
মেসি গোল করেছেন, গোল করিয়েছেন—নতুনত্ব কিছু নেই। ভিন্নতা যা দেখা গেল, তা হলো মেসি গোল করছেন পায়ের জাদুতে নয়, হেডে। যা ইন্টার মায়ামির জার্সিতে তার শততম গোলের রেকর্ড।
যাই হোক, তার জাদুকরী পারফরম্যান্সের শেষে শিরোপাও উঠেছে মেসির হাতে। ঘরের মাঠ ন্যু স্টেডিয়ামে ক্রুজ আজুলকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ক্যাম্পিওনেস কাপ জিতেছে ইন্টার মায়ামি।
বুধবার ম্যাচের ২৪ মিনিটেই মায়ামিকে এগিয়ে দেন মেসি। ডান দিক থেকে লুইস সুয়ারেজের নিখুঁত ক্রস পেয়ে নিজের মার্কারকে টপকে উঁচুতে ওঠেন তিনি। এরপর হেডে বল পাঠান জালে। সেই গোলেই ইন্টার মায়ামির হয়ে ১০০ গোল পূর্ণ হয় তার।
মায়ামির জার্সিতে মাত্র ১১৫ ম্যাচে ১০০ গোল করেছেন মেসি। ক্লাব কিংবা জাতীয় দল—কোনো দলের হয়েই এতো দ্রুত ১০০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছাতে পারেননি তিনি। বার্সেলোনার হয়ে ১০০ গোল করতে মেসির লেগেছিল ১৮৮ ম্যাচ। আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন ১৭৪ ম্যাচ।
২০২৩ সালে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন মেসি। মজার ব্যাপার, ক্লাবটির হয়ে তার প্রথম গোলটিও এসেছিল ক্রুজ আজুলের বিপক্ষে। এখন মায়ামির হয়ে তার গোলসংখ্যা ১০০। যেখানে মেজর লিগ সকারে ৭৬, লিগস কাপে ১৪, কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপে ৮ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে ১টি গোল রয়েছে।
প্রথম গোলের পরও মেসির পা থামেনি। দ্বিতীয়ার্ধে তার একটি চিপ গোল অবশ্য অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। তবে ৮১ মিনিটে আবারো ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দুতে মেসি। তার নেয়া কর্নার থেকে হেডে গোল করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা কাসেমিরো। তাতেই মায়ামির জয় নিশ্চিত হয়।
মায়ামির হয়ে কাসেমিরোর করা চার গোলের তিনটিতেই অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। এবারো গোল করিয়ে দলের জয়ে বড় অবদান রাখলেন তিনি। এই জয়ে প্রথমবারের মতো ক্যাম্পিওনেস কাপ জিতল ইন্টার মায়ামি।
মেজর লিগ সকারের চ্যাম্পিয়ন ও মেক্সিকোর লিগা এমএক্সের চ্যাম্পিয়নের মধ্যকার বার্ষিক এই লড়াইয়ে এবারই প্রথম শিরোপা জিতল মায়ামি। চলতি বছরে এটিই মেসির প্রথম ট্রফি।
মায়ামির নতুন কোচ ক্রিস্তিয়ান ‘কিলি’ গনসালেসের জন্যও ম্যাচটি ছিল বিশেষ। নতুন কোচ হিসেবে প্রথম ম্যাচেই শিরোপা জয়ের স্বাদ পেলেন তিনি।
ইন্টার মায়ামির হয়ে ১০০ গোল পূর্ণ করার পাশাপাশি ক্লাব ও দেশের হয়ে মেসির মোট গোলসংখ্যা এখন ৯২৯। চলতি এমএলএস মৌসুমেও আছেন দুর্দান্ত ছন্দে। ২২ ম্যাচে তার গোল ১৯টি, যা লিগে সর্বোচ্চ।
মায়ামি অবশ্য এমএলএস শিরোপা ধরে রাখার দৌঁড়ে পিছিয়ে আছে। ২৫ ম্যাচে ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সে এগিয়ে ন্যাশভিল, মায়ামির পয়েন্ট ৪৫।







