
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, চলমান যুদ্ধ বন্ধে ইরানের দেয়া সাতটি শর্তের কয়েকটি মেনে নিলেও যুক্তরাষ্ট্রের ছাড় যথেষ্ট নয়। তেহরানের দাবি পূরণে ওয়াশিংটনকে আরো তৎপর হতে হবে বলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন।
ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি সোমবার (১২ অক্টোবর) জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে রেজায়ি বলেন, ইরানের কূটনীতি বদলে গেছে। আগের অবস্থায় আর ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে খণ্ডিত বা নামমাত্র ছাড় নয়, ইরানের সব শর্তের পূর্ণ বাস্তবায়ন চায় তেহরান।
আরেকটি পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেন রেজায়ি। তিনি বলেন, ‘ইরানকে জয় করার অলীক কল্পনায় বিভোর ট্রাম্প নেতানিয়াহুর প্রতারণার শিকার হয়ে মানব ইতিহাসের অন্যতম নির্বোধ যুদ্ধ শুরু করেছিলেন।’
যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে রেজায়ি বলেন, হরমুজ প্রণালী আবার চালু করতে মার্কিন নৌবহর ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প এখন চোরাচালানের আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনী কখনো এতটা লজ্জাজনক অবস্থায় পড়েনি!’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসী যুদ্ধ বন্ধের কাঠামো হিসেবে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। এতে যুক্তরাষ্ট্র অবৈধ নৌ অবরোধ তুলে নেয়া, ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা এবং সামরিক অভিযান বন্ধ করতে সম্মত হয়। বিনিময়ে ধাপে ধাপে সামুদ্রিক চলাচল স্বাভাবিক করার কথা ছিল। সমঝোতায় বলা হয়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরুর আগে ইরানের সাথে সমন্বয় করতে হবে এবং তেহরানের অনুমোদন নিতে হবে।’
তবে ইরানের কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় না করেই প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে মার্কিন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অনুমোদনহীন জাহাজ আটকে দিয়েছে এবং যুদ্ধকালীন প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কার্যকর করেছে। ইরানের সাতটি শর্ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার কথা ব্যক্ত করেছে তেহরান।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








