
আসিয়ান কাপের মঞ্চে বাংলাদেশের শুরুটা হলো হতাশার। হামজা চৌধুরী, সামিত সোমদের নিয়ে সাজানো দলটা পারেনি দারুণ কিছু করতে। সুযোগ মিসের মহড়ায় সাদামাটা ফুটবলই উপহার দিয়েছে টমাস ডুলির দল।
জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে দাপট ধরে রেখেই খেলেছে মালয়েশিয়া। প্রথমার্ধেই দুই গোল আদায় করে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় তারা। বিরতির পরও বদল আসেনি চিত্রে। শেষ পর্যন্ত মেনে নিতে হয়েছে ৩-০ গোলের হার।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) শুরু থেকেই বাংলাদেশের ওপর চড়াও হয় মালয়েশিয়া। পঞ্চম মিনিটেই প্রথম সুযোগ তৈরি করে তারা। বক্সের বাইরে থেকে ফয়সাল হালিমের শট অবশ্য দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ।
তবে ১৮ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। লাইনা নুয়ারের লম্বা পাস ধরে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষকের পায়ের ফাঁক দিয়ে নিখুঁত শটে মালয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন আরিফ আইমান।
গোল খেয়েও বাংলাদেশের খেলায় তেমন কোনো ধার দেখা যায়নি। ৩৩ মিনিটে সাদ উদ্দিনের ক্রস থেকে রাকিব হোসেনের ব্যাকহিল পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে চলে যায়। সেটিই ছিল প্রথমার্ধে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সুযোগগুলোর একটি।
এর চার মিনিট পর বাংলাদেশের রক্ষণে বড় ভুল। শাকিল আহাদ তপুর কাছ থেকে বল কেড়ে নেন গুস্তাভো সিলভেইরা দি সিলভা। তার পাস পেয়ে আইমান নিজের দ্বিতীয় গোল করেন। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
বিরতির আগে ব্যবধান আরো বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল মালয়েশিয়া। তবে ফয়সাল হালিমের স্লাইডিং শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঠেকিয়ে বাংলাদেশকে বাঁচান শ্রাবণ।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তৃতীয় গোলটি পেয়ে যায় মালয়েশিয়া। সতীর্থের লম্বা পাস প্রথম স্পর্শে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের নিচু শটে শ্রাবণকে পরাস্ত করেন দি সিলভা। ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মালয়েশিয়া।
এরপর বদলি খেলোয়াড় নামিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন ডুলি। জিদান ইউসুফ, শেখ মোরসালিন ও শুকি ইতোফুসা মাঠে নামার পর বাংলাদেশের আক্রমণে কিছুটা গতি দেখা যায়। কিন্তু মালয়েশিয়ার জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা।
৭৬ মিনিটে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিলেন হামজা। শাহরিয়ার ইমনের সাথে বল দেয়া-নেয়া করে একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে জোরালো শট নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। কিন্তু তার প্রচেষ্টাও রুখে দেন মালয়েশিয়ার গোলরক্ষক।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল হয়নি। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৪৫ ধাপ এগিয়ে থাকা মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলের হার দিয়ে আসিয়ান কাপ শুরু হলো বাংলাদেশের।
ইংল্যান্ড প্রবাসী ফারহান আলি ওয়াহিদকে একাদশে রেখে ম্যাচ শুরু করেছিলেন ডুলি। তবে অভিষেকটা রাঙাতে পারেননি এই তরুণ উইঙ্গার। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয় আর দুই প্রবাসী ফুটবলার জিদান ইউসুফ ও শুকি ইতোফুসার।
নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে রোববার সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে হামজারা।








