
রাজধানীর সূত্রাপুর থানাধীন শ্যামবাজারে পারিবারিক কলহের জেরে লাগানো আগুনে দগ্ধ মো: ইমনের (২৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক ইনস্টিটিউটে মৃত্যু হয়েছে।
সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় পাঁচজনকে এখানে আনা হলে তাদেরকে ভর্তি রাখা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা: সুলতান মাহমুদ জানান, মো: ইমনের শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। এই ঘটনায় সিদ্দিকে ৩৫ শতাংশ দগ্ধ, তানিয়ার ৬০ শতাংশ দগ্ধ, রাজিবের ১৫ শতাংশ দগ্ধ ও ধলু মিয়া আরিফের ৮ শতাংশ দগ্ধ। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কজনক ও বাকি দুজনকে শঙ্কামুক্ত বলা যেতে পারে।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সূত্রাপুরের শ্যামবাজার চামারটুলি এলাকায় ঘটনা এ ঘটনায় দগ্ধরা হলেন- সৌদি প্রবাসী মো: ইমন (২৬), তার বাবা সিদ্দিক বেপারী (৬০), চাচাতো ভাই রাজিব (৩৮), খালাতো ভাই আরিফুর রহমান ধলু (৩৫) ও খালাতো বোন তানিয়া আক্তার (২০)।
স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা জানায়, দগ্ধরা সবাই শ্যামবাজার চামারটুলি এলাকার পৈতৃক ভিটায় পাশাপাশি বসবাস করেন। আহতদের মধ্যে রাজিব ন্যাশনাল হাসপাতালে মেকানিক হিসেবে কর্মরত। ধলু পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এবং তানিয়া পুরান ঢাকার উইমেন্স কলেজের স্নাতকের (সম্মান) শিক্ষার্থী।
ধলুর স্ত্রী সোনিয়া আক্তার জানান, শুক্রবার বাসার সামনে ময়লা পানি জমিয়ে রাখা নিয়ে ইমনের বোন সুলতানার সাথে তানিয়ার তর্কাতর্কি হয়। তানিয়া ময়লা পানি পরিষ্কার করতে বললে সুলতানা বিষয়টি সৌদি আরব অবস্থানরত তার ভাই ইমনকে জানান। খবর পেয়ে ইমন শনিবারই দেশে ফিরে আসেন।
সোনিয়া আরো জানান, শনিবার বিকেলে ইমন সবাইকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, আমিও মরব, তোদেরও মারব। এই কথা বলেই তিনি নিজ কক্ষে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে কক্ষে থাকা সবাই দগ্ধ হন। পরে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় ইমন, তানিয়া, সিদ্দিক ও রাজিবকে হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।







