
তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের বাইরে এক কিশোর গুলি চালালে ১১ জন আহত হয়েছে। পরে পুলিশ তাকে আটক করে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে মানিসা প্রদেশের তুরগুতলুতে এ ঘটনা ঘটে। এলাকাটি পশ্চিমাঞ্চলের পর্যটন শহর ইজমিরের কাছে। প্রাদেশিক গভর্নরের কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
তুরস্কে স্কুলে গুলিবর্ষণের ঘটনা বিরল। তবে গত এপ্রিলে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে পরপর দু’দিন দু’টি হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘১১ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে দু’জন গুরুতর আহত। হামলাকারী কিশোরকে দ্রুত শনাক্ত করে হেফাজতে নেয়া হয়েছে।’
তিনি জানান, হামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের মা-বাবা ও দাদাকেও আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। আতঙ্কিত অভিভাবকরাও সেখানে জড়ো হন।
সিসিটিভির একটি ভিডিওতে কালো জিন্স, কালো জ্যাকেট ও সবুজ পোশাক পরা এক তরুণকে রাস্তায় হেঁটে যেতে দেখা যায়। তার হাতে লম্বা নলের একটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রকাশিত একটি ছবিতেও একই ব্যক্তির বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ওই ছবিতে তাকে দৌড়াতে দেখা যায়।
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি জানিয়েছে, অস্ত্রটি ছিল শটগান।
স্কুলের বাইরে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা শার্ট পরা এক ব্যক্তিকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। এ সময় এক নারীকে চিৎকার করতে দেখা যায়। দর্শনার্থীরা স্কুলের বেড়ার পাশে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন।
গুরলেক জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
তিনি এক্সে লিখেছেন, ‘হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি কিভাবে কিশোরটির হাতে গেল, অস্ত্রটি কিভাবে সংরক্ষণ ও তদারকি করা হয়েছিল এবং ঘটনার আগে তাকে হয়রানি করা হয়েছিল কি না- এসব বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ওই বিদ্যালয়ে দিনের সব ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে।
তুরস্কের স্কুলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টির পাঁচ মাস পর এ হামলা হলো। গত এপ্রিলে পরপর দু’টি স্কুলে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
এপ্রিল মাসে দক্ষিণাঞ্চলীয় কাহরামানমারাশ প্রদেশের একটি স্কুলে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর গুলি চালায়। এতে একজন শিক্ষক এবং ১০ ও ১১ বছর বয়সী ৯ শিক্ষার্থী নিহত হয়। ঘটনাস্থলেই হামলাকারীর মৃত্যু হয়।
এর এক দিন আগে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সানলিউরফা প্রদেশে এক কিশোর তার সাবেক উচ্চ বিদ্যালয়ে গুলি চালায়। এতে ১৬ জন আহত হয়।
পরপর ওই দুই হামলার পর প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান এক উপশিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করেন। একইসাথে তার সরকার আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানায় আরো কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার এক দিন পর এ হামলা হলো। শিক্ষাবর্ষটি শুরু হয়েছে ১৪ সেপ্টেম্বর। এর এক দিন আগে শিক্ষামন্ত্রী ইউসুফ তেকিন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা চিফতচি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্ধারণ করে একটি প্রটোকলে স্বাক্ষর করেন।
তিনি জানান, প্রথমবারের মতো ৩১ হাজার স্কুল নিরাপত্তা তদারককারী নিয়োগ করা হয়েছে।
মুস্তাফা বলেন, মন্ত্রণালয় স্কুলগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে মূল্যায়ন করেছে। প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলগুলোতে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা সেখানে স্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত স্কুলগুলোতে পুলিশ লিয়াজোঁ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে কাজ করবেন।
সূত্র : বাসস








