রিয়াল মাদ্রিদ বনাম বার্সেলোনা, কিলিয়ান এমবাপ্পে, এল ক্লাসিকো ২০২৬, রিয়াল মাদ্রিদের জয়, বার্সেলোনার হার, এমবাপ্পের জোড়া গোল, লা লিগা, হোসে মরিনিয়ো
রিয়াল মাদ্রিদ এবং কিলিয়ান এমবাপে। সংগৃহীত

ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনার জয়যাত্রা থামালেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফরাসি তারকার জোড়া গোলে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো জিতে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। লা লিগায় টানা ৯ জয়ের পর এটাই বার্সার প্রথম হার। একইসাথে ঘরের মাঠে লিগে টানা ২৩ জয়ের রেকর্ডও থামল।

Advertisement

রোববার (২৫ অক্টোবর) মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোতে বার্সেলোনাকে তাদের ঘরের মাঠে ২-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা দ্বিতীয় হারের তেতো স্বাদ পেলো বার্সা। গত মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির মাঠে ৪-২ গোলে হেরেছিল স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা।

এদিন অবশ্য ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে আধিপত্য ছিল বার্সেলোনার। ম্যাচে মোট ৬২ শতাংশ সময় বল দখলে রাখে তারা, গোলের জন্য নিতে পারে ১৮টি শট, যার ছয়টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে রিয়ালের ১০ শটের পাঁচটি লক্ষ্যে ছিল।

বল দখলের লড়াইয়ে প্রভাব বিস্তার করলেও গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বার্সা। উল্টো ৪১ মিনিটে তাদের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে এগিয়ে যায় রিয়াল। ইয়ান দিওমান্দের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে বল এমবাপ্পের পায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়।

বার্সার বিপক্ষে ১১ ম্যাচে এটি এমবাপ্পের ১৩তম গোল। গোল খাওয়ার পর সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা করে বার্সা। ৪৩ মিনিটে পেদ্রির পাস থেকে লামিনে ইয়ামাল একা গোলরক্ষককে পেয়েও বল বাইরে মারেন। সুযোগ হয় হাতছাড়া।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল রিয়ালও, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় রিয়াল মাদ্রিদ।

অন্যদিকে দ্বিতীয়ার্ধে আরো আক্রমণাত্মক হয়ে খেলতে থাকে বার্সেলোনা। ৬১ মিনিটে সেই চাপের ফলও আসে। পেদ্রির কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সে নিখুঁত শটে গোল করেন রাফিনিয়া। তাতে ম্যাচে সমতা ফেরে। চলতি লা লিগায় ৯ ম্যাচে এটি রাফিনিয়ার ১৩তম গোল।

সমতায় ফেরার পর বার্সেলোনা এগিয়েও যেতে পারত। কিন্তু ৬৫ মিনিটে জেরার্দ মার্তিনের হেড দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন রিয়ালের গোলরক্ষক আন্দ্রে লুনিন। নিয়মিত গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার অসুস্থতায় পাওয়া সুযোগ কাজে লাগান লুনিন।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন এমবাপ্পে। ৮৭ মিনিটে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার দেয়া বল পেয়ে বক্সে ঢুকে কাট-ব্যাক করে ফাঁকা জালে বল পাঠান ফরাসি তারকা। এ গোলেই রিয়ালকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

একইসাথে রিয়ালের হয়ে ১১৬ ম্যাচে পূর্ণ করেন নিজের শততম গোল। আর এল ক্লাসিকোয় এমবাপ্পের এটি সপ্তম ম্যাচে অষ্টম গোল। ২১ শতকে এল ক্লাসিকোয় প্রথম সাত ম্যাচে এত বেশি গোল আর কোনো খেলোয়াড় করতে পারেননি।

এই জয়ে ১০ ম্যাচে রিয়ালের পয়েন্ট হলো ২৪। তিন নম্বরেই আছে তারা। ২৫ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদ, আর ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। ফলে শীর্ষ দুই দলের সাথে রিয়ালের ব্যবধানও কমে এলো।

এই জয়টা রিয়াল কোচের জন্যও অনন্য। রিয়ালের ডাগআউটে দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরে ১৩ বছর পর এল ক্লাসিকোয় প্রথম ম্যাচেই জয় পেলেন হোসে মরিনিয়ো।