বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর উদ্যোগ মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশনের
বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর উদ্যোগ মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশনের। নয়া দিগন্ত

অর্থের অভাবে কিংবা সময়মতো অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় কোনো অসচ্ছল রোগী যেন জরুরি চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্য নিয়ে রাজধানী ঢাকায় বিনা মূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ড. মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশন। এ সেবার মাধ্যমে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জরুরি রোগী পরিবহনে সহায়তা দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

Advertisement

ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন এ কে এম গোলাম কিবরিয়ার মতে, চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু প্রতিরোধ এবং সবার জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার বৃহত্তর লক্ষ্য থেকে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্সের অতিরিক্ত ভাড়া বহনে অক্ষম পরিবারগুলোর সঙ্কট কমানো এবং জরুরি মুহূর্তে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

রাজধানীর ব্যস্ত নগরজীবনে জরুরি রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। যানজটের পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্সের উচ্চ ভাড়া ও সময়মতো পরিবহন না পাওয়ার কারণে অসচ্ছল পরিবারগুলোকে বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে এসব প্রতিবন্ধকতা রোগীর চিকিৎসা গ্রহণেও বিলম্ব ঘটায়। এ বাস্তবতায় বিনা মূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর উদ্যোগকে অসহায় মানুষের জরুরি পরিবহন-সহায়তা সম্প্রসারণের একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী ও চাটখিল অঞ্চলে কয়েক বছর ধরে অসচ্ছল মানুষের জন্য বিনা মূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেয়া হচ্ছে। ওই অভিজ্ঞতা এবং রাজধানীতে এ ধরনের সেবা চালুর জন্য বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকায় কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, এ ধরনের মানবিক কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য বাণিজ্যিক মুনাফা অর্জন নয়; বরং বিপদের সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। জরুরি রোগী পরিবহনে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা কমানো গেলে অনেক পরিবার সঙ্কটের মুহূর্তে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে অসচ্ছল রোগী ও তাদের পরিবারের জরুরি সময়ে ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জীবনরক্ষাকারী সেবায় সামাজিক অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে অন্যদের এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করার প্রত্যাশাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক সামর্থ্য যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে জন্য বিনা মূল্যে রোগী পরিবহনসহ বিভিন্ন সহায়ক সেবা সম্প্রসারণ প্রয়োজন। সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ ধরনের সেবা আরো বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব।