মানববন্ধন
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে বঞ্চিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পূর্বঘোষিত মানববন্ধন কর্মসূচী পণ্ড হয়ে গেছে। 

Advertisement

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে প্রতিষ্ঠানের ১ নম্বর প্রধান ফটকের সামনে কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর মহাপরিচালকের (ডিজি) অনুসারী বহিরাগতরা হামলা ও বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

আন্দোলনকারীদের দাবি, শতাধিক বহিরাগত যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচীতে আসা লোকজনকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটকে ‘ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতিমুক্ত’ করার দাবিতে বঞ্চিত বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকরা বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু সকাল থেকেই ডিজি সমর্থিত বহিরাগতরা ফটকের সামনে অবস্থান নেয়। তাদের বাধার কারণে নির্ধারিত কর্মসূচি করতে পারেননি আন্দোলনকারীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসের বাইরে কর্মসূচি স্থগিত করে গাজীপুর প্রেসক্লাবে গিয়ে সাংবাদিকদের সার্বিক পরিস্থিতি ব্রিফ করেন তারা।

এসময় ব্রির বিদায়ী প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (সিএসও) ড. মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী ও কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: তোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া লিখিত বক্তব্য দেন। তারা অভিযোগ করেন, সরকার পরিবর্তনের পরও ব্রিতে ফ্যাসিস্ট অনুসারী সাবেক মহাপরিচালকের আমলে গড়ে ওঠা একটি ‘সিন্ডিকেট’ বহাল রয়েছে। বর্তমান মহাপরিচালক ড. মো: রফিকুল ইসলাম দায়িত্ব নেয়ার পর চিহ্নিত ফ্যাসিস্ট অনুসারী বিতর্কিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনর্বাসন এবং অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে গত ১৫ বছরে পদোন্নতি ও জ্যেষ্ঠতা থেকে বঞ্চিতদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিদের পদোন্নতি, যোগ্যতা ছাড়া উচ্চ পদে নিয়োগ, ভুয়া সনদে চাকরি, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও কোটা জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ তোলা হয়। একই সাথে কাজ না করেই ঠিকাদারদের ৬৫ লাখ টাকা পরিশোধ এবং নির্মাণাধীন ভবনে স্পেসিফিকেশনবহির্ভূত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে প্রায় ১৪ কোটি টাকার অনিয়ম ও তছরুপের অভিযোগও করেন তারা।

ড. মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা যদি সন্ত্রাসী বা বহিরাগত হয়ে থাকি, তাহলে ডিজি পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে পারতেন। তা না করে ভাড়াটে লোকজন এনে আমাদের ন্যায্য ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচীতে হামলা চালানো হয়েছে।’

আন্দোলনকারীরা অবিলম্বে বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল, গত ১৫ বছরে বঞ্চিত বিজ্ঞানী ও কর্মচারীদের ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি, অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

সদর মেট্রো থানার ওসি মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ব্রির পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মানববন্ধন স্থগিত হওয়ায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

ব্রি ডিজি ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে আমি খুব ব্যস্ত, বাহিরে কী হয়েছে সেটা আমার জানা নাই, সেটা দেখার সুযোগও নেই।’ 

এ ব্যাপারে কিছু জানতে চাইলে জনসংযোগ বিভাগে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে ফোন রেখে দেন তিনি।