
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) স্থানীয় সরকার নির্বাচন এককভাবে করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ল্েয উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক কমিটি গঠনের কাজও এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারিতেই দলটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেয়ার কথা জানিয়েছিল এবং এ জন্য ছয় সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করে। কমিটির চেয়ারম্যান করা হয় দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে এনসিপি জানায়, ইতোমধ্যে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি মাসে আরো ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করার প্রস্তুতি চলছে। একই সময়ে সিটি করপোরেশনগুলোর জন্যও প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে । সারজিস আলম জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে দল-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী দেয়ার ল্য নিয়ে কাজ চলছে। নভেম্বরের শুরুর দিকেই প্রায় চার হাজার ৬০০ ইউনিয়নের প্রার্থী ঘোষণা করার ল্েযর কথাও তিনি জানিয়েছেন।
ইউনিয়ন পর্যায়ে সংগঠন গড়ার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। সারজিস আলম বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হবে এবং প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী দেয়ার ল্য রয়েছে। এর পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের সংগঠন শক্তিশালী করার জন্য সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের ল্য আছে । নতুন উপজেলা কমিটিগুলোকে ইউনিয়ন পর্যায়ে সংগঠন গড়ে তোলার দায়িত্বও দেয়া হয়েছে।
দলটির নেতারা বলছেন, স্থানীয় নির্বাচনকে শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের বিষয় হিসেবে দেখছেন না তারা। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে দলের সংগঠন, নেতৃত্ব ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ল্য রয়েছে। এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানিয়েছেন, স্থানীয় নির্বাচনে দলকে এককভাবে শক্তিশালী করাই তাদের বর্তমান অবস্থান। নির্বাচনের আগে প্রার্থী ও স্থানীয় সংগঠনকে পরিচিত করার জন্য বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। প্রার্থী বাছাইয়েও স্থানীয় পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। উপজেলা পর্যায়ের নেতৃত্ব বাছাইয়ের েেত্র বয়সসীমা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, নারী প্রতিনিধিত্ব এবং স্থানীয় ধর্মীয় ও জাতিগত বৈচিত্র্য বিবেচনার নির্দেশনা রয়েছে।
এ দিকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। গত ১৩ সেপ্টেম্বর দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।
দুই সিটির ওয়ার্ডগুলোতেও কাউন্সিলর প্রার্থী বাছাই করছে এনসিপি। ১৩ সেপ্টেম্বরের সভায় নাহিদ ইসলাম সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিজ নিজ এলাকার নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করে প্রচারের বিষয়বস্তু নির্ধারণের নির্দেশ দেন।
সারজিস আলম বলেন, বিজয়ী হওয়াটাকেই একমাত্র ল্য না ধরে প্রত্যেকটি েেত্র প্রার্থী ঘোষণা করে লড়াই করা এবং নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক অগ্রযাত্রায় সুদৃঢ় ভিত্তি তৈরি করতে এনসিপি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী স্থানীয় নির্বাচনে বিজয়ী নির্ধারণে এনসিপি হয়ে উঠবে ডিসিশন মেকার।
জাতীয় নির্বাচনে এনসিপি ১১ দলীয় জোটের সাথে আসন সমঝোতার মাধ্যমে অংশ নিলেও স্থানীয় নির্বাচনের েেত্র দলটির প্রকাশ্য অবস্থান আলাদা। এনসিপির নেতারা জানিয়েছেন, স্থানীয় নির্বাচনে জোটের শরিকরা নিজ নিজ প্রার্থী নিয়ে মাঠে থাকবে। তবে ভোটকেন্দ্র দখল বা ভোটে কারচুপির মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে রাজনৈতিকভাবে সমন্বয় করা হবে।
জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশনগুলোয় সমঝোতা করলে নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারেÑএমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ১১ দলের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে। অর্থাৎ এখনকার প্রকাশ্য প্রস্তুতি এককভাবে হলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়া হয়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের অধ্যাপক সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, এনসিপির সামনে অবশ্য সাংগঠনিক সমতার প্রশ্নটিই বড়। জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচিতি, সামাজিক সম্পর্ক, দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় পর্যায়ের কর্মী-সমর্থকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী দেয়ার পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে সংগঠন, কর্মী, এজেন্ট এবং ভোটের দিন মাঠে থাকার সমতা তৈরি করতে হবে। নতুন দল হিসেবে এত বড় পরিসরে এ কাঠামো তৈরি করা এনসিপির জন্য বড় সাংগঠনিক কাজ।







