
নিজস্ব প্রতিবেদক
* রাজধানীর প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট
* জোরদার করা হয়েছে পিকেট ডিউটি
রাজধানীতে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেয়ার ঘটনায় নগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীজুড়ে বিশেষ অভিযান ও নজরদারি চলছে। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা শহরের প্রবেশপথ, গুরুত্বপূর্ণ মোড়, ফ্লাইওভার ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। একই সাথে সন্দেহজনক যানবাহন ও ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, নাশকতা বা অপরাধমূলক তৎপরতা প্রতিরোধে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনার পাশাপাশি নগরীর প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার দিন মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা শুরু হয়। ওই দিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার কয়েক ঘণ্টার পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। পরে রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পরপর তিনটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। এরপর শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা আরো বেড়েছে। দিন-রাত মিলিয়ে সে দিন রাজধানীর অন্তত আটটি স্থানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিস্ফোরণে একজন রিকশাচালক আহত হয়েছেন। একই সময়ে কাফরুল থানার সামনে একটি বাসে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া শুক্রবার বিকেলে মালিবাগ রেলগেটসংলগ্ন এলাকায়ও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। সন্ধ্যার দিকে মহাখালী ও আগারগাঁও এলাকাতেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নাকি এর পেছনে সমন্বিত কোনো পরিকল্পনা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, মহানগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা ও এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, ফ্লাইওভার ও প্রবেশপথগুলোতে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের পাশাপাশি প্রধান প্রবেশদ্বারগুলোতেও কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। নগরীর নিরাপত্তা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো এবং পিকেট ডিউটি জোরদার করা হয়েছে। একই সাথে নগরজুড়ে থানা মোবাইল পেট্রোল, ফুট পেট্রোল ও হোন্ডা পেট্রোলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। বড় ধরনের অপরাধ বা নাশকতা প্রতিরোধে মাঠে ডিবি, সিটিটিসি ও এপিবিএনের টিম মোতায়েন রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।







