কৃষি
কৃষিপণ্যে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে রফতানি বাড়াতে চায় সরকার ছবি: প্রতীকী ছবি
আদা, মরিচ, টমেটো ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং এসব পণ্য রফতানির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, ‘কৃষি এগিয়ে গেলে দেশ এগিয়ে যাবে, কৃষক শক্তিশালী হলে দেশ শক্তিশালী হবে।’ কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে সভাপতির অভিপ্রায় অনুযায়ী উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন। কমিটির সভাপতি মো: শাহাদাত হোসেন এমপির সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতে কমিটির সভাপতি, সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দফতর-সংস্থার জনবল, কার্যাবলি, উল্লেখযোগ্য অর্জন, কৃষিক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়। বৈঠকে কৃষিজমি ও ফসলে কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। গতানুগতিকভাবে সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সারের ব্যবহার বাড়িয়ে মাটির গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারই প্রথম মাটির গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। টেকসই কৃষি উৎপাদনের জন্য মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিগত বছরগুলোর তুলনায় চলতি বছরে কৃষক পর্যায়ে বেশি সার সরবরাহ করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬’ জারি করা হয়েছে। বৈঠকে সার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় মনিটরিং জোরদার এবং কৃষিবান্ধব সার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। একইসাথে যশোরের গদখালীতে ফুল গবেষণা কেন্দ্র ও মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন, পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন পরিত্যক্ত জায়গায় তুলা উৎপাদন, চরের জমিতে ভুট্টা, মিষ্টি আলু ও বাদাম চাষের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার, কৃষকদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানো, কৃষক পর্যায়ে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানির বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি মো: শাহাদাত হোসেন বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাজের ওপর সরকারের অনেক সফলতা নির্ভর করছে। এ ক্ষেত্রে কৃষি মন্ত্রণালয় অধিকতর গতিশীল হয়ে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। টেকসই ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। বৈঠকে কমিটির সদস্য মো: শহিদুল ইসলাম এমপি, মো: মোস্তাফিজুর রহমান এমপি, মো: রোকন উদ্দীন বাবুল এমপি, মো: মুজিবুর রহমান চৌধুরী এমপি, মোছা: সাবিরা সুলতানা এমপি, মো: গোলাম রছুল এমপি এবং মো: আব্দুল বারী সরদার এমপি অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দফতর-সংস্থার প্রধানগণ, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস