
দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্স
ইউক্রেনে চলমান সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে দেশটির ডিজিটাল অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। চলতি সপ্তাহে দেশটির রাজধানী কিয়েভের বেশ কয়েকটি ডেটা সেন্টার ও নেটওয়ার্ক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছে, যা ইউক্রেনের উদীয়মান ডিজিটাল অর্থনীতির মূল ভিত্তিকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। ইউক্রেনের ডিজিটাল রূপান্তরবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার পরিচালিত এসব হামলায় কিয়েভ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার অন্তত এক লাখ পরিবার সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
গত শুক্রবার কিয়েভের কেন্দ্রস্থলে পরিচালিত এক ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান ‘ডেটাগ্রুপ’-এর প্রধান কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনায় চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। হামলার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা। তিনি উল্লেখ করেন, তথ্যপ্রবাহ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়েই দেশের মূল ডেটা সেন্টারগুলোতে বিধ্বংসী আক্রমণ চালাচ্ছে রাশিয়া। এর আগে গত বৃহস্পতিবার প্রতিবেশী পোল্যান্ডের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, দেশটির মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টারলিংক স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওই কেন্দ্র থেকে ইউক্রেনের সার্বিক ইন্টারনেট যোগাযোগ সচল রাখার পরিষেবা দেয়া হতো। পোলিশ কর্মকর্তারা একে রাশিয়ার সাথে সম্পর্কিত সম্ভাব্য সাবোটাজ বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে ধারণা করলেও তাৎক্ষণিকভাবে দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে শনাক্ত করা যায়নি।
কিয়েভের ডেটা সেন্টারগুলো আগেও রুশ বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু হলেও, বর্তমান সামরিক আক্রমণের ব্যাপকতা ও ধারাবাহিকতা সার্বিক যোগাযোগ খাতকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। যুদ্ধকালীন চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশব্যাপী ডিজিটাল নেটওয়ার্ক সচল রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে কিয়েভ প্রশাসন।








