১১ দলের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ আজ
লংমার্চ উপলক্ষে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মিয়া গোলাম পরওয়ার নয়া দিগন্ত

খালিদ সাইফুল্লাহ

 

* ৫ পথসভা ও ২ সমাবেশ
* বহরে থাকবে হাজারের অধিক গাড়ি
 

আট দফা দাবিতে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ আজ। সকালে রাজধানীর মানিকমিয়া এভিনিউতে সমাবেশ শেষে রংপুরের দিকে যাত্রা শুরু করবে লংমার্চ বহর। পথে দুই সমাবেশ এবং পাঁচটি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বিরোধীদলীয় নেতাসহ ১১ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তৃতা করবেন। লংমার্চ সফলে দলগুলোর পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো এ লংমার্চও সফল হবে বলে আশা করছে ১১ দল। 
গত ৫ সেপ্টেম্বর গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সঙ্কট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সঙ্কীর্ণ দলীয়করণ বন্ধসহ ৬ দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা টু চট্টগ্রাম লংমার্চ করে। এ কর্মসূচিতে জনগণের ব্যাপক ঢল নামে। এসব দাবির সাথে আরো দু’টি দাবি যুক্ত হয়ে এবার ৮ দফা দাবিতে আজ শনিবার ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী লংমার্চ করছে ১১ দল। এ উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে জামায়াতসহ ১১ দল। গত কয়েক দিনে কেন্দ্রীয় নেতারা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা সফর করে সেখানকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। গত কয়েক দিনের মতো গতকালও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় লংমার্চ সফলে মিছিল ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। বিকেলে কেন্দ্রীয় নেতারা মানিকমিয়া এভিনিউয়ের সমাবেশ স্থলের সর্বশেষ প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন। এর আগে সকালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিভিন্ন বিভাগের প্রস্তুতির বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয় এবং দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গণমাধ্যমকে জানান, ঢাকা টু রংপুর লংমার্চ কর্মসূচির রুটে থাকা সকল জেলা ও মহানগরী শাখায়  ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। লংমার্চের বহর রংপুর অভিমুখে রওনা হওয়ার আগে সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। পরে সকাল ৮টার দিকে লংমার্চের বহর রওনা হয়ে পথে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জালপাই, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার মাটিডালির বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা হবে এবং সমাপনী সমাবেশ হবে রংপুরের জিলা স্কুল মাঠে। এজন্য সংশ্লিষ্ট শাখাকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। গত রাতে আমরা দায়িত্বশীলদের সাথে বৈঠক করেছি। জনগণের ব্যাপক সাড়া ও প্রশাসনের সহযোগিতা পাবো বলে আমাদের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন। 
তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও জনগণের আকাক্সক্ষা পূরণের লক্ষ্যে আমরা ৬ দফা দাবি নিয়ে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করেছি। বৃহস্পতিবার বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে উত্তরবঙ্গ অভিমুখী লংমার্চে ও অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের প্রাণের দাবির কারণে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। 
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব অথবা কোনো ভীতিতে রয়েছে তা অবিলম্বে দূর করে সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সবধরনের পদক্ষেপ যাতে গ্রহণ করেন সেজন্য আমরা দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করার জন্য এবং পথের ধারে অভিবাদন জানাতে কোটি কোটি মানুষ এখন প্রস্তুত। মহিলারাও রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাবে বলে আমরা খবর পেয়েছি। লংমার্চের বহরে হাজারের অধিক গাড়ি যুক্ত হবে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। গাড়িগুলোর জন্য নির্দেশনা প্রদান ও দায়িত্বশীল ঠিক করা হয়েছে। 
গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের প্রতি আমাদের আবেদন, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ লংমার্চে যেন কোনোভাবে বাধার সৃষ্টি বা অন্তরায় সৃষ্টি না করা হয়। আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের অনুরোধ করেছি যাতে তারা কারো উসকানি বা হাজারো উসকানিতে পা না দেন। চরম ধৈর্য ও সংযমের পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে আমাদের গণতান্ত্রিক কর্মসূচিকে আমরা সফল করব। আমরা যদি ক্ষতিগ্রস্ত হই, গায়ে যদি আঘাতও লাগে প্রতিশোধের চেয়ে লংমার্চ সফল করার মধ্যে সার্থকতা বেশি। এ জন্য সরকারি দল বিএনপি, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, গোয়েন্দা সংস্থা, ট্রাফিক, রাস্তার দুইধারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পথচারী, যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের সহযোগিতার জন্য অনুরোধ জানান তিনি। 
তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্র দেশ জাতি ও জনগণের আকাক্সক্ষা পূরণের জন্য যত আন্দোলন হয়েছে সেখানে এ দেশের মানুষ সাময়িক কষ্ট স্বীকার করেছে এবং অনেক দুর্ভোগ ও ভোগান্তি মেনে নিয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতি আমাদের বিশেষ আবেদন হলো লংমার্চের বহরে থাকা বিভিন্ন মিডিয়া হাউজ থেকে এসাইন হয়ে নিউজ কাভার করতে আসবেন, তাদের আমরা সবধরনের স্পেস দেয়ার চেষ্টা করব। আমরা তাদের সহযোগিতা কামনা করছি। মিডিয়ার গাড়িগুলো আমরা ফ্রি রাখব। ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চে দেশবাসী ও গণমাধ্যমসহ সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। লংমার্চে দেশবাসী ও ১১ দলের নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে সফল করার আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন ও ড. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ জাহিদুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা: ফখরুদ্দিন মানিক ও ইয়াসিন আরাফাত, ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ।
রংপুরে সংবাদ সম্মেলন 
রংপুর ব্যুরো জানায়, আজ ঢাকা থেকে রংপুরে আসবে ১১ দলের লংমার্চ। রংপুরের লংমার্চে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই হত্যাযজ্ঞের বিচার, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধসহ সাত দফার সাথে যোগ হয়েছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি। তিন হাজারেরও বেশি গাড়ি থাকবে লংমার্চ যাত্রায়। পথিমধ্যে পাঁচ জেলায় হবে সমাবেশ। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ১১ দল। 
শুক্রবার জুমআর নামাজের পর শাপলা চত্বরে জেলা ও মহানগর জামায়াত অফিসে লংমার্চের সবশেষ প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ১১ দলীয় জোট। এতে বক্তব্য রাখেন সমাবেশের সভাপতি রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির উপদেষ্টা সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, রংপুর দিনাজপুর অঞ্চল টিমের সহকারী পরিচালক মমতাজ উদ্দিন, ৩ আসনের এমপি মাহবুবুর রহমান বেলাল, মহানগর জামায়াত আমির এটিএম আজম খান, সেত্রেটারি আনোয়ারুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি এনামুল হক প্রমুখ।  
সংবাদ সম্মেলনে এটিএম আজহার বলেন, জামায়াত আমির, এনসিপি আহ্বায়কসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের বরণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাবেশের আয়োজন সম্পন্ন। এখানে সাত দফার সাথে রংপুরের মানুষের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে রংপুর পার্টে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি যুক্ত করা হয়েছে। এটা হচ্ছে অঞ্চলের মানুষের বাঁচা-মরার দাবি। এই দাবি বাস্তবায়ন করেই ঘরে ফিরবে ১১ দল। অন্য দাবিগুলো হলো গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংস্কার কাউন্সিল গঠন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার,  আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জ্বালানি ও সার সঙ্কট নিরসন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, দলীয়করণ বন্ধ করা, দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা। 
এটিএম আজহার এমপি বলেন, ‘চট্টগ্রামের লংমার্চে আমাদের টার্গেট ছিল এক হাজার গাড়ি। কিন্তু হয়েছে দেড় হাজারেরও বেশি। রংপুরের লংমার্চ নিয়ে আমরা বিপুল সাড়া পাচ্ছি। গাড়ি তালিকাভুক্ত শুরু হয়েছে। আশা করি তিন হাজারের বেশি গাড়িবহর হয়ে যাবে। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে গাড়ি তালিকাভুক্ত করেছেন এখনো হচ্ছে। 
মহানগর জামায়াত আমির এটিএম আজমখান জানান, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর)  সকাল ৭টায় ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে লংমার্চ শুরু হবে। সেখানে উদ্বোধনী সভা চলবে সকাল ৮টা পর্যন্ত। এরপর যাত্রা করে গাজীপুরের ভোগরাপাড়া, টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ, সিরাজগঞ্জ চৌরাস্তা, বগুড়ার চারমাথা ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৫টায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ হবে।
রংপুর-৩ আসনের এমপি মাহবুবুর রহমান বেলাল জানান, ‘লংমার্চের গাড়িবহর ছাড়াও বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নিবেন। আশা করছি, পাঁচ লাখের বেশি লোকের সমাগম হবে।’ 
এরই মধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে জিলা স্কুল মাঠ। পুরো নগরীজুড়ে টানানো হয়েছে ৩০০ মাইক। ৩৫টি স্থানে দেয়া হয়েছে এলইডি স্কিন। ৩০টি স্থানে লংমার্চের সাথে থাকা গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এজন্য বিভিন্ন রুটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে মহানগর পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ১১ দলের ভলান্টিয়াররা মাঠে কাজ করবে। 
সমাবেশে জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি। 
সিরাজগঞ্জে ব্যাপক প্রস্তুতি
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী লংমার্চকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। কর্মসূচি সফল করতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে পৃথকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এ লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, লংমার্চের গাড়িবহর দুপুর ১২টার দিকে হাটিকুমরুলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে পথসভা ও জোহরের নামাজের বিরতি দেয়া হবে।
এ উপলক্ষে হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জসংলগ্ন বগুড়া মহাসড়কের পাশে অস্থায়ী মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। মঞ্চে মাইক স্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কর্মসূচিকে ঘিরে এক দিনের জন্য বৈদ্যুতিক মিটারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে স্থানীয় জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন।
লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের ব্যবস্থাপনায় পানি সরবরাহ, শৃঙ্খলা রক্ষা ও সহযোগিতার জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া আগত মানুষের সুবিধার্থে প্রায় ৫০টি অস্থায়ী শৌচাগার স্থাপন করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহীনুর আলম  বলেন, লংমার্চ উপলক্ষে তাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। হাটিকুমরুল পথসভায় এক লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে বলে তারা আশা করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আগতদের সহযোগিতায় এক হাজার পাঁচ শত  স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করবেন।
এ দিকে লংমার্চকে কেন্দ্র করে হাটিকুমরুল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও সলঙ্গা থানা পুলিশের সমন্বয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচির দিন হাটিকুমরুল ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ৫০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। গাড়িবহরের চলাচল, পথসভাস্থল, গুরুত্বপূর্ণ মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। লংমার্চের দিন পুলিশ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।