৪০ শতাংশ, মানুষ, ভূপৃষ্ঠে, ওজোন, ক্ষতিকর, মাত্রা, এশিয়া, ওসেনিয়া, বিশ্লেষণ, ইউরোপ,  উত্তর আমেরিকা,
প্রতীকী ছবি। সংগৃহীত

২০২৬ সালে বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ ভূপৃষ্ঠের ওজোনের ক্ষতিকর মাত্রার মধ্যে ছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু সংস্থা কোপার্নিকাস অ্যাটমস্ফিয়ার মনিটরিং সার্ভিস বা সিএএমএসের নতুন এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।

Advertisement

তুরস্কের বার্তা সংস্থা বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জানায়, সিএএমএসের এই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বছরের প্রথম আট মাসে তীব্র গরম ও মানুষের কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণ একযোগে বিশ্বের বড় একটি অংশে ওজোন দূষণ বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্বের মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ ‘ভালো’ মাত্রার ওজোনের মধ্যে ছিল। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল এশিয়া। এরপর রয়েছে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা।

এশিয়ার প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ ‘অত্যন্ত খারাপ’ মাত্রার ওজোনের মধ্যে ছিল। ‘খারাপ’, ‘অত্যন্ত খারাপ’ ও ‘অত্যন্ত দুর্বল’ মাত্রা ধরলে এই হার বেড়ে ৯০ শতাংশে দাঁড়ায়।

ইউরোপের ৫০ শতাংশ মানুষ ‘খারাপ’, ‘অত্যন্ত খারাপ’ বা ‘অত্যন্ত দুর্বল’ মাত্রার ওজোনযুক্ত এলাকায় ছিল। জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত বারবার তাপপ্রবাহের কারণে সেখানে ওজোনের ঘনত্ব বেড়েছে।

ওজোন দূষণে আক্রান্ত নগরী

 

উত্তর আমেরিকায় দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ এসব ক্ষতিকর মাত্রার ওজোনের মধ্যে ছিল। বড় বড় দাবানল থেকে ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়া সেখানে ওজোনের ঘনত্ব বাড়িয়েছে।

সিএএমএস জানায়, ওজোন দূষণের দিক থেকে ওশেনিয়া সবচেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল। এই অঞ্চলের পুরো জনগোষ্ঠী ‘ভালো’ বা ‘মোটামুটি ভালো’ মাত্রার ওজোনের মধ্যে ছিল। দক্ষিণ আমেরিকায় ৮১ শতাংশ এবং আফ্রিকায় ৫৬ শতাংশ মানুষ ‘ভালো’ বা ‘মোটামুটি ভালো’ মাত্রার ওজোনের মধ্যে ছিল।

বিশ্লেষণে সীমান্ত পেরিয়ে বায়ুদূষণ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। দাবানলের ধোঁয়া, মরুভূমির ধুলা ও অন্যান্য দূষিত পদার্থ জাতীয় সীমানা ও মহাসাগর পেরিয়ে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে যেতে পারে।

সিএএমএস বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে বায়ুর মানের সম্পর্কটি এই বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়েছে। ওজোন নিজেই একটি গ্রিনহাউস গ্যাস। আবার তাপমাত্রা বাড়লে ওজোন তৈরির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে। বিজ্ঞানীরা একে ‘ওজোন-জলবায়ু শাস্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

সিএএমএসের পরিচালক লরেন্স রুইল বলেন, ‘বায়ুদূষণ জাতীয় সীমানার মধ্যে আটকে থাকে না। দাবানলের ধোঁয়া, ওজোন ও ধুলা হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে যেতে পারে। এতে উৎস থেকে অনেক দূরের জনগোষ্ঠীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

তিনি বলেন, জলবায়ু মোকাবিলার পদক্ষেপের পাশাপাশি বায়ুর মান উন্নয়নেও বৈশ্বিক উদ্যোগ প্রয়োজন।