
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাতিসঙ্ঘে বিশ্বনেতাদের বার্ষিক সমাবেশে তেহরানের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম ইরানের এত উচ্চপর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সাথে ফোনে কথা বলেন আরাগচি। জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের আলোচ্যসূচি নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিনিময় হয়।
ইরানি সাংবাদিকদের আরাগচি বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো, একটি বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে ইরানি জনগণের বৈধতা, অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করা।’
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। তবে তার দলের যোগাযোগ বিষয়ক সদস্যসহ প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলেও জানানো হয়।
তবে, আরাগচি নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর এক্সে দেয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই তাকে সাধারণ পরিষদে ইরানের ‘কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলের প্রধান’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বাঘাই বলেন, আরাগচি অধিবেশনে অংশ নেয়া ‘বহু কর্মকর্তা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আলোচনা ও পরামর্শ করবেন।’
জাতিসঙ্ঘের এই সমাবেশে যোগ দিতে ইরানি প্রতিনিধিদলকে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের অনুমতি দিয়েছে। তবে গত বছরের মতো এবারো তাদের ওপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, নিউইয়র্কে অবস্থানকালে ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বিলাসপণ্যসহ কিছু পণ্য কিনতে পারবেন না।
রোববার সন্ধ্যায় ইরান ছাড়েন আরাগচি। পথে তিনি কাতারে যাত্রাবিরতি করেন।
ইরান বলেছে, মধ্যস্থতাকারী কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে তারা কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর তেল ও গ্যাস পরিবহনপথ পুনরায় খুলে দেয়ার শর্ত জানিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ আরোপ করছে।
সূত্র : বাসস








