
ফেনী অফিস
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নের ভারত সীমান্তসংলগ্ন পেঁছিবাড়িয়া এলাকায় সিলোনিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ হুমকিতে পড়ার পাশাপাশি নদীভাঙনের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ১৫ দিন ধরে পেঁছিবাড়িয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প ও জামে মসজিদের সামনের নদী থেকে বালু তোলা হচ্ছে। প্রথম দিকে আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করা হলেও গত এক সপ্তাহ ধরে জামে মসজিদসংলগ্ন এলাকা থেকে তা তোলা হচ্ছে। এ ঘটনায় গত সোমবার উপজেলা প্রশাসন দুই দফা অভিযান চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, পেঁছিবাড়িয়া জামে মসজিদের সামনে বিপুল পরিমাণ বালু স্তূপ করে রাখা হয়েছে। কয়েকটি পিকআপে শ্রমিকরা বালু তুলছিলেন। সেখানে ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক শাহাদাত মজুমদার ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া ফারুককে দেখা যায়। নদীর তীরে পাইপলাইন ও ড্রেজারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পাওয়া গেলেও অভিযানের সময় ড্রেজার মেশিনটি সেখানে ছিল না। পরে কয়েকটি পিকআপ ও শ্রমিককে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফারুক ও শাহাদাত ছাড়াও বিএনপি ও ছাত্রদলের আরো কয়েকজন নেতা বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত। তবে তাদের এ অভিযোগের বিষয়ে অন্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বালু উত্তোলনের বিষয়ে হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া ফারুক বলেন, গত তিন দিন শুধু বালু তোলা হয়েছে। মূলত জিওব্যাগের জন্য বালু নেয়া হচ্ছে। আশপাশে গাড়ি যাওয়ার জায়গা না থাকায় এখান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল আলম স্বপন বলেন, এটি সরকারি কাজের জন্য নেয়া হচ্ছে। প্রশাসনের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রতি ঘনফুট বালুর জন্য ৫০ পয়সা করে দেয়ার কথা রয়েছে। বালু বিক্রি করা হচ্ছে না।
উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবুল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, সিলোনিয়া নদীতে জরুরি সরকারি কাজের জন্য বালু নেয়া হচ্ছে। প্রতি ঘনফুটে ৫০ পয়সা করে জেলা প্রশাসনকে দেয়ার কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহেলী নোশীন প্রত্যাশা বলেন, অভিযোগ পেয়ে লোক পাঠানো হয়েছিল। তখন সেখানে ড্রেজার পাওয়া যায়নি। এরপরও আবার অভিযান পরিচালনা করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাউছার হামিদ বলেন, খবর পেয়ে এসিল্যান্ডকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।







