
ইউক্রেনের কাছ থেকে ইরানি ও রুশ অস্ত্রের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে ইসরাইল। এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার ব্যবহৃত হামলাকারী ড্রোনও। ইউক্রেনে নিযুক্ত ইসরাইলের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইকেল ব্রডস্কি এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর মতে, দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ছে। বিশেষ করে ইরানের অস্ত্র ও রুশ ড্রোন নিয়ে গবেষণায় তারা একসাথে কাজ করছে।
ইসরাইলি দৈনিক জেরুজালেম পোস্ট সম্প্রতি জানায়, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইউক্রেনের সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠকে এসব কথা বলেন ব্রডস্কি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র নিয়ে দুই দেশ কাজ করছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। পরীক্ষার জন্য ইউক্রেন থেকে ইসরাইল কয়েক ধরনের অস্ত্রও পেয়েছে। তবে কোন কোন অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়েছে, তা জানাননি তিনি।
ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনের দেয়া রুশ হামলাকারী ড্রোনের নমুনা পরীক্ষা করছে ইসরাইল। এর মধ্যে রয়েছে ‘গেরান’ পরিবারের নতুন মডেলের ড্রোন। এগুলো ইরানের ‘শাহেদ’ ড্রোনের প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে বানানো।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারাও ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম মারিভকে এ সহযোগিতার কথা নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, এ তৎপরতার শুরুর দিকে ইউক্রেন ইরানে তৈরি একটি ‘শাহেদ’ ড্রোন ইসরাইলের কাছে হস্তান্তর করে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যাপকভাবে এসব ড্রোন ব্যবহার করেছে রাশিয়া।
ড্রোন ঠেকাতে নতুন প্রযুক্তি তালাশ করছে ইসরাইল
ব্রডস্কি জানান, ড্রোন প্রতিরোধে লেজারভিত্তিক ব্যবস্থা ও অন্যান্য প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে ইসরাইল। তবে সব ধরনের ড্রোন ঠেকাতে পারে, এমন কার্যকর কোনো সমাধান এখনো তৈরি হয়নি বলে মনে করেন তিনি।
ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আজ সারা বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো চালকহীন আকাশযান বা ড্রোন। যে দেশ প্রথম কার্যকর সমাধান বের করতে পারবে, তারা বড় ধরনের সুবিধা পাবে। পরে অন্য দেশগুলোও সেই সমাধান লুফে নেবে।’
যুদ্ধ চলাকালে রাশিয়া বারবার নিজেদের অস্ত্রের নকশা ও কাজের ধরনে পরিবর্তন এনেছে। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করতে নতুন নতুন কৌশল নিয়েছে। বদলেছে হামলার ধরন ও মাত্রাও। এর জবাবে ইউক্রেন ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করার ব্যবস্থা আরো উন্নত করেছে।
ইরান ও তার মিত্ররা একই ধরনের প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি অস্ত্র ব্যবহার করে। এ কারণে যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা ইসরাইলের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির দেয়া ড্রোনের নমুনা পরীক্ষা করে রাশিয়া কী কী পরিবর্তন এনেছে, তা আরো ভালোভাবে বুঝতে পারবেন ইসরাইলি গবেষকেরা। পাশাপাশি এসব ড্রোন ঠেকানোর নতুন উপায়ও খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।
অন্যদিকে, ইসরাইলের অভিজ্ঞতা থেকেও লাভবান হতে পারে ইউক্রেন। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন সামরিক হুমকি মোকাবেলায় ইসরাইলের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তেলআবিবের গোয়েন্দা দক্ষতা ও উন্নত প্রযুক্তিও ইউক্রেনের কাজে আসতে পারে।
তেলআবিব ও কিয়েভের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য, সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে মূল্যায়ন এবং সামরিক অভিযানের অভিজ্ঞতা বিনিময়—সবই দুই দেশের কাজে আসতে পারে। এভাবে তাদের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতাও আরো জোরদার হতে পারে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








