
শুরুটা হয়েছিল স্বপ্নের মতো। ১৮ মিনিটেই দুই গোলে এগিয়ে নরওয়ে। কিন্তু সেই ব্যবধান ধরে রাখা যায়নি। সাত মিনিটের ব্যবধানে এক গোল শোধ করে ডেনমার্ক, দ্বিতীয়ার্ধে সমতাও ফেরায় তারা। জমে উঠে লড়াই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর্লিং হলান্ড ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে নিজেদের মাঠে নাটকীয় লড়াইয়ে ডেনমার্ককে ৩-২ গোলে হারিয়েছে নরওয়ে। ‘এ’ লিগের চার নম্বর গ্রুপের এই ম্যাচে শুরুতে অস্কার ববের গোলে এগিয়ে যায় দলটি।
নিজেদের মাঠ অসলোতে ‘এ’ লিগের চার নম্বর গ্রুপের ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল স্বাগতিকরা। ১৪ মিনিটে অস্কার ববের কোনাকুনি শটে এগিয়ে যায় নরওয়ে। মার্টিন ওডেগার্ডের পাস পেয়ে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দূরের পোস্টের কোণ খুঁজে নেন বব।
চার মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হলান্ড। আন্তোনিও নুসার থ্রু পাস পেয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। কঠিন কোণ থেকেও প্রথম ছোঁয়ায় জোরাল শটে বল পাঠান জালে। ১৮ মিনিটেই ২–০—নরওয়ের জয় তখন যেন সময়ের অপেক্ষা।
কিন্তু ডেনমার্ক ম্যাচ থেকে হারিয়ে যায়নি। ২৫ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে ব্যবধান কমান মিকেল দামসগার্ড। রক্ষণপ্রাচীরের ওপর দিয়ে বাঁক খাইয়ে নেয়া তার শটে বল জালে জড়ালে ম্যাচে ফিরে আসে ডেনমার্ক।
বিরতির পর সমতার জন্য চাপ বাড়াতে থাকে তারা। ৬০ মিনিটে সেই চাপের ফলও আসে। কর্নার থেকে আসা বল প্রথমে ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ন নাইল্যান্ড। কিন্তু ফিরতি বল কাজে লাগিয়ে হেডে গোল করেন রাসমুস হইলুন্দ। ২-২ সমতায় তখন পয়েন্ট হারানোর শঙ্কায় নরওয়ে।
তবে ম্যাচের মোড় আবার ঘুরল ৭৪ মিনিটে। এবারো নরওয়ের আক্রমণের কেন্দ্রে হলান্ড। সতীর্থের পাস ডি-বক্সে দারুণ জায়গায় পেয়ে প্রথম ছোঁয়াতেই জোরাল শটে বল জালে পাঠান তিনি। গোলরক্ষকের কোনো সুযোগই ছিল না। ৩–২ ব্যবধানে আবার এগিয়ে যায় নরওয়ে।
শেষ মুহূর্তে অবশ্য নাটক আরো জমে ওঠে। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে ডেভিড মোলার উলফ মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় নরওয়ে। সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ডেনমার্ক। তবে শেষ পর্যন্ত আর গোল পায়নি তারা।
হলান্ডের জোড়া গোলেই তাই পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে নরওয়ে। জাতীয় দলের হয়ে ৫৬ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা এখন ৬৪। বিশ্বকাপের মঞ্চে টানা চার ম্যাচে গোল করার পর নতুন মৌসুমেও ক্লাবের হয়ে গোলের ধারায় ছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা।
জাতীয় দলেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন তিনি। দুই গোলে এগিয়ে গিয়ে যখন ম্যাচটা হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা, তখন দলের সবচেয়ে বড় তারকাই আবার নরওয়েকে জয়ের পথে ফেরালেন।








