
দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী মোহাম্মদ নজরুল ইসলামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২২ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ দিন ধার্য করেন।
শেরেবাংলা নগর থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে, রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
এ ঘটনায় আজ আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত জুনে মরিয়মের সাথে জি এম নজরুল ইসলামের ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী বিয়ে হয়। নজরুল শেরেবাংলা নগর থানা এলাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন ন্যাম ভবনের (ভবন নম্বর ৫, ফ্ল্যাট ২০৩) বাসায় থাকতেন।
একই বাসায় তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামও থাকতেন। বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও মাকছুদা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। মরিয়ম বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে এই নির্যাতনের কথা জানিয়েছিলেন বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, ২০ সেপ্টেম্বর (রোববার) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল ইসলাম ফোন করে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। পরে তিনি নিহতের খালা সুফিয়াকে সাথে নিয়ে ওই বাসায় গিয়ে লোকজনের ভিড় দেখতে পান। কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল এবং জানালা দিয়ে ফ্যানের সাথে মরিয়মকে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়।
পরে পুলিশের উপস্থিতিতে গণপূর্ত বিভাগের (পিডব্লিউডি) কর্মী সাইদুল ইসলাম শাবল দিয়ে দরজা ভাঙেন।
নিহতের বিছানা থেকে একটি হাতে লেখা চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে এক তরুণীর সাথে তাকে দেখা যায়। পরে তিনি জানান, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গত ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেয়া হয়।







