বিশ্ব ফুসফুস দিবসে বিএমইউ রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের বৈজ্ঞানিক সেমিনার
বিশ্ব ফুসফুস দিবসে বিএমইউ রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের বৈজ্ঞানিক সেমিনার। সংগৃহীত

দেশে নিউমোনিয়ার রোগীদের ৮৭.৮ শতাংশ রোগীর মধ্যে একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধযোগ্য জীবাণু পাওয়া গেছে। অপরদিকে বিভিন্ন শ্রেণীর শ্রমিকদের মধ্যেই বেশি শ্বাসতন্ত্রের রোগ পাওয়া গেছে।

Advertisement

বিশ্ব ফুসফুস দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগ আজ বুধবার এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে উপরোক্ত গবেষণা উপস্থাপন করে। প্রতি বছর ৭ অক্টোবর দিবসটি পালিত হয়। 

বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিনারের মূল বার্তা ছিল ‘দ্য জার্নি অফ এভরি ব্রেদ’ এবং থিম ছিল ‘এ লাইফটাইম অফ লাং হেলথ’।

সেমিনারে ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত বিভাগের ২১টি গবেষণার মূল ফলাফল তুলে ধরা হয়। গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, লালমনিরহাটের পাথর কাটার কারখানা শ্রমিকদের ৮৯ শতাংশের দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গ ছিল। রংপুরের চালকল শ্রমিকদের ৫২.৩ শতাংশের অন্তত একটি শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গ ছিল, যেখানে ধুলার সংস্পর্শে না থাকা মানুষের মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গের হার ছিল ১৭.৬ শতাংশ।

অপরদিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক হাজার প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ২২.৪ শতাংশের শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গ ছিল। মানুষের মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের রোগগুলো বেশি বয়স, ধূমপান ও প্রচলিত দূষণকারী রান্নার কারণে হয়েছে বলে গবেষণায় পাওয়া যায়। অপরদিকে নিউমোনিয়ার রোগীদের নমুনার ৮৭.৮ শতাংশ ছিল একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী (মাল্টিড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট) জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমইউর ভিসি অধ্যাপক ডা: এফ এম সিদ্দিকী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি রেসপিরেটরি মেডিসিনে পড়াশোনার পরিবেশ আরো উন্নত করা, রোগীর চিকিৎসায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নিশ্চিত করা এবং গবেষণা বাড়ানোর তাগিদ দেন। বিভাগের প্রয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা: মো: মুজিবুর রহমান হাওলাদার, চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (সিএইচএবি) সভাপতি ডা: মো: জহিরুল ইসলাম শাকিল, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ও সিএইচএবির মহাসচিব অধ্যাপক ডা: গোলাম সারোয়ার লিয়াকত হোসেন ভূঁইয়া, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা: দেলোয়ার হোসেন। 
সভাপতিত্ব করেন রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: শামীম আহমেদ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা: সম্প্রীতি ইসলাম। বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে বিভাগের ফেজ-বি রেসিডেন্ট ডা: মো: মাহমুদুর রহমান চৌধুরী ‘ব্রেদিং নিউ নলেজ : রিসার্চ হাইলাইটস ফ্রম ডিপার্টমেন্ট অব রেসপিরেটরি মেডিসিন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি’ শীর্ষক উপস্থাপনায় ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত বিভাগের ২১টি গবেষণার মূল ফলাফল তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কারখানা থেকে রান্নাঘর, রান্নাঘর থেকে হাসপাতালের ওয়ার্ড—সব স্থানে মানুষের ফুসফুস সুরক্ষায় দেশীয় গবেষণার তথ্যই পথ দেখাচ্ছে।

ফেজ-বি রেসিডেন্ট ডা: তাসনিম আফরীন জ্যোতি বিভাগের বিরল ও ব্যতিক্রমী বিভিন্ন কেস উপস্থাপন করেন। শুধু সাধারণ রোগের কথা না ভেবে রোগ নির্ণয়ের সময় এ ধরনের বিরল রোগের কথাও মাথায় রাখার সুপারিশ করেন তিনি। ফেজ-বি রেসিডেন্ট ডা: সাবিহা আফরীন তন্বী বিভাগের চলমান গবেষণাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা: মানাল মিজানুর রহমান অক্সিজেন সরবরাহের নতুন যন্ত্রের সম্ভাবনা নিয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

বিশেষজ্ঞ আলোচকদের মধ্যে বিএমইউর ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা: কাজী মমতাজ উদ্দিন আহমেদ রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর আলোকপাত করেন। বিরল ও ব্যতিক্রমী রোগের প্রতি বিভাগের বিশেষ মনোযোগের প্রশংসা করেন। থোরাসিক সার্জারির অধ্যাপক ও সিএইচএবির সহসভাপতি ডা: আনোয়ারুল আনাম কিবরিয়া ফুসফুসের চিকিৎসা ও গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বায়োমেডিক্যাল প্রকৌশলে গবেষণা বাড়ানোর তাগিদ দেন।

বৈজ্ঞানিক গবেষণার ওপর অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: রাজাশীষ চক্রবর্তী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফেজ-বি রেসিডেন্ট ডা: মেহনাজ আজিজ হোমা।