এআইটি অ্যালামনাই অ্যাওয়ার্ড পেলেন পাবিপ্রবি প্রোভিসি নজরুল ইসলাম

পাবিপ্রবি প্রতিনিধি

উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘ডিস্টিংগুইশড এআইটি অ্যালামনাই অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’  পেয়েছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো: নজরুল ইসলাম।
এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এআইটি) থেকে ২০০২ সালে পাল্প অ্যান্ড পেপার টেকনোলজি বিষয়ে দ্বিতীয় মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন অধ্যাপক ড. মো: নজরুল ইসলাম। পরে ২০০৮  সালে জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটি অব অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (টিইউএটি) থেকে পিএইচডি লাভ করেন। একই প্রতিষ্ঠানে জেএসপিএস পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবেও কাজ করেন তিনি। এ ছাড়া কানাডার ইউনিভার্সিটি অব কুইবেক এবং মালয়েশিয়ার দু’টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেছেন। এআইটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অ্যাকাডেমিক ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়।
অ্যাওয়ার্ড ঘোষণায় বলা হয়, অধ্যাপক ড. মো: নজরুল ইসলাম দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়নে অবদান রেখে আসছেন। টেকসই বনজ পণ্য, জৈবভিত্তিক উপকরণ, ন্যানোটেকনোলজি, জলবায়ু সহনশীলতা ও সার্কুলার বায়োইকোনমি নিয়ে তার গবেষণায় ১০০টির বেশি গবেষণা প্রকাশনা ও পাঁচটি পেটেন্ট রয়েছে।
এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা প্রকল্পে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাকেও গবেষণাভিত্তিক পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এ সময় আরো উল্লেখ করা হয়, অধ্যাপক ড. মো: নজরুল ইসলাম স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন। পাশাপাশি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘বেস্ট রিসার্চার অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন তিনি।
অধ্যাপক ড. মো: নজরুল ইসলামের গবেষণার অন্যতম ক্ষেত্র হলো টেকসই জীবনব্যবস্থা উন্নয়ন, বায়োবেজড কম্পোজিটস, কাঠ সংরক্ষণ, বায়ো-আঠা এবং উদ্ভিদসম্পদ থেকে কাগজজাত পণ্য উৎপাদন। তার গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছে।
অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে অধ্যাপক ড. মো: নজরুল ইসলাম বলেন, “এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এআইটি) থেকে ‘ডিস্টিংগুইশড এআইটি অ্যালামনাই অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। এ স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকারকে আরো দৃঢ় করে। আমার কর্মজীবনে দেখেছি, এআইটির আন্তঃবিষয়ক গবেষণার কাঠামো তাত্ত্বিক গবেষণা ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করে। জলবায়ু অভিযোজন, টেকসই অবকাঠামো কিংবা সম্পদ ব্যবস্থাপনা সব ক্ষেত্রেই গবেষণার ফলাফলকে বাস্তব ও কার্যকর সমাধানে রূপ দেওয়া জরুরি।” তিনি আরো বলেন, ‘প্রকৃত অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষ তখনই অর্জিত হয়, যখন গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে মানুষের জীবন ও সমাজের জন্য কার্যকর সমাধানে রূপান্তর করা যায়। ভবিষ্যতে জটিল পরিবেশগত ও উন্নয়নগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্ভাবন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার এই ধারাকে আরো শক্তিশালী করতে হবে।’