
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে স্থানীয় আলেম-ওলামাদের বাধা দেয়ার বিষয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের উত্তরে আন্দালিভ রহমান বলেন, কনসার্ট বাতিল হওয়া মানেই যে সরকার সহযোগিতা করেনি, তা নয়। হয়তো সেখানে নিরাপত্তার বিষয় ছিল, আরো অনেক কিছু ছিল। আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে বিষয়টি জানতে পারব।
তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে মাঝে মাঝে কনসার্ট বাতিল হতে পারে। সব সময় কারো আপত্তির কারণে অনুষ্ঠান বাতিল হয়, বিষয়টি এমন নয়। কোথাও কোনো ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকির আশঙ্কা করা হলে, সে কারণে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।
চীনের তৈরি জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান কেনার পথে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা
সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেয়ার মানসিকতা নেই
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে অনেক কনসার্ট হচ্ছে এবং বড় বড় আয়োজনও হচ্ছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থাকলে সেটি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয়।
আমাদের সরকারের তরফ থেকে এ ধরনের কোনো মানসিকতা নেই যে কোনো সাংস্কৃতিক বিষয়ে কোনো বাধা বা বিঘ্ন সৃষ্টি করা হবে। আমরা এ ধরনের চিন্তা শেয়ার করি না বলেন তিনি।
সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একটি গোষ্ঠী সক্রিয়
আন্দালিভ রহমান বলেন, গত ৪০-৫০ বছর ধরে আমরা দেখে আসছি, সাংস্কৃতিক নানা কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একটি গোষ্ঠী সবসময় এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে আসছে। বাংলাদেশে এমন ঘটনা অনেক সময়ই ঘটেছে। এ নিয়ে আসলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যেখানে আমরা একসাথে কিভাবে বসবাস করতে হয়, মানুষ কিভাবে মানুষের পাশে থাকতে হয়, তা জানি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের মধ্যে একটি সাংস্কৃতিক সহাবস্থান রয়েছে। কিছু কিছু মানুষ বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখান। এটা হতেই পারে। তবে ইনশা আল্লাহ, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং আইন অনুযায়ীই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নাটকীয় অগ্রগতি হয়েছে
একই প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ যে অবস্থায় চলে গিয়েছিল, সেখান থেকে বর্তমান সরকারের সময়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য, বরং নাটকীয় অগ্রগতি হয়েছে।
তিনি বলেন, একটা ঘটনা ঘটছে না, তা নয়। একটা সময়ে যখন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যায় এবং দেড়-দুই বছর ধরে কিছু গোষ্ঠী ওপরে ওঠে যায়, তখন রাতারাতি সবকিছুর পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে যতটুকু উন্নতি হয়েছে, আমি এটাকে অনেক বড় ইমপ্রুভমেন্ট মনে করি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের চর্চা বাড়ানো এবং তা সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবেও তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে একাধিক বৈঠক করেছেন বলে জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চর্চা বাড়ানো, সেটা ছড়িয়ে দেয়া নিয়ে উনার মতো মনোযোগী, আগ্রহী প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ কখনো পেয়েছে কি না, আই অ্যাম ইন ডাউট।
তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা আরো দ্রুত এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
গণমাধ্যমকে সংবাদ প্রকাশে কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করা কোনো ব্যবস্থার বিষয় নয়, এটি মানসিকতার বিষয়। নিজের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি গ্রহণ করার মানসিকতা থাকতে হয়। গত ১৭ বছরে সমালোচনা শোনার সেই মানসিকতা ছিল না।
তিনি বলেন, গত ছয় মাসে সরকারের পক্ষ থেকে কিংবা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে কোনো নির্দিষ্টভাবে সংবাদ প্রকাশের নির্দেশনা দেয়া হয়নি। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেয়ার পর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকেও তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কাউকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে না এবং কারো মুখ বন্ধ করে দেয়া হবে না।
তিনি আরো বলেন, আপনারা গণতন্ত্রের আরেকটা স্তম্ভ। আপনারা আছেন বলেই আমরা এখানে আছি, আমরা আছি বলেই আপনারা আছেন। আমরা সবাই মিলেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।
নিউজ ডিকটেট বা কমেন্ট করার পজিশনে নেই
সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সরকার কোনো নির্দেশনা দিতে পারে না উল্লেখ করে আন্দালিভ রহমান বলেন, আপনারা যখনই নিউজ করবেন, অবশ্যই আপনাদের নিউজ আপনারা করবেন। আমরা আপনাদের নিউজ ডিকটেট বা কমেন্ট করার পজিশনে নেই।
তবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ১৭ বছর পর যে দায়িত্ব সরকার পেয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ের একটি। দীর্ঘ সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিস্টেম হ্যাজ বিন ক্রাপটেড।South Asians & Diaspora
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়নের প্রতিটিতে নয়টি করে ওয়ার্ড রয়েছে। ফলে প্রায় ৩৬ হাজার ওয়ার্ডে কোথাও না কোথাও কোনো না কোনো ছোটখাটো অপরাধ ঘটতে পারে। প্রতিটি ঘটনাকে সংবাদমাধ্যমের পাতায় তুলে ধরা হলে মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে দেশে কেউ স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছে না।
তিনি বলেন, আমাদেরও যেমন দায়িত্ব, অবশ্যই আপনারা আমাদের সমালোচনা করবেন বস্তুনিষ্ঠ। এটা কোনো কিছু না। কিন্তু এটা মাথায় রাখবেন যে, এটা কোনো স্বাভাবিক সময়ে আমরা সরকারের দায়িত্ব আসিনি।







