হিফজ
রেডিও শুনে শুনেই হাফেজা হয়েছেন সত্তরোর্ধ এই ২ নারী। নয়া দিগন্ত

অক্ষরজ্ঞান নেই, পড়তে বা লিখতেও পারেন না। তবে কোরআনের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে রেডিওতে তেলাওয়াত শুনে শুনে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করেছেন মিসরের সত্তরোর্ধ নারী সুকরা। 

Advertisement

একই বয়সে প্রায় এক দশকের সাধনা ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে পুরো কোরআন হিফজ করেছেন তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী সানা। কোরআন হিফজের তাদের এ ব্যতিক্রমী ঘটনা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

আরবি সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ মিসর জানায়, মিসরের মেনুফিয়া প্রদেশের বাসিন্দা সুকরা ৫০ বছর বয়সে কোরআন হিফজ শুরু করেন। গ্রামের এক নারী তাকে কোরআন মুখস্থ করতে উৎসাহিত করেন। শুরুতে তিনি প্রতিদিন মাত্র দুই আয়াত মুখস্থ করতেন এবং সারা দিন সেগুলো বারবার পড়তেন। পড়তে ও লিখতে না পারায় রেডিওতে কোরআন তেলাওয়াত শোনা এবং হিফজের আসরে অংশ নেয়াই ছিল তার প্রধান অবলম্বন। 

তার মরহুম স্বামীও তাকে নিয়মিত উৎসাহ দিতেন এবং তার অর্জন নিয়ে গর্ব করতেন। স্বামীর মৃত্যুর সময় সুকরার ১৬ পারা মুখস্থ ছিল। এরপরও একপর্যায়ে হিফজ অব্যাহত রেখে তিনি পুরো কোরআন মুখস্থ সম্পন্ন করেন।

অন্যদিকে, সানা ছোটবেলা থেকেই কোরআন হিফজের স্বপ্ন দেখতেন। পারিবারিক দায়িত্ব ও সন্তানদের বড় করার পর তিনি এতে আরো বেশি মনোযোগী হন। প্রায় ১০ বছর ধরে নিয়মিত প্রচেষ্টায় অবশেষে তিনি পুরো কোরআন হিফজ করতে সক্ষম হন।

হিফজের সময় সানার স্বামীও তাকে নিয়মিত সহযোগিতা করতেন। প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর তিনি স্বামীর কাছে মুখস্থ অংশটুকু শোনাতেন। এভাবে প্রায় এক দশকের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় তার কোরআন হিফজ সম্পন্ন হয়।

সম্প্রতি এক বৈঠকে প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে পুরো কোরআন তেলাওয়াত করেছেন সানা। একইসাথে সুকরা ও সানা বর্তমানে প্রতিদিন পাঁচ পারা করে পরস্পর কোরআন দাওর (পুনরাবৃত্তি) করেন। কোরআনের প্রতি তাদের এই গভীর ভালোবাসা সকলের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।