পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক, আলেম-ওলামা, হেফাজতে ইসলাম, বেফাক, হাইআতুল উলয়া এবং বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড— প্রত্যেকেরই স্বতন্ত্র ও সমন্বিত ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। 
লেখক : সাবেক উপদেষ্টা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
drkhalid09@gmail.com