
তরুণ গবেষক, লেখক ও ইসলামী বক্তা মুফতি আলী হাসান উসামা বলেছেন, ‘ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে রাসুলুল্লাহ সা:-এর আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্যেই মানবজাতির প্রকৃত শান্তি ও কল্যাণ নিহিত রয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে যশোরের মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে সীরাতুন্নবী সা: মাহফিলে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মুফতি আলী হাসান উসামা বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা: শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর জীবন ছিল সত্য, ন্যায়,
ইনসাফ, মানবিকতা ও আল্লাহভীতির অনন্য দৃষ্টান্ত।
মুফতি উসামা বলেন, মহানবী সা: অন্ধকারাচ্ছন্ন আরব সমাজকে ঈমান, তাকওয়া, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের আলোয় আলোকিত করেছিলেন। তিনি মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন। জুলুম-অত্যাচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এবং অসহায় মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার শিক্ষা দিয়েছেন। বর্তমান সঙ্কটময় সময়ে তাই সীরাতুন্নবী সা: অধ্যয়ন এবং তাঁর আদর্শ ব্যক্তি ও সমাজজীবনে বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা:-এর জীবন কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় আদর্শ। তাঁর জীবনে সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা, ক্ষমাশীলতা, দয়া, ধৈর্য ও ন্যায়পরায়ণতার অনন্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। সীরাতুন্নবী সা: মাহফিলের উদ্দেশ্য শুধু রাসূল সা:-এর প্রশংসা করা নয়, বরং তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে পরিবর্তন আনা। পরিবারে উত্তম আচরণ, প্রতিবেশীর অধিকার, দরিদ্র ও অসহায়ের প্রতি দায়িত্ব, ব্যবসা-বাণিজ্যে সততা এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মহানবী সা:-এর আদর্শ বাস্তবায়ন করতে হবে।
মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির ও যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) অধ্যাপক গোলাম রসুল।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপি বলেন, ‘মহানবী সা:-এর সীরাত আমাদের জীবনের পূর্ণাঙ্গ পথ নির্দেশনা। তাঁর আদর্শ ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিষ্ঠা করতে পারলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, ন্যায়বোধ ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি পাবে।’
এমপি গোলাম রসুল বলেন, ‘নৈতিক অবক্ষয়, মাদক, অপরাধ, পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে মহানবী সা:-এর জীবন ও চরিত্রের সাথে পরিচিত করতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘১০ অক্টোবর কেন্দ্র ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচিকে সফল করতে যশোরসহ খুলনা বিভাগের প্রতিটি জেলা-উপজেলা থেকে শান্তিপূর্ণভাবে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। নেতা-কর্মীদের শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার সাথে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের উসকানি বা বিশৃঙ্খলায় না গিয়ে জনগণের দাবি জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে।’
মাহফিলে যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোক্তার আলী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিকী, সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, গোলাম কুদ্দুস, মাওলানা রেজাউল করিম, ভিপি আব্দুল কাদের, অধ্যাপক আবুল হাশিম রেজা, অফিস সেক্রেটারি নূর-ই আলী নূর মামুন, সাবেক নায়েবে আমির আব্দুল আজিজ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।







