
মজুরি বোর্ডে শুধু সরকারদলীয় শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা বৈষম্যমূলক বলে মন্তব্য করেছেন গার্মেন্টস শ্রমিক উন্নয়ন মঞ্চের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, দেশের শ্রমিক আন্দোলনে অনেক সক্রিয় সংগঠন রয়েছে। তাদের বাদ দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া গ্রহণযোগ্য হবে না। মজুরি বোর্ডে শ্রমিকদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় সব শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে সদস্য নির্ধারণ করতে হবে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ ও অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠনের দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিক উন্নয়ন মঞ্চ আয়োজিত শ্রমিক প্রতিনিধি সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী তিন বছর পরপর মজুরি পুনর্নির্ধারণের কথা থাকলেও তিন বছর অতিক্রান্ত হতে চলেছে। অথচ এখনো নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। ২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে শ্রমিকদের মতামত উপেক্ষা করে একতরফা সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ নেই। শ্রমিকদের মতামতের ভিত্তিতে মজুরি বোর্ডের সদস্য নির্ধারণ করতে হবে। অন্যথায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে পারে।
২০২৩ সালের মজুরি বোর্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওই বোর্ডে শ্রমিক প্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। মালিকপক্ষের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে শ্রমিকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে মজুরি নির্ধারণের পুনরাবৃত্তি এবার হতে দেয়া হবে না। শ্রমিকের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারী নেতাদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের সোচ্চার হতে হবে।
গার্মেন্টস খাতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উত্তরা, গাজীপুর ও আশুলিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শ্রমিক আন্দোলন ও অসন্তোষের ঘটনা ঘটছে। শ্রমিকদের যেকোনো ন্যায্য দাবির প্রতি তারা একমত। তবে এসব আন্দোলনের পেছনে কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ইন্ধন রয়েছে কি না, তা সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে। শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিকরাই। তাই শিল্প সচল রেখে শ্রমিকদের চাকরি ও অধিকার সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি বলেন, গার্মেন্টস শিল্প দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান খাত। এ খাতের অধিকাংশ শ্রমিকই সাধারণ ও নিম্নআয়ের পরিবারের সদস্য। বিশেষ করে নারী শ্রমিকেরা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। অথচ দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সাথে তাদের আয় সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এমন মজুরি নির্ধারণ করতে হবে, যাতে শ্রমিকেরা পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানদের শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহ করতে পারেন।
আতিকুর রহমান বলেন, শ্রমিকেরা সরকারের কাছে করুণা বা অনুদান চান না; তারা কাজ করে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকতে চান। ফ্যামিলি কার্ড বা সাময়িক সহায়তা দিয়ে শ্রমিকদের প্রকৃত সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন বাজারদর ও মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ন্যায্য মজুরি। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং শিল্পের উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে মজুরি বৃদ্ধি অপরিহার্য।
তিনি অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠন করে দ্রুত সভা আয়োজনের মাধ্যমে শ্রমিকদের জন্য যৌক্তিক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবি জানান। একই সাথে শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না করে কোনো একক সংগঠনের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হলে তা মেনে নেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন।
শ্রমিকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হলে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সদস্য মো: সোহেল রানা মিঠুর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন গার্মেন্টস শ্রমিক উন্নয়ন মঞ্চের কেন্দ্রীয় নেত্রী ও বাংলাদেশ প্রগতিশীল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামরুন নাহার, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মো: শফিকুল ইসলাম, সবুজ বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন ঠান্ডু, গার্মেন্টস দর্জি শ্রমিক কেন্দ্রের সভাপতি সাহিদা সরকার, জাতীয় গার্মেন্টস সোয়েটার শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ রফিক, গাজীপুর মহানগর গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা ফারদিন হাসান হাসিব, ঢাকা মহানগর উত্তর গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা আবুল কালাম পাঠান, গাজীপুর জেলা গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা সাকিব শেখ, বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর শেখ লালন, শ্রমিক নেতা মো. মিজানুর রহমান, আব্দুল মান্নান ও ওসমান গনি প্রমুখ।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








