ইসরাইল
নেতানিয়াহুকে হটিয়ে ব্যাপকভিত্তিক সরকার গঠনের অঙ্গীকার বিরোধী নেতার। সংগৃহীত

ইসরাইলের বিরোধী দল ‘য়াশার’ পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোট শনিবার জানিয়েছেন, তিনি ফের নির্বাচন এড়াতে একটি বিস্তৃত নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে কাজ করবেন।

Advertisement

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম 'ওয়াইনেট'-এর বরাতে জানা যায়, বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদের সাথে বৈঠকের পর দেয়া এক বিবৃতিতে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত অনির্ধারিত বা অস্পষ্ট পার্লামেন্টারি নির্বাচনের পর আইজেনকোট তার জোট গঠনের শর্ত ও অগ্রাধিকারের রূপরেখা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, 'এই নীতিগুলোর ভিত্তিতে আমি জাতীয় স্বার্থে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি বিস্তৃত জায়নবাদী সরকার গঠন করতে চাই।'

ভবিষ্যৎ জোটে যোগদানের জন্য আইজেনকোট চারটি শর্ত পুনর্ব্যক্ত করেন : 'ইসরাইলকে একটি ইহুদি, গণতান্ত্রিক, উদারপন্থী ও সমতাবাদী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান; ইসরাইলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল্যবোধের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা; সব ইসরাইলি নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক, জাতীয় বা বেসামরিক সেবা; এবং হামাসকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে গাজায় তাদের সামরিক ও প্রশাসনিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেয়া।'

তিনি আরো বলেন, 'আমরা যে সরকার গঠন করব তার দরজা এমন যেকোনো নির্বাচিত প্রতিনিধির জন্য উন্মুক্ত থাকবে যিনি এই নীতিগুলো মেনে নেবেন এবং দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত থাকবেন।'

'জনগণ তাদের রায় দিয়ে দিয়েছে'

উচ্চ ভোটদানের হার এবং ইসরাইলের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি রাজনৈতিক সহযোগীদের সাথে সমন্বয় বজায় রাখা ও সহযোগিতা জোরদার করার অঙ্গীকার করেন, যাতে আবার কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজন না পড়ে।

আইজেনকোট বলেন, '২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে জনগণ তাদের রায় দিয়ে দিয়েছে। ইসরাইলের পরবর্তী সরকারের গঠন কেমন হবে তা বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ বা কারচুপি ছাড়াই কেবল ইসরাইলি নাগরিকদের দ্বারা নির্ধারিত হওয়া উচিত।'

তার তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে—একটি রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা, সকল নাগরিকের জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক করা, সামরিক বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং সেনাবাহিনীতে নিয়োজিতদের সুযোগ-সুবিধা ও স্বীকৃতি বৃদ্ধি করা।

তিনি বর্তমান সরকারের বিতর্কিত বিচার বিভাগীয় সংস্কার-সংক্রান্ত আইনগুলো বাতিল করারও অঙ্গীকার করেন।

'কেউ যেন আপনাদের বিভ্রান্ত করতে না পারে : ইসরাইলে নেসেট (পার্লামেন্ট)-ই সরকারকে আস্থা ভোট দেয়, এর উল্টোটা নয়,' বলেন তিনি।

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে আইজেনকোট বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে পর্যন্ত তার সমর্থন সীমিত থাকবে।

তিনি স্পষ্ট করেন, 'নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমি কেবল ইসরাইলের ওপর সরাসরি ও তাৎক্ষণিক হুমকির জবাবেই সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করব, যা সরকার শপথ নেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার সুযোগ রাখে না।'

চূড়ান্ত নেসেট নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর তার এই মন্তব্য এলো, যেখানে ১২০ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন, আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি এবং ফিলিস্তিনি আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন।

কোনো প্রধান জোটই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

সূত্র : আনাদুলু অ্যাজেন্সি