অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাথে বাংলাদেশের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রগতি এবং বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আইএমএফ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। ব্যাংক খাতের সংস্কার, পুনঃমূলধনীকরণ, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কিছু বিষয়ে আইএমএফের পর্যবেক্ষণ থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।

Advertisement

আজ বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) নাইজেল ক্লার্কের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আইএমএফের সাথে গত কয়েক দিনে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট দলগুলোর দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনায় পাওয়া তথ্য ও অগ্রগতির ভিত্তিতে আজকের বৈঠক হয়েছে। বাজেট-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে আইএমএফ ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে এবং বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব বিবেচনায় নিলে দেশের অগ্রগতি সন্তোষজনক বলে মনে করছে আইএমএফ। তবে কিছু বিষয়ে সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ রয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর বিষয় রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ আছে। অনেক বিষয়ে আমরা একমত। এরই মধ্যে অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে। বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। পর্যবেক্ষণ থাকাটাই স্বাভাবিক। আমাদেরও বিভিন্ন বিষয়ে পর্যবেক্ষণ রয়েছে। এসব নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।’

নতুন কর্মসূচি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ভালো হয়েছে। আমরা এটিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আগামী দিনগুলোতে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারব বলে আশা করছি।’

তিনি আরো বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশ যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা নিয়ে আইএমএফ সন্তুষ্ট। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে চায় সরকার।

ব্যাংক খাতের পুনঃমূলধনীকরণ নিয়ে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে ব্যাংকের পুনঃমূলধনীকরণ, করব্যবস্থা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে বৈঠকের আলোচনা ভালো হয়েছে এবং অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করার বিষয়ে উভয় পক্ষের আগ্রহ রয়েছে।

বাংলাদেশের সংস্কার কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আইএমএফ প্রশ্ন তুলেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী তা নাকচ করেন। তিনি বলেন, নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় যেসব শর্ত থাকবে, সেগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা চলবে। কিছু বিষয়ে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে হতে পারে। তবে এ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেবল একটি ঋণ কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য বহুপক্ষীয় সংস্থার সাথেও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে চায় সরকার। দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে এসব সংস্থার সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারের অর্থনৈতিক কৌশল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কৌশল না থাকলে আলোচনা এত দূর এগোত না। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যেই সরকার উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, চলমান আলোচনা অব্যাহত থাকলে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকসহ বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর সাথে বাংলাদেশের সহযোগিতা আরো জোরদার হবে। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, আর্থিক খাতের সংস্কার এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হবে।