ঢাকায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২ উদ্বোধন
নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভূমি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাগণ। নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশে ভূমি সংক্রান্ত সেবাকে আধুনিক, সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত এবং জনবান্ধব করে তুলতে নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২ উদ্বোধন করা হয়েছে। ঢাকার ভূমি ভবনে অবস্থিত প্রথম নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্রের অভাবনীয় সাফল্যের ধারাবাহিকতায় সাধারণ নাগরিকদের দোরগোড়ায় বিনামূল্যে দ্রুত ভূমিসেবা সহায়তা পৌঁছে দিতে দ্বিতীয় নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

Advertisement

রোববার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর ৭১ পুরানাপল্টনে এ দ্বিতীয় নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো: মিজানুর রহমান মিনু এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো: এমদাদুল হক চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি মন্ত্রী মো: মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘ভূমি একটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ, আর ভূমির অধিকার রক্ষা ও সেবা প্রাপ্তি প্রত্যেকটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। আমাদের দেশে ভূমিসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে জটিলতা ও নানা অভিযোগ যুগ যুগ ধরে ছিল। সাধারণ মানুষকে এক টুকরো জমির জন্য বছরের পর বছর ভূমি অফিসের বারান্দায় ঘুরে বেড়াতে হতো। কিন্তু বর্তমান সরকার গণমানুষের কষ্ট দূর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

ভূমি মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের গণতান্ত্রিক সরকার ভূমিসেবাকে পুরোপুরি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আজকের এই ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’ চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো—নাগরিকদের সুবিধাজনক স্থানে কোনো প্রকার হয়রানি ছাড়া, দ্রুততম সময়ে হয়রানিমুক্তভাবে ভূমিসেবা পৌঁছে দেওয়া। এই কেন্দ্রে এসে একজন নাগরিক পাবেন সঠিক পরামর্শ, খতিয়ান, নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য ও সেবা। কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর উপস্থিতি এখানে বরদাশত করা হবে না। ভূমিসেবায় একশত ভাগ স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই—একটি আধুনিক ও জনবান্ধব ভূমিসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে সাধারণ জনগণ সম্মান ও স্বস্তির সাথে তাদের অধিকার ও সেবা বুঝে পাবেন। ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’ এ যাত্রায় এক যুগান্তকারী মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘আজকে ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’-এর উদ্বোধন জনবান্ধব ভূমিসেবা প্রদানে সরকারের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতিরই এক বাস্তব প্রতিফলন। অতীতে ভূমিসেবাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে নানাবিধ ভোগান্তি ও জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হতো। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সুদূরপ্রসারী নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় আমরা সেই পুরোনো ধারার আমূল পরিবর্তন এনেছি। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে ভূমিসেবাকে কীভাবে আরও জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত করা যায়, সে লক্ষ্যেই আমরা একের পর এক নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছি।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২ কেবল একটি সেবা কেন্দ্র নয়, এটি জনগণের প্রতি আমাদের জবাবদিহিতা ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতার প্রতীক। এখানে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নাগরিকগণ বিনামূল্যে অতি সহজে, অল্প সময়ে এবং নির্ভুলভাবে ভূমি সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। আমরা বিশ্বাস করি, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যত সহজ হবে, জনগণের আস্থা তত বৃদ্ধি পাবে। ভূমিসেবায় অনিয়ম ও হয়রানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে এই কেন্দ্রটি বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। আমরা প্রতিনিয়ত এই সেবাগুলোর পরিধি ও মান বৃদ্ধি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো: এমদাদুল হক চৌধুরী ভূমিসেবায় প্রযুক্তিগত অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের দিন। আধুনিক ও জনবান্ধব ভূমিসেবা নিশ্চিতকরণের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে আমরা ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’ চালু করতে যাচ্ছি। বাংলাদেশের ভূমিসেবা ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ, হয়রানিমুক্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

ভারপ্রাপ্ত ভূমি সচিব বলেন, ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্রসমূহের মাধ্যমে আমরা সাধারণ জনগণের হাতের নাগালে ভূমি সংক্রান্ত নানাবিধ সেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। প্রথম কেন্দ্রটির সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আজ আমরা ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’ চালু করছি, যা ভূমিসেবা গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও সহজ করবে। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট—কোনো নাগরিক যেন ভূমিসেবা নিতে এসে কোনো প্রকার হয়রানি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের শিকার না হন। এই কেন্দ্র থেকে ই-নামজারি ও খতিয়ানের সার্টিফাইড কপির আবেদন দাখিল, অনলাইনে ভূমিসেবা ফি ও ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানসহ বিভিন্ন পরামর্শ ও সেবা অত্যন্ত সহজে বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। আমি ভূমি মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে সেবা প্রদান নিশ্চিত করার আহ্বান জানাই।’

অনুষ্ঠানে ভূমি মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন দফতর ও সংস্থার কর্মকর্তাসহ গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।