আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, প্রসিকিউটর তামীম
প্রসিকিউটর তামীম। নয়া দিগন্ত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের মামলায় বিদেশী আইনজীবী নিয়োগের বিষয়ে শুনানি হয়েছে।

Advertisement

শুনানিতে প্রসিকিউটর তামীম বলেছেন, বিদেশী আইনজীবী সাথে রেখে মামলা পরিচালনায় কোনো বাধা নেই। তারা বাংলাদেশের আইনজীবীদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে পারবেন। তবে সরাসরি মামলা পরিচালনা ও ওকালতনামায় স্বাক্ষরের জন্য বার কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন।

মঙ্গলবার মামলার ১৩ নম্বর প্রসিকিউশন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের আগে আসামি সালমান এফ রহমান ট্রাইব্যুনালের কাছে বক্তব্য দেয়ার অনুমতি চান। অনুমতি পেয়ে তিনি আইনজীবীদের নির্ধারিত ডায়াসে দাঁড়িয়ে কথা বলেন।

সালমান এফ রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে বিদেশী আইনজীবী দিয়ে মামলা পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। তিনি সেই সুযোগ নিতে চান। এ বিষয়ে আগে আবেদন করলেও বার কাউন্সিল থেকে কোনো জবাব পাননি। এ কারণে তিনি ট্রাইব্যুনালের হস্তক্ষেপ চান।

নিজের বিরুদ্ধে আনা সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। বলেন, তিনি সরাসরি কাউকে হত্যা করেননি এবং নিজেও মাঠে যাননি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয় বলেও দাবি করেন তিনি। আসামি আরো বলেন, তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়া ব্যক্তিদের বিদেশী আইনজীবীর মাধ্যমে জেরা করতে চান।

এরপর ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে প্রসিকিউশনের বক্তব্য জানতে চান।

জবাবে প্রসিকিউটর তামীম বলেন, বিদেশী আইনজীবীদের ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশের আইনজীবীদের সহায়তা দিতে কোনো বাধা নেই। তারা পরামর্শ দিতে পারেন, জেরার জন্য নোট দিতে পারেন এবং মামলার প্রস্তুতিতে সহযোগিতা করতে পারেন।

তিনি বলেন, ‘অবজারভার হিসেবে পৃথিবীর যেকোনো ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালে আসতে পারেন। শুধু ওকালতনামায় স্বাক্ষর করার ক্ষেত্রে বার কাউন্সিলের অনুমতি প্রয়োজন।’

প্রসিকিউটর তামীম বলেন, মামলার শুরু থেকেই আসামিপক্ষ বিদেশী আইনজীবী নিয়োগ করে বাংলাদেশের আইনজীবীদের সহায়তা নিতে পারত। কিন্তু সাক্ষ্যগ্রহণের ১৩তম পর্যায়ে এসে বিষয়টি তোলা হচ্ছে।

বিদেশী আইনজীবীর সরাসরি সাক্ষীকে জেরা করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মামলার সাক্ষীরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। বিদেশী আইনজীবী ইংরেজিতে প্রশ্ন করলে তা অনুবাদ করে সাক্ষীর কাছে উপস্থাপন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আইনজীবীর মাধ্যমেই জেরা পরিচালনা করতে হবে। তাই বিদেশী আইনজীবীর পরামর্শ ও সহযোগিতা নিতে বার কাউন্সিলের অনুমতির প্রয়োজন নেই।

প্রসিকিউটর তামীম অভিযোগ করেন, মামলার শেষ পর্যায়ে এসে বিদেশী আইনজীবী নিয়োগের বিষয়টি তোলার উদ্দেশ্য বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত করা।

জবাবে আসামিপক্ষ জানায়, তারা শুধু বিদেশী আইনজীবীর পরামর্শ চায় না। বিদেশী আইনজীবীকে সরাসরি ডায়াসে দাঁড়িয়ে সাক্ষীকে প্রশ্ন করার সুযোগ দিতে চায়।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ট্রাইব্যুনাল জানান, আসামিপক্ষ যেকোনো সময় বিদেশী আইনজীবী এনে বাংলাদেশের আইনজীবীদের সহায়তা নিতে পারবে। তবে ওকালতনামায় স্বাক্ষর করে সরাসরি মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে বার কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন। এ বিষয়ে আইনগত বিধানের বাইরে গিয়ে কোনো আদেশ দেয়ার সুযোগ নেই বলে জানান ট্রাইব্যুনাল।

এদিকে মামলার ১৩ নম্বর প্রসিকিউশন সাক্ষী তার জবানবন্দিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন। আন্দোলনের সূচনা, প্রেক্ষাপট এবং ছাত্র-জনতার দাবির বিবরণ দেন তিনি।

একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কিভাবে ধীরে ধীরে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়, তা-ও তুলে ধরেন সাক্ষী। আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের অভিযোগ করেন তিনি। এসব ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচারের দাবি জানান।

সাক্ষী একইসাথে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেয়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন করেন। তার অভিযোগ, সাক্ষ্য দেয়ার কারণে সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সাক্ষীদের সুরক্ষা প্রয়োজন বলে তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান।