
ই-পার্লামেন্টের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের প্রতিটি অধিবেশন, বিল বা আইন পাস, সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি এবং ভোট দেয়া রেকর্ড সরাসরি অনলাইনে সম্পৃক্ত হবে বলে জানিয়েছেন ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ও হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)।
তিনি বলেন, ই-পার্লামেন্ট চালু হলে সাধারণ নাগরিকরা সহজেই জানতে পারবেন, তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি সংসদে কী ভূমিকা রাখছেন এবং কোন বিষয়ে কীভাবে ভোট দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে একটি অনলাইন পোর্টাল বা অ্যাপ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে কোনো খসড়া আইন পাসের আগে নাগরিকরা তাদের মতামত ও পরামর্শ দিতে পারবেন। পাশাপাশি ই-পিটিশন দাখিল এবং গ্রাম থেকে বসেও যেকোনো অভিযোগ সরাসরি সংসদের কমিটির কাছে পাঠানোর সুযোগ থাকবে বলে হুইপ নিজান আরো বলেন, সংসদকে কাগজবিহীন বা পেপারলেস করতে হবে। কারণ সংসদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রতিদিন কয়েক টন কাগজ ব্যবহার হয়, যা পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। অথচ ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে কাগজের কোনো প্রয়োজন নেই।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় সংসদের ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম সভা শেষে জাতীয় সংসদ ভবনের ট্যানেলে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় কমিটির সদস্য হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদ, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আখতার হোসেন, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ এবং আন্না মিন্জ অংশগ্রহণ করেন।
আশরাফ উদ্দিন (নিজান) বলেন, এই পার্লামেন্টকে যুগোপযোগী এবং ই-পার্লামেন্ট করা আমাদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল। বাংলাদেশের নাগরিক যেন আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে।
তিনি বলেন, পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংসদে কাগজের ব্যবহার বন্ধ করে পেপারলেস পার্লামেন্ট গড়ে তুলতে ই-পার্লামেন্ট চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে আজ প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক সংসদ গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
সভায় শুরুতে সভাপতি উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানান। পরে তার নির্দেশনায় ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্পের ওপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। সভায় সংসদীয় কার্যক্রমকে অধিকতর আধুনিক, গতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় প্রকল্পের কার্যক্রমের যথাযথ বাস্তবায়ন, বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং প্রকল্পের আওতাভুক্ত কাজের পুনরাবৃত্তি পরিহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচিতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের নাম ‘ই-পার্লামেন্ট’ পরিবর্তন করে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এছাড়া, প্রকল্পের আওতায় সাউন্ড সিস্টেমসহ অন্যান্য কার্যক্রমের মধ্যে যাতে কোনো ধরনের পুনরাবৃত্তি বা কাজের দ্বৈততা (ওভারল্যাপিং) না থাকে, তা নিশ্চিত করতে বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে একটি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্য সাঈদ আল নোমান, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ও আন্না মিন্জকে নিয়ে এ উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপ-কমিটিকে প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিস্তারিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন মূল কমিটির কাছে উপস্থাপনের দায়িত্ব দেয়া হয়।
সভায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং জাতিসঙ্ঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








