আরব দলগুলোর সমর্থন,  নেতানিয়াহুবিরোধী সরকার,  জয়েন্ট লিস্ট, বিরোধী জোট, হামাস, সন্ত্রাসী সংগঠন নয়,চেয়ারম্যান,
২০ অক্টোবর ২০২৬ হাইফায় সংবাদ সম্মেলনে জয়েন্ট লিস্টের এমপি আহমাদ তিবি (বাঁয়ে) ও দলটির চেয়ারম্যান ইউসেফ জাবারিন। সংগৃহীত

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী দলগুলোর সরকার গঠনে বাইরে থেকে সমর্থন দিতে প্রস্তুত আরব দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্ট। তবে নতুন সরকারে সরাসরি যোগ দিতে চায় না তারা। জোটের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আহমাদ তিবি শনিবার এ কথা জানিয়েছেন।

Advertisement

ইসরাইলি ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইসরাইল  দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল ১২-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানায,  তিবি বিরোধী জোটের প্রধান নেতা গাদি আইজেনকোটকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আইজাক রবিনের দৃষ্টান্ত মেনে নেয়ার আহ্বান জানান। রবিন ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা বা পিএলওর সাথে অসলো চুক্তি পাস করাতে আরব এমপিদের ভোটের ওপর নির্ভর করেছিলেন।

তিবি বলেন, ‘এই ভয়াবহ সরকারকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠন করতে যারা চায়, আমরা তাদের সহায়তা করতে প্রস্তুত। পরিবর্তন ও নতুন আশায় অংশ হতে চাই।’ তবে তিনি স্পষ্ট করেন, জয়েন্ট লিস্ট সরকারে যোগ দেবে না। মন্ত্রিত্ব বা মন্ত্রিসভার কোনো পদ পাওয়া  নিয়ে কোনো আশা করছেন  না। 

মঙ্গলবারের নির্বাচনে তিনটি আরব দলের সমন্বয়ে গঠিত জয়েন্ট লিস্ট ১১টি আসন পেয়েছে। অন্য আরব দল রা'আম পেয়েছে আটটি। সব মিলিয়ে আরব দলগুলোর আসন ১৯। নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলোর মোট আসন ৬৭। ১২০ আসনের নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তাদের আরব দলগুলোর সমর্থন প্রয়োজন। তবে ইয়াশার, বি'ইয়াচাদ ও ইসরাইল বেইতেনু আরব দলগুলোর সাথে জোট সরকার গঠনে রাজি নয়।

তিবি জানান, প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে প্রধানমন্ত্রী পদে নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের কোনো প্রার্থীকে মনোনীত করার সুপারিশ করবে জয়েন্ট লিস্ট। এ ছাড়া লিকুদ দলের নেসেট স্পিকার আমির ওহানাকে অপসারণ এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ও হত্যাকাণ্ড তদন্তে রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠনের প্রস্তাবেও সমর্থন দেবে তারা। ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এসব উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিরোধীদের।

এদিকে জয়েন্ট লিস্টের চেয়ারম্যান ইউসেফ জাবারিন জানিয়েছেন, বিরোধী দলগুলোর নেতাদের সাথে প্রাথমিক যোগাযোগ শুরু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আইজেনকোট, ডেমোক্র্যাটস নেতা ইয়ার গোলান এবং নাফতালি বেনেতের বি'ইয়াচাদ দলের কয়েকজন নেতা। তবে আভিগদর লিবারম্যানের সাথে এখনো যোগাযোগ হয়নি।

২০২২ সালের নির্বাচনে আরব ভোট পড়েছিল ৩৮ শতাংশ। এবার তা বেড়ে প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে। জাবারিনের মতে, নেতানিয়াহু, জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচকে ক্ষমতা থেকে সরানো এবং আরবদের বিরুদ্ধে উসকানি ও বেড়ে চলা অপরাধের জবাব দিতেই ভোটাররা বিপুল সংখ্যায় ভোট দিয়েছেন।

তবে বিরোধীদের সমর্থনের বিনিময়ে জয়েন্ট লিস্টের কিছু শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কূটনৈতিক উদ্যোগ, আরব অধ্যুষিত পৌরসভাগুলোতে সহিংস অপরাধ কমাতে বাজেটসহ পরিকল্পনা এবং বাড়িঘর ভাঙা বন্ধের দাবি রয়েছে।

কাতার আরব ভোট বাড়াতে নির্বাচনে অর্থ ঢেলেছে—এমন অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছেন জাবারিন। তিনি একে ‘বিপজ্জনক অপপ্রচার’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর পাল্টা দাবি, নির্বাচনে হস্তক্ষেপের একমাত্র উদাহরণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন।

৭ অক্টোবরের হামলা ও হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করেছে জয়েন্ট লিস্ট—এ কথা জানালেও হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলতে রাজি হননি জাবারিন। বারবার প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘প্রিয়, আমি কোনো জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে নেই।’

ইসরাইলি সামরিক বাহিনীতে আরবদের বাধ্যতামূলক সামরিক বা জাতীয় সেবারও বিরোধিতা করেন জাবারিন। তাঁর মতে, রাষ্ট্র ও আরব সম্প্রদায়ের নেতৃত্বের মধ্যে প্রকৃত সংলাপের অভাবই এ ক্ষেত্রে বড় সমস্যা।