
ডন
সৌদি আরব এবং ইয়েমেনের হাউছিদের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সাথে টেলিফোনে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। ফোনালাপে উভয় নেতা নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা এবং হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে বাণিজ্যিক নৌযানের নিরাপদ ও দ্রুত চলাচল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ফোনালাপের তথ্য নিশ্চিত করেছে। সেখানে বলা হয়, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক পরিস্থিতির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। আলোচনাকালে ইসহাক দার উল্লেখ করেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সামরিক পদক্ষেপের বদলে কূটনীতি ও সংলাপের পথ অনুসরণের বিষয়ে একমত প্রকাশ করেন দুই নেতা। একই সাথে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সমন্বয় বজায় রাখতে আগামী সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে একটি আলাদা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
জাতিসঙ্ঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমেদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক জাহাজে যেকোনো আক্রমণ বা চলাচলে বাধা সৃষ্টির পরিণতি কেবল সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এটি আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওপর প্রভাব ফেলে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি নতুন করে সৃষ্টি হওয়া টানাপড়েনের মধ্যে ইসলামাবাদ যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তা এই সামুদ্রিক নিরাপত্তা নীতির ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান তিনি। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতর বাব আল-মান্দাব প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সঙ্ঘটজনক বলে উল্লেখ করেছিল। অঞ্চলটিতে সঙ্ঘাত ছড়িয়ে পড়া এবং আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা বিঘিœত হওয়া নিয়ে ইসলামাবাদের গভীর উদ্বেগের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
অপর দিকে ওয়াশিংটনের সাথে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান এবং গত জুনে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর শর্তগুলো আবার কার্যকর করতে ইরানের কূটনৈতিক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।







